স্ত্রীকে খুন করতে ৩ বন্ধুকে ভাড়া

আপডেট : ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ০৭:৪১ এএম

রাজধানীর ক্যান্টনমেন্ট থানাধীন একটি ওয়ার্কশপে মেকানিকের চাকরি করেন মো. বাবুল মিয়া। যা বেতন পান তার বেশিরভাগই চলে যায় সুদ দিতে দিতে। বাকি টাকা দিয়ে টানাপড়েনে চলে সংসার। সেই সঙ্গে প্রতিদিনই পাওনাদাররা সুদের টাকার জন্য তার স্ত্রী বিথী আক্তার বিলকিসকে চাপ দিতে থাকেন। ২০ থেকে ২৫ লাখ টাকার ঋণের সুদের বোঝা ডেকে আনে পরিবারে অশান্তি। স্ত্রীর সঙ্গে তিক্ততার সম্পর্ক তৈরি হয় বাবুলের। এভাবে ছয় বছর চলার পর পারিবারিক অশান্তি থেকে রেহাই পেতে স্ত্রীকে হত্যার সিদ্ধান্ত নেন বাবুল। সে অনুযায়ী ৫০ হাজার টাকার চুক্তিতে তিন বন্ধুকে ভাড়া করে পরিকল্পিতভাবে শ্বাসরোধ করে স্ত্রীকে হত্যা করে। এরপর উত্তরা ১৭ নম্বর সেক্টরের কাঁশবনে ফেলে রাখে।

গতকাল রবিবার ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ঢাকা মহানগর পুলিশের উত্তরা বিভাগের ডিসি মো. মুহিদুল ইসলাম এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ এবং তথ্যপ্রযুক্তির সাহায্যে হত্যাকান্ডে জড়িতদের মধ্যে নিহতের স্বামী বাবুল মিয়া ও তার সহযোগী মো. সম্রাটকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গত শনিবার মিরপুর ডিওএইচএস এলাকা থেকে বাবুলকে এবং একই দিন মিরপুর-১২ নম্বর সেকশনের কালাপানি এলাকা থেকে সম্রাটকে গ্রেপ্তার করা হয়। তারা দুজন হত্যাকা-ের দায় শিকার করেছেন।

ডিসি মো. মুহিদুল ইসলাম আরও জানান, গত ১৪ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে বিথী আক্তার নিখোঁজ হন। তার মা মনোয়ারা বেগম এ বিষয়ে ক্যান্টনমেন্ট থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। পরে ১৮ সেপ্টেম্বর সকালে তুরাগ থানাধীন রাজউকের ১৭ নম্বর সেক্টরের খেলার মাঠে কাশবনের মধ্যে একটি অজ্ঞাতনামা নারীর মরদেহ পাওয়া যায়। মনোয়ারা বেগম সেখানে গিয়ে তার মেয়ের মরদেহ শনাক্ত করেন। এ ঘটনার পর তার অভিযোগের ভিত্তিতে তুরাগ থানায় একটি হত্যা মামলা করা হয়। তিনি বলেন, মামলার পর তুরাগ থানা পুলিশ তদন্ত শুরু করে। ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ এবং তথ্যপ্রযুক্তির সাহায্যে হত্যাকান্ডে জড়িত চারজনকে শনাক্ত করা হয়। পলাতক দুজনকে গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।

ডিএমপি কর্মকর্তা জানান, নিহত বিথী আক্তার এবং তার স্বামী বাবুল প্রায় ছয় বছর ধরে দাম্পত্য কলহে ভুগছিলেন। এর পেছনে প্রধান কারণ ছিল ২০ থেকে ২৫ লাখ টাকার সুদের ঋণ। বাবুল ক্যান্টনমেন্টের ৭০৩ সেন্ট্রাল ওয়ার্কশপে চাকরি করে মাসে প্রায় ৩১ হাজার টাকা বেতন পান, যার বেশিরভাগই সুদের টাকা দিতে খরচ হয়ে যেত। এ নিয়ে স্ত্রীর সঙ্গে তার প্রায়ই ঝগড়া হতো। জিজ্ঞাসাবাদে বাবুল পুলিশকে জানিয়েছেন, সুদের পাওনাদারদের কারণে তার স্ত্রী ঠিকমতো ঘুমাতে বা খেতে পারতেন না এবং এ নিয়ে প্রায়ই বকাঝকা করতেন। এ ছাড়া স্ত্রীর বিরুদ্ধে তার ভাই বা অন্য কাউকে টাকা দেওয়ার সন্দেহও ছিল, যা তাদের কলহকে আরও চরম পর্যায়ে নিয়ে যায়। বাবুল আরও স্বীকার করেন, গত দুই-তিন মাস আগে তিনি তার স্ত্রীকে হত্যার পরিকল্পনা করেন এবং সম্রাটসহ আরও দুজনের সহায়তায় হত্যাকা-টি ঘটান। হত্যাকা-ের পর সম্রাটকে ৫০ হাজার থেকে ১ লাখ টাকা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন বাবুল, যদিও তিনি জানান, তার স্বল্প বেতনের কারণে সেই টাকা কিস্তিতে পরিশোধের কথা বলেছিলেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত