ভারতে জীবন্ত কবর দেওয়া সেই কন্যাশিশু মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছে

আপডেট : ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ০৭:০২ পিএম

এ যেন আইয়ামে জাহেলিয়ার যুগকেও হার মানাবে। একবিংশ শতকেও কন্যাশিশুকে জীবন্ত কবর দেওয়ার ঘটনা ঘটছে। নির্মম এই ঘটনাটি ঘটেছে ভারতের উত্তর প্রদেশে। মাত্র ২০ দিনের এক নবজাতক কন্যাশিশুকে দেওয়া হয়েছে মাটিচাপা। পরে তাকে জীবিত উদ্ধার করা হলেও শিশুটি লড়ছে মৃত্যুর সঙ্গে।

বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এক রাখাল মাঠে ছাগল চরাতে গিয়ে মাটির ঢিবির নিচ থেকে প্রথমে কান্নার শব্দ শুনতে পান। মাটির নিচ থেকে শিশুটির আওয়াজ ছিল বেশ ক্ষীণ। আওয়াজ শুনে ঘটনাস্থরের কাছাকাছি যেতেই কাদামাটির ভেতর থেকে একটি ছোট্ট হাত বের হতে দেখেন তিনি। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় খবর দিলে পুলিশ এসে শিশুটিকে মাটি খুঁড়ে উদ্ধার করে।

তবে পুলিশ এখনো সন্দেহভাজন কারও নাম জানায়নি। ভারতে ছেলে সন্তানের প্রতি প্রবল ঝোঁক ও কন্যাশিশুকে বোঝা মনে করার প্রবণতাকেই এ ধরনের পরিত্যাগ বা হত্যাচেষ্টার জন্য দায়ী করা হয়। এর কারণেই দেশটিতে লিঙ্গ অনুপাত মারাত্মকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে বলে ব্যাপকভাবে স্বীকৃত।

ঘটনাটি ভারতের সবচেয়ে জনবহুল রাজ্য উত্তর প্রদেশের শাহজাহানপুর জেলায় ঘটেছে। শিশুটি বর্তমানে সরকারি মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের নবজাতক নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে চিকিৎসাধীন।

হাসপাতালের অধ্যক্ষ ডা. রাজেশ কুমার জানান, সোমবার শিশুটিকে আনা হয়। তখন তার পুরো শরীর কাদা মাখা ছিল এবং মুখ-নাকে কাদা ঢুকে যাওয়ায় শ্বাস নিতে হিমশিম খাচ্ছিল। সে তখন গুরুতর অবস্থায় ছিল, অক্সিজেন ঘাটতির (হাইপক্সিয়া) লক্ষণ দেখা যাচ্ছিল। তার শরীরে পোকামাকড়ের কামড়ের চিহ্ন ছিল এবং কোনো প্রাণীও কামড়েছিল।

তিনি আরও বলেন, ২৪ ঘণ্টা পর সামান্য উন্নতি দেখা দিলেও পরে আবার অবস্থার অবনতি হয়েছে। এখন তার সংক্রমণ দেখা দিয়েছে।

ডা. কুমারের মতে, শিশুটি মাটিচাপা দেওয়ার পরপরই উদ্ধার হয়েছিল, কারণ তার “ক্ষতগুলো ছিল একেবারে নতুন। প্লাস্টিক সার্জনসহ একদল চিকিৎসক শিশুটিকে চিকিৎসা দিচ্ছেন এবং সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছেন। পরিস্থিতি খুবই সংকটজনক, তবে আমরা তাকে বাঁচাতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি।

পুলিশ জানিয়েছে, শিশুটির বাবা-মাকে এখনো শনাক্ত করা যায়নি। বিষয়টি রাজ্যের শিশু সুরক্ষা হেল্পলাইনে জানানো হয়েছে।

শাহজাহানপুরে এ ধরনের ঘটনা এটাই প্রথম নয়। ২০১৯ সালেও এক নবজাতক কন্যাশিশুর খবর প্রকাশিত হয় যাকে একটি মাটির হাঁড়িতে জীবিত কবর দেওয়া হয়েছিল। কয়েক সপ্তাহ হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়ার পর সে সুস্থ হয়ে ওঠে।

ভারতে লিঙ্গ বৈষম্য বিশ্বের মধ্যে অন্যতম খারাপ পর্যায়ে। নারীরা সারা জীবন বৈষম্যের শিকার হন এবং বিশেষ করে দরিদ্র পরিবারে কন্যাশিশুকে আর্থিক বোঝা মনে করা হয়।

অভিযানকারীরা বলছেন, ছেলে সন্তানের প্রতি ঐতিহ্যগত পক্ষপাতিত্বের কারণে কোটি কোটি কন্যাশিশু ভ্রূণ অবস্থায় বা জন্মের পর হত্যা করা হয়েছে। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে বেআইনি লিঙ্গ নির্ধারণ ক্লিনিকের মাধ্যমে গর্ভপাত করা হয়, তবে জন্মের পর কন্যাশিশুকে হত্যা করাও অস্বাভাবিক কিছু নয়।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত