জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা

বছরে প্রয়োজন ৩০ বিলিয়ন ডলার : সালেহউদ্দিন

আপডেট : ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ০৭:৪৬ এএম

পরিবেশগত দুর্যোগ মোকাবিলায় বাংলাদেশের বছরে ৩০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার প্রয়োজন। তবে আইএমএফ থেকে এক-দুই বিলিয়ন ডলার আনতে গেলে জান বের হয়ে যায় বলে মন্তব্য করেছেন অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ।

গতকাল সোমবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে পল্লী কর্মসহায়ক ফাউন্ডেশন (পিকেএসএফ) মিলনায়তনে শুরু হয়েছে তিন দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মশালা ‘নেভিগেটিং ক্লাইমেট ফাইন্যান্স : মিডিয়া রিপোর্টিং’। পিকেএসএফ ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি) যৌথভাবে এই কর্মশালার আয়োজন করেছে। উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে অর্থ উপদেষ্টা এই মন্তব্য করেন।

অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘আমরা বিশ্বের অন্যতম দুর্যোগপ্রবণ দেশ। দুর্যোগ মোকাবিলায় বছরে প্রায় ৩০ বিলিয়ন ডলার প্রয়োজন। অথচ আইএমএফ থেকে এক-দুই বিলিয়ন ডলার আনতে আমাদের অত্যন্ত কষ্ট করতে হয়। সামনে ৫ বিলিয়ন ডলারের জন্য আলোচনায় বসতে হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘দুর্যোগ দুই ধরনের : প্রাকৃতিক এবং মানবসৃষ্ট। তবে মানবসৃষ্ট দুর্যোগের পরিমাণও কম নয়। প্রকৃতির ক্ষতির একটি বড় অংশ মানুষের কারণে ঘটছে। তাই সমস্যার মূলে গিয়ে সমাধান আনতে হবে।’

অর্থ উপদেষ্টার মতে, জলবায়ু সংকট মোকাবিলায় পাঁচটি পক্ষকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। এরা হলেন বিজ্ঞানী, নীতিনির্ধারক, প্রতিষ্ঠান, অর্থের সংস্থানকারী এবং জনগণ। তিনি বলেন, ‘আগুন লাগলে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা পৌঁছানোর আগেই সাধারণ মানুষ এগিয়ে আসেন। বাংলাদেশ এই দিক থেকে এগিয়ে আছে। দুর্যোগে স্থানীয় মানুষ নিজেরাই লড়াই করেন। এটিকে কাজে লাগাতে হলে সচেতনতা বাড়াতে হবে।’

সাংবাদিকদের ভূমিকাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন সালেহউদ্দিন আহমেদ। তিনি আরও বলেন, ‘জাপানে ছাত্র-ছাত্রীরা দুর্যোগ নিয়ে সচেতন থাকেন। আমাদেরও শৈশব থেকে শিশুদের দুর্যোগ বিষয়ে সচেতন করতে হবে। মিডিয়াকে জনগণের মধ্যে এ বিষয়ে সতর্কতা তৈরি করতে হবে। তবে জলবায়ু নিয়ে আলোচনা বেশি হলেও কাজ কম হয়।’

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম বলেন, ‘জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব বাংলাদেশের সব ক্ষেত্রে দৃশ্যমান।’ তিনি বলেন, ‘জলবায়ুর কারণে ডেঙ্গু বাড়ছে, সিলেটে পানি বৃদ্ধি থেকে শুরু করে মাতৃমৃত্যু এমন কোনো ক্ষেত্র নেই, যেখানে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব পড়েনি। কিন্তু এসব গল্প আমরা বৈশি^ক পর্যায়ে তুলে ধরতে পারছি না। ফলে জলবায়ু তহবিল থেকে অর্থ পাওয়ার ক্ষেত্রে আমাদের দাবি শক্তিশালী হচ্ছে না।’

ইআরডির সচিব মো. শাহরিয়ার কাদের সিদ্দিকী বলেন, ‘জলবায়ু তহবিল থেকে অর্থ আনার জন্য বাংলাদেশ নিয়মিত চেষ্টা করছে। কিন্তু এর জন্য আন্তর্জাতিক মহলে ক্ষতির বাস্তব চিত্র তুলে ধরতে হবে। এখানে সাংবাদিকদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।’

উদ্বোধন অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন পিকেএসএফের চেয়ারম্যান জাকির আহমেদ খান। তিনি বলেন, ‘জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব বাংলাদেশের জন্য এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। মানুষের জীবিকা, খাদ্য নিরাপত্তা, স্বাস্থ্য, শিক্ষা সবকিছুই ঝুঁকিতে। এই বাস্তবতায় সাংবাদিকরা যদি শক্তিশালী কণ্ঠ তৈরি করেন, তাহলে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশের অবস্থান আরও দৃঢ় হবে।’

তিন দিনব্যাপী এই কর্মশালায় দেশের বিভিন্ন গণমাধ্যমের ৬০ জন সাংবাদিক অংশ নিচ্ছেন। তারা জলবায়ু অর্থায়ন, বৈশ্বিক তহবিলের কাঠামো, অর্থ আহরণের চ্যালেঞ্জ ও মিডিয়ার দায়িত্ব নিয়ে প্রশিক্ষণ পাবেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত