চারদিনের ব্যবধানে হিলিতে পেঁয়াজের দাম কমেছে কেজিতে ৫ টাকা

আপডেট : ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ০৪:১২ পিএম

চাহিদার তুলনায় সরবরাহ বাড়ায় চারদিনের ব্যবধানে দিনাজপুরের হাকিমপুরের হিলিতে দেশীয় পেঁয়াজের দাম কমেছে কেজিতে ৫ টাকা। চারদিন পুর্বে প্রতি কেজি দেশীয় পেঁয়াজ ৭০ টাকা দরে বিক্রি হলেও বর্তমানে তা কমে ৬৫ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। এদিকে পেঁয়াজের দাম কমায় খুশি নিন্ম আয়ের মানুষজন। সরবরাহের এমন ধারা অব্যাহত থাকলে দাম আরো কমবে বলে দাবি বিক্রেতাদের।

হিলি বাজারে পেঁয়াজ কিনতে আসা হায়দার আলী বলেন, পেঁয়াজ এমন একটি নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য যা কিনা প্রতিদিনই প্রতিটি পরিবারের জন্য লাগবেই। এটি ছাড়া রান্না বান্না করার বিকল্প কোন কিছু নেই। ভারত থেকে পেঁয়াজ আমদানি শুরুর ফলে আমদানিকৃত ও দেশীয় পেঁয়াজের দাম কিছুটা কমতির দিকে ছিল। এতে করে আমাদের মত নিন্ম আয়ের মানুষদের সুবিধা হচ্ছিল। কিন্তু যেই আবার ভারত থেকে পেঁয়াজ আমদানি বন্ধ হয়ে যায়। সেই অজুহাতে দেশীয় পেঁয়াজের দাম আবারো উদ্ধমুখি হতে শুরু করে। বাজারে দেশীয় পেঁয়াজের সররবাহ থাকলেও দাম উদ্ধমুখি হয়ে যাওয়ায় আমাদের সমস্যার মধ্যে পড়তে হচ্ছিল। যেখানে এক কেজি লাগতো সেখানে হাফ কেজি কিনতে হতো। তবে গত সপ্তাহের তুলনায় এ সপ্তাহে পেঁয়াজের দামে কিছুটা সুখবর মিলছে।

হায়দার আলী আরও বলেন, পেঁয়াজের দাম কেজিতে ৫ টাকার মত কমেছে। কয়েকদিন আগে যে পেঁয়াজ ৭০ টাকা কিনেছিলাম সেই পেঁয়াজ এখন ৬৫ টাকায় কিনতে পারছি। কেজি প্রতি ৫ টাকা করে কমায় আগের তুলনায় আমাদের কিছুটা সুবিধা হয়েছে। তবে এখনো যে দাম রয়েছে তা আমাদের নাগালের বাহিরে। তাই দাম যদি আগের মত ৫০ টাকায় আসে তাহলে আমাদের জন্য ভালো হয়।

হিলি বাজারের পেঁয়াজ বিক্রেতা আশরাফুল ইসলাম বলেন, দেশের বাজারে পেঁয়াজের সররবাহ স্বাভাবিক ও দাম নিয়ন্ত্রনে রাখতে আমদানির অনুমতি প্রদানের কয়েকদিনের মাথায় আবারো আমদানির অনুমতি বন্ধ করে দিয়েছে সরকার। এতে করে কয়েকদিনের মাথায় ভারত থেকে পেঁয়াজ আমদানি বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে বাজারে পণ্যটির সররবাহ কমায় দেশীয় পেঁয়াজের উপর চাপ বাড়ায় দাম বাড়তে শুরু করে। এছাড়া মৌসুম শেষের দিকে হওয়ায় সরবরাহ কমায় দেশীয় পেঁয়াজের দাম আগে থেকেই কিছুটা উদ্ধমুখি ছিল। তবে আমদানি বন্ধ থাকলেও দাম নিয়ন্ত্রনে দেশের বিভিন্ন স্থানে প্রশাসনের নজরদাড়ির কারনে যারা বাড়তি লাভের আশায় দেশীয় পেঁয়াজ মজুদ করে রেখেছিলেন তারা সেসব পেঁয়াজগুলো বাজারে ছাড়তে শুরু করেছে। এতে করে মোকামে দেশীয় পেঁয়াজের সরবরাহ আগের তুলনায় খানিকটা বেড়েছে। মোকামে আগে যেখানে ২/৫ ট্রাক পেঁয়াজ আমদানি হতো এখন সেখানে ১০ থেকে ১৫ ট্রাক করে পেঁয়াজ আমদানি হচ্ছে। এর ফলে মোকামে যে পেঁয়াজের দাম ২ হাজার ৬শ থেকে ৭শ টাকা মন ছিল সেটি এখন কমে ২ হাজার ৩শ থেকে ৪শ টাকায় মন নেমেছে। কয়েকদিনের ব্যবধানে মনপ্রতি ৩শ থেকে ৪শ টাকা করে পেঁয়াজের দাম কমেছে। এর ফলে আমরা কম দামে পেঁয়াজ কিনতে পারায় বাজারেও কম দামে পেঁয়াজ বিক্রি করতে পারছি।

উল্লেখ্য, দেশের বাজারে দাম নিয়ন্ত্রনে ও সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে পেঁয়াজ আমদানির অনুমতি দিলে সাড়ে ৫ মাস বন্ধের পর গত ১৭ আগস্ট থেকে হিলি স্থলবন্দর দিয়ে পেঁয়াজ আমদানি শুরু হয়। এর তিনদিনের মাথায় ১৯ আগস্ট থেকে আবারো আমদানির অনুমতি বন্ধ করে দেয় সরকার। এরপর থেকে পেঁয়াজ আমদানি বন্ধ রয়েছে। যদিও পুরানো আইপির বিপরীতে কিছুদিন সীমিত পরিসরে পেঁয়াজ আমদানি হয়েছিল।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত