ইয়ামাল-এমবাপ্পে চাননা ব্যালন ডি'অর, রিয়াল এবারও করবে বয়কট 

আপডেট : ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ০৫:১৮ পিএম

২০২৫ সালের শেষভাগে ইউরোপীয় ফুটবলের সবচেয়ে মর্যাদাসম্পন্ন পুরস্কার বলন ডি’অর ঘিরে আবারও শুরু হয়েছে তীব্র বিতর্ক। 
রিয়াল মাদ্রিদ দ্বিতীয় বছরের মতো এই গালায় অংশগ্রহণ থেকে বিরত থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ক্লাবের ভেতরকার অসন্তোষ এবং অ্যাওয়ার্ড আয়োজকদের প্রতি অবিশ্বাস স্পষ্ট হয়ে উঠছে এই সিদ্ধান্তের মধ্য দিয়ে।

গত বছরই প্রথমবার রিয়াল বলন ডি’অরের গালা বয়কট করেছিল। ভিনিসিয়ুস জুনিয়র ও রদ্রির মধ্যে তুলনা এবং সেই প্রসঙ্গে বিতর্ক ছড়িয়ে পড়েছিল মিডিয়া ও ফুটবল মহলে। মাদ্রিদের অভ্যন্তরে তখন থেকেই অসন্তোষ তৈরি হয়। তাদের মতে, দলের খেলোয়াড়রা আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

এই বছরের পুরস্কারের প্রধান দাবিদার হিসেবে উঠে এসেছে বার্সেলোনার তরুণ বিস্ময় লামিন ইয়ামাল এবং পিএসজির অভিজ্ঞ উইঙ্গার উসমান দেম্বেলে। দুজনেই ২০২৫ সালে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স করেছেন। দেম্বেলে পিএসজির হয়ে সমস্ত গুরুত্বপূর্ণ ট্রফি জিতেছেন, আর মাত্র ১৮ বছর বয়সী লামিনে রীতিমতো ইউরোপ কাঁপিয়ে দিয়েছেন তাঁর দক্ষতা ও দৃঢ়তায়।

তবে ইয়ামাল নিজে বলেছেন, 'আমি শুধু একটা ব্যালন ডি’অর জয়ের স্বপ্ন দেখি না, আমি অনেকগুলো জয়ের স্বপ্ন দেখি। যদি না পাই, তার মানে আমার নিজের খামতি আছে কোথাও।' তিনি বলেন, “যেদিন জিতবো (ব্যালন ডি'অর), সেটা হবে আমার জীবনের সবচেয়ে আনন্দের দিন।”'

তাঁর আত্মবিশ্বাস, পরিণত ভাবনা এবং খেলার প্রতি নিবেদন ফুটবল দুনিয়াকে মুগ্ধ করছে। এমনকি সমালোচকরাও বলছেন—এই পথে ইয়ামাল চলতে থাকলে একাধিক বলন ডি’অর তার ভাগ্যেই লেখা।

অন্যদিকে, ফরাসি সুপারস্টার কিলিয়ান এমবাপ্পে, যিনি ইউরোপিয়ান গোল্ডেন বুট জিতেছেন এই বছর, ব্যালন ডি’অরের জন্য নিজেকে দাবিদার ভাবছেন না। তার পরিবর্তে, দুই ঘনিষ্ঠ বন্ধু, আশরাফ হাকিমি ও উসমান দেম্বেলের নাম তুলে আনলেন তিনি। “আমি এই বছর জিতব না, এটা জানি। কিন্তু আমি খুশি হব যেই জিতুক না কেন, বিশেষ করে যদি সেটা হয় হাকিমি বা দেম্বেলে,” বললেন এমবাপ্পে। “ব্যক্তিগত পুরস্কারের চেয়ে বড় হচ্ছে বন্ধুত্ব এবং পারফরম্যান্সের স্বীকৃতি।”

তার এই মন্তব্য শুধু ফুটবলপ্রেমীদের নয়, মানবিক মূল্যবোধে বিশ্বাসী সকলের হৃদয় ছুঁয়ে গেছে। এমবাপ্পে যেন মনে করিয়ে দিলেন, ফুটবল শুধু একটি খেলা নয়—এটা বন্ধুত্ব, সম্মান আর ভালোবাসার এক মহাস্রোত।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত