ভালো নেই বর্ষীয়ান ক্রীড়া সংগঠক হারুনুর রশিদ

আপডেট : ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ০৭:৩৮ এএম

একটা সময় ফুটবলাঙ্গনে তার কথাই ছিল চূড়ান্ত। কথায় মাতিয়ে রাখতেন গোটা ক্রীড়াঙ্গন। অথচ সময় বদলেছে। বার্ধক্য আর জটিল নানা রোগে ঠিকভাবে কথাই বলতে পারেন না বরেণ্য ক্রীড়া সংগঠক, আবাহনী লিমিটেডের প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক, বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের পাঁচবারের সাধারণ সম্পাদক ও রাষ্ট্রীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত ক্রীড়া ব্যক্তিত্ব হারুনুর রশিদ। দীর্ঘ চার বছর ধরে তিনি শয্যাশায়ী। জটিল কিডনি রোগে বাকশক্তি হারানোর পথে। এখন স্মৃতিশক্তিও কমতে শুরু করেছে। একা চলাচল করতে পারেন না। হাসপাতালের বিছানাই এখন তার স্থায়ী ঠিকানা।

অনেক দিন ধরেই ক্রীড়াঙ্গন থেকে দূরে আছেন জাতীয় ক্রীড়া পুরস্কার, জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ পুরস্কার, বাংলাদেশ ক্রীড়ালেখক সমিতির বিশেষ সম্মাননা পাওয়া এই বরেণ্য সংগঠক। ফুটবলাঙ্গনে অবদানের স্বরূপ এএফসির গোল্ডেন অ্যাওয়ার্ডও পেয়েছেন। তার রোগমুক্তিতে ক্রীড়াঙ্গনের সবার কাছে দোয়া চেয়েছেন হারুনের পরিবারের সদস্যরা। স্ত্রী জেবুন নেসা হারুন জানান, ‘এখন শারীরিক অবস্থা অনেক খারাপ তার। একজন সার্বক্ষণিক লোক থাকলেও আমাকেই সব কিছুতে তার লাগে। সবাই তার জন্য দোয়া করবেন যাতে মহান সৃষ্টিকর্তা সব কিছু সহজ করে দেন।’ এত অসুস্থতার মধ্যেও বারবার আবাহনী ক্লাবের আঙিনায় ছুটে যাওয়ার প্রবল ইচ্ছা হারুনুর রশিদের। তার হাতেই ১৯৭২ সালে গড়ে উঠেছিল ক্লাবটি। শরীর একটু স্থিতিশীল থাকলেই তাকে নিয়ে যাওয়া হয় ক্লাবে। জেবুন নেসা হারুন বলেন, ‘ক্লাবে গেলেই তার চোখেমুখে একটা চাঞ্চল্য আসে। এই ক্লাবটাই তার জীবনের সব। ফুটবলের মানুষদের কাছে পেলেই স্ফীত হেসে ওঠেন। বোঝা যায় চিনতে পারছেন। মনোযোগ দিয়ে খেলাধুলার কথাই শুনতে চান। অন্য কিছুতেই তার আগ্রহ নেই। শুধু কথাটাই বলতে পারেন না। যে মানুষটা একটা সময় এত কথা বলতেন, এখন কথাই বলতে পারেন না। এটাই বড় কষ্টের। এখন তো বেশিরভাগ সময় বাসা আর হাসপাতাল করে কাটাতে হচ্ছে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত