শিক্ষা উপকরণ সরবরাহের নামে ৩ লাখ টাকা গায়েব

আপডেট : ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ১২:৪৯ এএম

পটুয়াখালীতে শিক্ষা উপকরণ সরবরাহের নামে ১৭২টি স্কুল থেকে ৩ লাখ টাকা তুলে গায়েব করার অভিযোগ উঠেছে। এ নিয়ে শিক্ষকদের মধ্যে চাপা ক্ষোভ থাকলেও হেনস্তার ভয়ে মুখ খুলতে রাজি নন তারা। শিক্ষকরা নিজেদের প্রয়োজনে টাকা তুলে শিক্ষা উপকরণ সংগ্রহ করেছেন এমন দাবি উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার।

কলাপাড়া উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শাহিদা বেগম যোগ দেওয়ার পর উপজেলার ১৭১টি সরকারি, একটি শিশুপল্লীসহ ১৭২টি বিদ্যালয় থেকে থেকে ৪ হাজার টাকা করে ৬ লাখ ৮৮ টাকা উত্তোলন করেন। শিক্ষা উপকরণ সরবরাহের নামে এই টাকা উত্তোলন করেন তিনি। এর বিপরীতে প্রতিটি বিদ্যালয়ে ক্যালেন্ডারসদৃশ কিছু পোস্টার দেওয়া হয়।

বিদ্যালয়-সংশ্লিষ্ট অনেক শিক্ষক জানানা, প্রদান করা শিক্ষা উপকরণের সর্বোচ্চ বাজারমূল্য ২ হাজার টাকা করে হতে পারে। এতে ব্যয় দেখানো হয়েছে ৩ লাখ ৪৪ হাজার টাকা। বাকি ৩ লাখ ৪৪ হাজার টাকা গায়েব করা হয়েছে। তারা আরও জানান, সিøপ মানি থেকে এই ৪ হাজার টাকা দিতে বাধ্য করা হয় প্রতিটি প্রতিষ্ঠানপ্রধানকে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বেশ কয়েকজন প্রধান শিক্ষক জানান, উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ১৫ জন প্রধান শিক্ষক প্রতিনিধির মাধ্যমে প্রতিটি প্রতিষ্ঠান থেকে ৪ হাজার টাকা করে উত্তোলন করেন। নিজের মনোনীত প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে শিক্ষা উপকরণ সংগ্রহ করে বিতরণ করেন।

টাকা উত্তোলনকারী শিক্ষক প্রতিনিধি চম্পাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক গোলাম মোস্তফা বাবুল বলেন, ‘সিøপ মানি থেকে বিষয়ভিত্তিক শিক্ষা উপকরণ কেনার নির্দেশনা দেন উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা। প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ করে শিক্ষা উপকরণ আমরা সংগ্রহ ও প্রতিষ্ঠানে বিতরণ করি।’

আইয়ুমপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মজিবুর রহমান বলেন, ‘এ নিয়ে কারও অভিযোগ থাকতেই পারে। নিজেদের প্রয়োজনেই শিক্ষা উপকরণ সংগ্রহ করা হয়েছে। ঢাকার একটি প্রতিষ্ঠান এই শিক্ষা উপকরণ সরবরাহ করেছে। চর নিশানবাড়িয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শাহাবুদ্দিন একই বক্তব্য তুলে ধরেন।’

এ বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শাহিদা বলেন, ‘শিক্ষকরা নিজ উদ্যোগে শিক্ষা উপকরণ সংগ্রহ করেছেন। এখানে আমার কোনো সম্পৃক্ততা নেই।’ 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত