বরেন্দ্র উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিএমডিএ) সহকারী প্রকৌশলী এসএম মিজানুর রহমানকে গত ২২ আগস্ট নওগাঁর মান্দা উপজেলা থেকে বগুড়ার গাবতলী উপজেলায় বদলি করা হয়। অফিস আদেশে গত ২৫ আগস্টের মধ্যে দায়িত্ব হস্তান্তর করে নতুন কর্মস্থলে যোগদান করতে বলা হয়। অফিস আদেশ মোতাবেক বিএমডিএর নওগাঁ নির্বাহী প্রকৌশলী গত ২৫ আগস্ট তাকে ছাড়পত্র দেয়। ওইদিন বিকেলে সহকারী প্রকৌশলী মিজানুর রহমান নিয়ামতপুর উপজেলার সহকারী প্রকৌশলী হারুন অর রশিদকে দায়িত্ব বুঝিয়ে দেন। ছাড়পত্র প্রদান ও দায়িত্ব হস্তান্তরের দুদিন পর নিয়ম ভেঙে গত ২৭ আগস্ট সকালে ক্ষুদ্র সেচযন্ত্র স্থাপনসংক্রান্ত উপজেলা সেচ কমিটির সভা ডাকেন মিজানুর রহমান। সেই সভায় অনুমোদন দেওয়া হয় ব্যক্তিগত সেচযন্ত্র স্থাপনের লাইসেন্স।
মান্দা উপজেলা সেচ কমিটির সভাপতি ইউএনও আখতার জাহান সাথী ও উপজেলা সেচ কমিটির সদস্য সচিব মিজানুর রহমান স্বাক্ষরিত ২০২৪-২৫ অর্থবছরের ক্ষুদ্র সেচযন্ত্র স্থাপনসংক্রান্ত উপজেলা সেচ কমিটির সভার কার্যবিবরণী প্রতিবেদকের হাতে এসেছে। এতে দেখা যায়, গত ২৭ আগস্ট সকাল ১০টায় উপজেলা পরিষদ সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত হয় উপজেলা সেচ কমিটির সভা। সভায় ২৪টি স্কিমে ব্যক্তিগত সেচযন্ত্র স্থাপনের জন্য আবেদন মধ্যে থেকে নতুন করে ১২টি স্কিমে ব্যক্তিগত সেচযন্ত্র স্থাপনের ছাড়পত্র দেওয়া হয়। একইসঙ্গে ৬টি স্কিমের সেচযন্ত্রের লোড বৃদ্ধিসহ ২৭টি ব্যক্তিগত সেচযন্ত্রের লাইসেন্সের অনুমোদন দেওয়া হয়।
বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিএমডিএ) সূত্রে জানা যায়, গত বছরের ২৭ আগস্ট সব সেচ কমিটির সভাপতি ও সদস্য সচিবদের চিঠি দেন তৎকালীন বিএমডিএর নির্বাহী পরিচালক। ভবিষ্যতে পরিবেশের ওপর যাতে বিরূপ প্রভাব না পড়ে সেজন্য নতুন করে সেচযন্ত্র স্থাপনের লাইসেন্স না দেওয়ার অনুরোধ করা হয় চিঠিতে।
মান্দা জোনের দায়িত্ব হস্তান্তর করার পরও সেচ কমিটির সভা ডাকার বিষয়ে জানতে সহকারী প্রকৌশলী মিজানুর রহমানের মোবাইল নাম্বারে একাধিকবার কল করেও সাড়া পাওয়া যায়নি।
উপজেলা সেচ কমিটির সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আখতার জাহান সাথী বলেন, সেচ কমিটির মিটিং হয়েছে এবং সেখানে বেশ কিছু লাইসেন্স প্রদানের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। কিন্তু এগুলো নিয়ম ভেঙে দেওয়া হয়েছে কি না সে বিষয়ে কিছুই বলতে পারেননি।
বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিএমডিএ) নওগাঁর নির্বাহী প্রকৌশলী রেজাউল ইসলাম বলেন, ‘এ ঘটনা তদন্তে নিয়ামতপুর জোনের সহকারী প্রকৌশলী হারুন অর রশিদকে প্রধান করে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত কমিটিকে সাত কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন পেলে নির্বাহী পরিচালকের কাছে পাঠানো হবে।’
বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিএমডিএ) নির্বাহী পরিচালক ও অতিরিক্ত সচিব তরিকুল আলম বলেন, ‘তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন পেলেই তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
