যুক্তরাষ্ট্রের বামপন্থি আন্দোলন অ্যান্টিফাকে ‘অভ্যন্তরীণ সন্ত্রাসী সংগঠন’ ঘোষণা করেছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। গত সোমবার হোয়াইট হাউজে এ সংক্রান্ত এক নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করেন তিনি। নির্বাহী আদেশে অ্যান্টিফাকে ‘সামরিক, অরাজকতাবাদী গোষ্ঠী’ হিসেবে আখ্যা দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স। আদেশে বলা হয়েছে, আইনসম্মত রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড দমনের উদ্দেশ্যে রাজনৈতিক সহিংসতার আশ্রয় নেওয়ায় অ্যান্টিফাকে অভ্যন্তরীণ সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হলো।
ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত ডানপন্থি রক্ষণশীল কর্মী কার্ককে গত ১০ সেপ্টেম্বর ইউটাহ অঙ্গরাজ্যের একটি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে বক্তব্য দেওয়ার সময় হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় ২২ বছর বয়সী এক কলেজ শিক্ষার্থীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এখনো হত্যার উদ্দেশ্য খুঁজে বের করার চেষ্টা করছেন তদন্তকারীরা। তবে ট্রাম্প প্রশাসন এ হত্যাকাণ্ডকে অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করছে দীর্ঘদিনের পরিকল্পনা বাস্তবায়নে, যার মাধ্যমে তারা বামপন্থি গোষ্ঠীগুলোকে লক্ষ্যবস্তু বানাতে চায় বলে ধারণা করা হচ্ছে। হোয়াইট হাউজ জানিয়েছে, ডানপন্থি কর্মী চার্লি কার্ক হত্যাকাণ্ডের পর বামপন্থি গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেওয়ার প্রতিশ্রুতির অংশ হিসেবেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। অ্যান্টিফা বা ‘অ্যান্টি-ফ্যাসিস্ট’ হলো ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলন। ‘অ্যান্টিফা’ শব্দের উৎপত্তি ১৯৩০-এর দশকে জার্মানিতে হিটলারবিরোধী সমাজতান্ত্রিক গোষ্ঠীগুলো থেকে। এতে নানা ধরনের দল, নেটওয়ার্ক ও ব্যক্তির সম্মিলন রয়েছে। বর্ণবাদ, অতি ডানপন্থি মূল্যবোধ তথা ফ্যাসিবাদী কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করেন অ্যান্টিফা সংশ্লিষ্টরা।
এদিকে, ট্রাম্প প্রশাসন যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনী সম্পর্কিত সংবাদ প্রকাশে নতুন বিধিনিষেধ আরোপ করেছে। এর ফলে গণমাধ্যমগুলো চাইলেই সরকারের অনুমোদনবিহীন কোনো তথ্য প্রকাশ করতে পারবে না। দেশটির প্রতিরক্ষা দপ্তর এক স্মারকলিপিতে জানায়, সাংবাদিকরা যদি অনুমোদনহীন সংবেদনশীল তথ্য প্রকাশ করেন, তবে তাদের প্রেস কার্ড বাতিল করা হতে পারে। গণমাধ্যমকর্মীদের অধিকার রক্ষাকারীরা বলেছেন, এসব বিধিনিষেধ স্বাধীন সাংবাদিকতাকে বাধাগ্রস্ত করবে।
