চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (চবি) বর্তমানে চতুর্মুখী আন্দোলনে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল, গণতান্ত্রিক ছাত্র জোটের নেতাকর্মীরা প্রক্টরিয়াল বডির পদত্যাগ, আহত শিক্ষার্থীদের চিকিৎসা সহায়তাসহ বিভিন্ন দাবিতে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে। ইতিহাস বিভাগের শিক্ষার্থীরা শিক্ষক হেনস্তার প্রতিবাদ ও দর্শন বিভাগের শিক্ষার্থীরা সংঘর্ষের ঘটনায় সুষ্ঠু বিচার দাবিতে আন্দোলন করেছে। গতকাল রবিবার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের সামনে বিভিন্ন সংগঠনের নেতাকর্মী বিক্ষোভ সমাবেশ করেন।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, চবি শাখা ছাত্রদল প্রক্টরিয়াল বডির পদত্যাগের পাশাপাশি প্রশাসনের বিরুদ্ধে ‘লাল কার্ড’ প্রদর্শন করে প্রতিবাদ জানায়। একইসঙ্গে গণতান্ত্রিক ছাত্র জোটও প্রক্টরিয়াল বডির পদত্যাগের দাবিতে স্লোগান তোলে। এ ছাড়া ইতিহাস বিভাগের শিক্ষার্থীরা তাদের শিক্ষক নুরুল হামিদ কাননকে হেনস্তার ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে আন্দোলন করেন। ইতিহাস বিভাগের শিক্ষার্থী সাজেদুর রহমান মারুফ বলেন, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের একটি গ্রুপ ৫ আগস্টের পর থেকেই বিভিন্ন ইস্যুতে বিশ্ববিদ্যালয়কে অস্থিতিশীল করার প্রচেষ্টা চালিয়ে আসছে। কিছুদিন আগে তারা সম্মানিত একজন শিক্ষকের ওপর শারীরিক হামলার মতো লজ্জাজনক ঘটনা ঘটায়। কিন্তু অথর্ব বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন নাটকীয়ভাবে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নিয়ে পরে আবার তাদের স্ব স্ব স্থানে ফিরিয়ে দেয়। ফলে তাদের বিরুদ্ধে কোনো শক্ত পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। শিক্ষককে হেনস্তা ও লাঞ্ছনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে অতিসত্ত্বর কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। যদি প্রশাসন তা করতে ব্যর্থ হয়, তাহলে তাদের আর গদি আঁকড়ে থাকার অধিকার নেই।
অন্যদিকে দর্শন বিভাগের শিক্ষার্থীরা সংঘর্ষের ঘটনায় জড়িতদের সুষ্ঠু বিচার, ফেসবুকে সøাট-শেমিং এবং নারী শিক্ষার্থীদের মানহানির নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে সেøাগান দিতে থাকে। দর্শন বিভাগের শিক্ষার্থী হাসিব বলেন, আমাদের এক জুনিয়রের ওপর হামলাকারী ব্যক্তিরা এখনো ঘুরে বেড়াচ্ছে কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এখনো কোনো সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে পারেনি। এই ঘটনায় যারা দোষী তাদের দ্রুত সময়ের মধ্যে শাস্তির আওতায় আনতে হবে, না হলে এই বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে দ্রুত সময়ের মধ্যে পদত্যাগ করতে হবে। চবি শাখা বিপ্লবী ছাত্র মৈত্রীর সভাপতি জশদ জাকির বলেন, গতকাল দুপুর সাড়ে ১২টায় অধিকার সচেতন শিক্ষার্থীরা ভিসি স্যারের কাছে স্মারকলিপি জমা দেন। এতে হাজারের বেশি শিক্ষার্থীর স্বাক্ষর রয়েছে। স্মারকলিপিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান সমস্যা হিসেবে দায়িত্বহীন প্রক্টরিয়াল বডি চিহ্নিত করা হয়েছে। আমাদের সাত দফার প্রথম দাবি, এই প্রক্টরিয়াল বডি তাদের ব্যর্থতার দায় স্বীকার করে পদত্যাগ করবে। আমরা ভিসি স্যারের কাছে জানাই, প্রক্টরিয়াল বডি পদত্যাগ না করলে প্রক্টর অফিসে তালা ঝুলিয়ে ধারাবাহিক কঠোর অবস্থান কর্মসূচি পালন করা হবে।
এ সময় শাখা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল নোমান বলেন, আমরা প্রশাসনের ব্যর্থ ব্যক্তিদের লাল কার্ড দেখিয়েছি। এ ছাড়া আমাদের দাবির মধ্যে রয়েছে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, আহতদের উন্নত চিকিৎসা প্রদান, শিক্ষার্থীদের ওপর স্থানীয় সন্ত্রাসীদের হামলা ও জড়িতদের গ্রেপ্তারপূর্বক বিচার, সংঘর্ষ থামাতে ব্যর্থ প্রশাসনের প্রক্টরিয়াল বডি এবং ছাত্রদের নিয়ে বিরূপ মন্তব্য করা রেজিস্ট্রারসহ ব্যর্থ ব্যক্তিদের পদত্যাগ এবং জামায়াত নেতার নব্য জমিদারি প্রথার প্রতিবাদ জানিয়েছে ছাত্রদল। এ ছাড়া দর্শন বিভাগের শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে একাত্মতা জানিয়েছি।
