ক্রিকেট ছাপিয়ে আলোচনায় ‘হাত না মেলানো’

আপডেট : ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ১২:৩৫ এএম

এশিয়া কাপে দুবাইয়ে ভারত-পাকিস্তান ম্যাচে টসের সময় হাত মেলাননি দুই দলের অধিনায়ক। ম্যাচ যখন শেষ হয়, ক্রিজে ছিলেন সূর্যকুমার যাদব ও শিবম দুবে। খেলা শেষে তারা পাকিস্তানের খেলোয়াড়দের সঙ্গে হাত না মিলিয়েই সাজঘরে যান। প্রতিবাদে পাকিস্তানের অধিনায়ক ছিলেন না পুরস্কার বিতরণের সময়। ম্যাচের ফল ছাপিয়ে খেলোয়াড়দের হ্যান্ডশেক বা হাত না মেলানোর ঘটনাই এখন বড় ইস্যু হয়ে উঠেছে।

খেলার শুরু ও শেষে হাত না মেলানোর পেছনে কারণটা রাজনৈতিক, তা বলাই যায়। আরও স্পষ্ট করে বললে, পেহেলগামে জঙ্গি হামলা এবং পরে অপারেশন সিঁদুরের পর এই প্রথম মুখোমুখি হয়েছিল দুই দল। পুরস্কার বিতরণের সময় পেহেলগামে নিহতদের পরিবারের পাশে থাকার কথাও বলেছেন সূর্যকুমাররা। ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে এসে এ বিষয়ে ব্যাখ্যা দিয়েছেন ভারতের অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদব। জানান, পাকিস্তানিদের সঙ্গে হাত না মেলানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন সবাই মিলে। ‘দেখুন, আমি মনে করি জীবনের কিছু বিষয় খেলোয়াড়সুলভ মানসিকতার চেয়েও বড়। আমাদের সরকার ও বিসিসিআই সবাই একসঙ্গে এই সিদ্ধান্ত (হাত না মেলানো) নিয়েছিলাম। আমরা এখানে ওদের বিপক্ষে শুধু খেলতে এসেছি এবং উচিত জবাব দিয়েছি।’

হ্যান্ডশেক না করার কারণেই যে পাকিস্তানি ক্রিকেটাররা প্রেজেন্টেশনে অংশ নেননি তা নিশ্চিত করেছেন পরে পাকিস্তানের কোচ মাইক হেসন, ‘আমরা ম্যাচ শেষে হাত মেলাতে প্রস্তুত ছিলাম। আমাদের প্রতিপক্ষ সেটা করেনি, এতে আমরা হতাশ। আমরা হাত মেলাতে এগিয়ে গিয়েছিলাম, কিন্তু তারা ততক্ষণে ড্রেসিংরুমে চলে গিয়েছিল। আমরা অবশ্যই হাত মেলাতে আগ্রহী ছিলাম।’

পরে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড এক বিবৃতিতে জানায়, পাকিস্তানের টিম ম্যানেজার আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ করেছেন, কারণ ম্যাচ রেফারি ‘টসের সময় দুই অধিনায়ককে হাত না মেলানোর নির্দেশ দিয়েছিলেন।’ পিসিবি চেয়ারম্যান ও এশিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিলের প্রধান মোহসিন নকভি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে লেখেন, ‘পিসিবি ম্যাচ রেফারির বিরুদ্ধে আইসিসির আচরণবিধি ও এমসিসির “স্পিরিট অব ক্রিকেট” আইন ভঙ্গের অভিযোগ এনেছে। আমরা দাবি জানিয়েছি, তাকে যেন তাৎক্ষণিকভাবে এশিয়া কাপ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়।’ রবিবারের ম্যাচ রেফারি ছিলেন জিম্বাবুয়ের অ্যান্ডি পাইক্রফট। বেশ কিছু সংবাদমাধ্যম বলছে, অ্যান্ডি পাইক্রফটকে সরানো না হলে পাকিস্তান এশিয়া কাপে খেলবে না। এসিসি বিষয়টি নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে এমনই খবর।

পাকিস্তানের সাবেক খেলোয়াড় রশিদ লতিফ ভারতীয় ক্রিকেট দলের ওপর ক্ষেপে গিয়ে বলেছেন, ‘হ্যাঁ, তোমরা ভারত ক্রিকেট দল। হ্যাঁ, তোমরা বিশ্বের সেরা দল, কিন্তু খেলা শেষে হাত মেলাওনি। এতেই তোমাদের আসল রূপ প্রকাশ পায়! পাকিস্তানের খেলোয়াড়রা অপেক্ষা করছিল, কিন্তু ভারতের খেলোয়াড়রা সোজা ড্রেসিংরুমে চলে গেল! আইসিসি কোথায়।’ রশিদ লতিফের মতো পাকিস্তানের অন্য সাবেক খেলোয়াড়রাও দোষ দেখছেন ভারতের। সাবেক পেস তরকা শোয়েব আখতার বলেছেন, ‘সূর্যকুমার যাদবের হ্যান্ডশেক না করার ঘটনা হতাশাজনক। এটা ক্রিকেট ম্যাচ, রাজনৈতিক ইস্যু নয়। খেলোয়াড় হিসেবে কিছু লড়াই হতে পারে, কিন্তু হাত না মিলিয়ে পরিস্থিতি আরও বাড়ানো উচিত নয়। আমি নিজে হাত মেলাতাম।’

খেলাধুলায় দুই দলের বা দুপক্ষের হাত মেলানো শুধু আনুষ্ঠানিকতা নয়। তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতার মধ্যেও এটি পরস্পরের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের প্রতীক। ক্রিকেটে টসের সময় দুই অধিনায়ক সাধারণত হাত মেলান। ফল যাই হোক, দুই দলের খেলোয়াড়রা হাত মিলিয়েই খেলার ইতি টানেন। অনেকের মনে প্রশ্ন জাগতে পারে, হ্যান্ডশেক না করার ঘটনায় কি খেলোয়াড়রা শাস্তিপাবেন? এশিয়া কাপ পরিচালনা করে এশিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিল (এএসসি), তবু ম্যাচগুলো আন্তর্জাতিক হওয়ায় আইসিসির আচরণবিধি এতে প্রযোজ্য হবে। আইসিসি সবসময় ক্রীড়াসুলভ মানসিকতার ওপর জোর দেয়। তবে, ম্যাচ শেষে হ্যান্ডশেক করা আইসিসির কোনো বাধ্যতামূলক নিয়ম নয়। এমনকি আইসিসির আচরণবিধিতে হ্যান্ডশেক না করার জন্য কোনো নির্দিষ্ট শাস্তির ধারা নেই।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত