৬৭৯ দিনের গোল খরা কাটিয়ে মোনাকোতে আনসু ফাতির পুনর্জন্ম

আপডেট : ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ০৬:০৪ পিএম

একসময় বার্সেলোনায় মেসির উত্তরসূরি হিসেবে দেখা হতো আনসু ফাতিকে। তার প্রতিভা দেখে চার বছর ১ বিলিয়ন ইউরোর বাই–আউট ক্লজ যুক্ত করেছিল এই লেফট উইঙ্গারকে। কিন্তু চোটে ভুগে ভুগে ধীরে ধীরে হারিয়েছিলেন মূল একাদশের জায়গা। গতবছর মাত্র ১১টি ম্যাচ খেলার সুযোগ পান বার্সেলোনা, গোল করতে পারেননি। তাই ধারে তাকে ফ্রেঞ্চ লিগের দল মোনাকোতে পাঠায় বার্সা। আর সেখানে অভিষেকেই যেন নতুন করে জন্ম নিলেন এই স্প্যানিশ ফরোয়ার্ড।

চ্যাম্পিয়নস লিগে ব্রুজের বিপক্ষে গোল করার পর এবার লিগ–১ অভিষেকেই মেটজের বিপক্ষে ঝলক দেখালেন তিনি। মাত্র ৩৮ সেকেন্ডে গোল, যা ২০১৪ সালের পর লিগ–১–এ দ্রুততম অভিষেক গোল। পরবর্তীতে আরও একটি গোল করে জোড়া পূর্ণ করেন এবং মোনাকোকে ৫–২ ব্যবধানে দারুণ জয় এনে দেন। ফলে গত তিন ম্যাচে করলেন তিনটি গোল—ক্যারিয়ারের স্থবির সময়ে ৬৭৯ দিনের গোল খরা কাটানোর পর এক অসাধারণ প্রত্যাবর্তন।

প্রথম গোলটি আসে লামিন কামারার নিখুঁত পাস থেকে, যেখানে জ্যাঁ–ফিলিপ গবামিনকে ফাঁকি দিয়ে ঠাণ্ডা মাথায় ফিনিশ করেন তিনি। দ্বিতীয় গোলের সময় ক্রেপিন দিয়াত্তার ক্রস থেকে নিখুঁত হেডে বল পাঠান জালে। তার ড্রিবলিং, পজিশনিং আর ফিনিশিংয়ে মেটজ রক্ষণের জন্য তিনি হয়ে ওঠেন এক দুঃস্বপ্ন।

ম্যাচ শেষে কোচ আদি হুটার প্রশংসা করেন ফাতির পারফরম্যান্সের:“তিন দিনে তিন গোল—এটা সত্যিই অসাধারণ। সে বার্সেলোনায় অনেক কষ্টের সময় পার করেছে, কিন্তু সবসময় পেশাদার থেকেছে। আজ ম্যাচ ঘুরিয়ে দিয়েছে।” হুটার আরও জানান, ফাতিকে তিনি সেকেন্ড স্ট্রাইকার হিসেবেই ব্যবহার করতে চান: “ও বাম দিকেও খেলতে পারে, নাম্বার ১০–এও। তবে আমি মনে করি মোবাইল ফরোয়ার্ড হিসেবেই ওর সর্বোচ্চটা পাওয়া যাবে। গোল করার পাশাপাশি আক্রমণ গড়তেও পারে।”

গোল করার পর সতীর্থরা যখন সমর্থকদের সঙ্গে উদযাপনে ব্যস্ত, তখন বেঞ্চে বসেই আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েছিলেন ফাতি। ম্যাচ শেষে তিনি বলেন, “গোল করলে আবেগ আসবেই। নতুন ক্লাবে আসলে প্রত্যাশা বেশি থাকে। গত কয়েক সপ্তাহ আমার জন্য কঠিন ছিল, তাই এই গোলগুলো বিশেষ কিছু। তবে আমি নতুন ক্যারিয়ার শুরু করছি বলে মনে করি না। প্রতিটি ম্যাচই প্রমাণ করার সুযোগ। অতীতের কোনো গুরুত্ব নেই, বর্তমানেই বাঁচতে হয়।”

শারীরিক দিক থেকেও আত্মবিশ্বাসী শোনালেন তিনি: “আমি এখন ভালো আছি। ধীরে ধীরে রিদমে ফিরছি। কোচ যখনই সুযোগ দিচ্ছেন, আমি সর্বোচ্চটা দেওয়ার চেষ্টা করছি।”

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত