নারায়ণগঞ্জে স্ত্রী-সন্তানকে হত্যার পর স্বামীর আত্মহত্যা

আপডেট : ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ০৭:৩১ এএম

নারায়ণগঞ্জ শহরের বাবুরাইল বউবাজার এলাকার একটি ফ্ল্যাট থেকে স্বামী, স্ত্রী ও চার বছরের সন্তানের লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। গতকাল সোমবার দুপুরে দরজা ভেঙে তাদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নিহতরা হলেন হাবিবুল্লাহ শিপলু, তার স্ত্রী মোহিনী আক্তার মীম ও ছেলে আফরান। শিপলুর বাড়ি কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলার দাবিরন এলাকায়।

পুলিশ জানায়, বউবাজারে পলাশ ভূঁইয়ার সাততলা ভবনের চতুর্থতলায় তারা ভাড়া থাকতেন। শিপলু নারায়ণগঞ্জের একটি খেয়াঘাটে ইজারাদারের প্রতিনিধি হিসেবে অর্থ কালেকশন করতেন। এর আগে তিনি বাবুরাইল এলাকার একটি সমবায় সমিতির ম্যানেজার ছিলেন। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, রবিবার রাত থেকে সোমবার দুপুরের মধ্যে তাদের মৃত্যু হয়েছে।

নিহত শিপলুর ভাই লাভলু জানান, রবিবারও তার ভাইয়ের সঙ্গে কথা হয়েছে। কী কারণে এমনটি হয়েছে তিনি জানেন না। সোমবার বিকেলে দরজা ভেতর থেকে আটকানো থাকায় দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে তিনজনের মরদেহ দেখা যায়।

এলাকাবাসী জানান, শিপলু এর আগে রমজান নামে এক ব্যক্তির মালিকানাধীন সমবায় সমিতিতে ম্যানেজার হিসেবে কাজ করতেন। ওই সমিতির সদস্য ছিল এক থেকে দেড় হাজারের মতো। করোনার সময় রমজান গ্রাহকদের ১৫ কোটি টাকা ফেরত দেয়নি। সেটা নিয়ে আদালতে মামলাও হয়েছে। তবে আজকে কী কারণে তিনজনের মৃত্যু হয়েছে সেটা তারা জানেন না।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) তারেক আল মেহেদী বলেন, মা ও সন্তানের মুখে বালিশ চাপা দেওয়া ছিল। শিপলুকে অন্য কক্ষে সিলিং ফ্যানে ঝুলন্ত অবস্থায় পাওয়া যায়। পুলিশ দরজা ভেঙে ভেতরে ঢুকে তিনজনের লাশ উদ্ধার করে। তদন্তের পর বিস্তারিত বলা যাবে। তিনি একটি সমিতির ম্যানেজার হিসেবে কর্মরত ছিলেন। সমিতির মালিক গ্রাহকের টাকা আত্মসাৎ করে পালিয়ে যান। পরে গ্রাহকরা মালিক ও তার বিরুদ্ধে মামলায় করে। সেই থেকে তিনি হতাশাগ্রস্ত হয়ে পড়েন। ধারণা করা হচ্ছে, হতাশাগ্রস্ত থেকেই আত্মহত্যার পথ বেছে নেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত