দেশে বক্ষব্যাধিতে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বাড়ছেই। এর অন্যতম কারণ বায়ুদূষণ ও সচেতনহীনতা। ফুসফুসের রোগ নিয়ে গণসচেতনতা সৃষ্টির পাশাপাশি বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণকল্পে সামাজিক আন্দোলনের বিকল্প নেই। এমন বিবেচনায় আজ ২৫ সেপ্টেম্বর পালিত হচ্ছে বিশ্ব ফুসফুস দিবস। ‘সুস্থ ফুসফুস, সুস্থ জীবন’ প্রতিপাদ্য সামনে রেখে দ্য চেস্ট অ্যান্ড হার্ট অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের উদ্যোগে এবং স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালসের সহযোগিতায় দেশের খ্যাতনামা বক্ষব্যাধি বিশেষজ্ঞদের নিয়ে রাজধানীর হলিডে ইন হোটেলে এক গোলটেবিল বৈঠক হয়
শ্বাসযন্ত্র সুস্থতার মাধ্যমে সুস্থ জাতি গড়া সম্ভব
প্রিয় সহকর্মী, অতিথি ও উপস্থিত সবাইকে আন্তরিক শুভেচ্ছা। আজ ২৫ সেপ্টেম্বর, বিশ্ব ফুসফুস দিবসে আমরা একত্র হয়েছি মানুষের ফুসফুসের স্বাস্থ্য রক্ষার অঙ্গীকার পুনঃনবীকরণ করতে। এ বছরের থিম আমাদের মনে করিয়ে দেয় শ্বাসযন্ত্রের সুস্থতা রক্ষার মাধ্যমে সুস্থ সমাজ ও সুস্থ জাতি গড়া সম্ভব। বর্তমানে অ্যাজমা, সিওপিডি, যক্ষ্মা, নিউমোনিয়া, ফুসফুসের ক্যানসারসহ বিভিন্ন ফুসফুসজনিত রোগ বেড়ে চলেছে। ধূমপান, বায়ুদূষণ ও কর্মস্থলের ঝুঁকি এ রোগগুলোর প্রধান কারণ। বিশেষত দেশের পাথর ও জাহাজ ভাঙা শ্রমিকরা জীবন বাজি রেখে কাজ করেন, যার ভয়াবহ প্রভাব পড়ে তাদের ফুসফুসের ওপর।
এই সমস্যাগুলো প্রতিরোধে ধূমপান নিয়ন্ত্রণ, বায়ুদূষণ হ্রাস, কর্মস্থলের নিরাপত্তা ও ক্ষতিপূরণ নিশ্চিতের পাশাপাশি চিকিৎসকদের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। এ ক্ষেত্রে বক্ষব্যাধি বিশেষজ্ঞদের ভূমিকা সর্বাধিক, বিষয়গুলোতে জনসচেতনতা বৃদ্ধির নেতৃত্ব আমাদেরই নিতে হবে।
আজকের আলোচনা যেন দিবসের মধ্যেই সীমাবদ্ধ না থাকে। এ নিয়ে গবেষণা, সচেতনতা ও নীতিনির্ধারণ চলমান থাকতে হবে। সরকারের সঙ্গে সহযোগিতা প্রয়োজন, যাতে প্রচলিত আইনকে আরও সমৃদ্ধ করে ধূমপান ও বায়ুদূষণ কমানো, অকুপেশনাল লাং ডিজিজ প্রতিরোধে নিরাপদ কর্মপরিবেশ তৈরি হয় এবং আক্রান্ত শ্রমিকদের ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা নিশ্চিত করা। চেস্ট অ্যান্ড হার্ট অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ ইতিমধ্যে নানা উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। গাইডলাইন প্রণয়ন, প্রশিক্ষণ কর্মশালা ও সচেতনতামূলক কর্মসূচি। ভবিষ্যতেও এ কার্যক্রম আরও বিস্তৃত হবে। রাউন্ড টেবিল বৈঠক থেকে গৃহীত মতামত ও সুপারিশ আমাদের কার্যকর পদক্ষেপ নিতে সহায়তা করবে। আসুন, সবাই মিলে প্রতিজ্ঞা করি ধূমপানমুক্ত সমাজ, দূষণমুক্ত পরিবেশ ও নিরাপদ কর্মস্থল নিশ্চিত করার মাধ্যমে সুস্থ ফুসফুসের বাংলাদেশ গড়ে তুলি। সবাইকে ধন্যবাদ।
ফুসফুসের যত্ন নিই স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন করি
আজ ২৫ সেপ্টেম্বর বিশ্ব ফুসফুস দিবস। এ বছর বিশ্ব ফুসফুস দিবসের থিম ‘Healthy Lungs, Healthy Life’, অর্থাৎ ‘সুস্থ ফুসফুস, সুস্থ জীবন’ যা বিশ্ব জুড়ে মানুষের ফুসফুসের সুস্থতা নিশ্চিত করার আহ্বানকে সামনে নিয়ে এসেছে।
দেশে ফুসফুসের রোগের মধ্যে অ্যাজমা, সিওপিডি, যক্ষ্মা, নিউমোনিয়া, লাং ক্যানসার, ডিপিএলডি জনস্বাস্থ্যের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। ধূমপান, বায়ুদূষণ, কর্মক্ষেত্রে বিভিন্ন স্বাস্থ্যঝুঁকি ইত্যাদি এ রোগগুলোর প্রধান ঝুঁকি। ধূমপান ত্যাগসহ অন্য ঝুঁকিগুলো নিরসনে জনসচেতনতা তৈরিই রোগ প্রতিকারের প্রধান উপায়।
অ্যাজমা, সিওপিডি বা অন্যান্য দীর্ঘমেয়াদি ফুসফুস রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের দুর্বল ফুসফুস সহজেই ভাইরাস বা ব্যাকটেরিয়ার আক্রমণের শিকার হয়। ফলে নিউমোনিয়ার সংক্রমণ হতে পারে, যা ফুসফুসকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। এক্ষেত্রে ইনফ্লুয়েঞ্জা, নিউমোকক্কাল, কভিড ১৯-সহ অন্যান্য ভ্যাকসিন শুধু সংক্রমণ প্রতিরোধ করে না, বরং দুর্বল ফুসফুসকে ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা করে এবং মৃত্যুঝুঁকি হ্রাস করে।
অকুপেশনাল লাং ডিজিজ দেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। পাথর ভাঙা শ্রমিকরা ধূলিকণার কারণে সিলিকোসিসসহ গুরুতর ফুসফুস রোগে আক্রান্ত হন। জাহাজ ভাঙা শ্রমিকরা অ্যাসবেস্টস, রাসায়নিক ও ভারী ধাতুর সংস্পর্শে থেকে অ্যাসবেস্টোসিস, ফুসফুস ক্যানসার ও জটিল রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকিতে থাকেন। এই সমস্যাগুলো কর্মস্থলে নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ, ভেন্টিলেশন, মাস্ক ও সুরক্ষা সরঞ্জামের ব্যবহার অপরিহার্য। আক্রান্ত শ্রমিকদের জন্য ক্ষতিপূরণ ও পর্যাপ্ত চিকিৎসা নিশ্চিত করা রাষ্ট্র ও নিয়োগকর্তাদের দায়িত্ব। দ্য চেস্ট অ্যান্ড হার্ট অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ এসব সমস্যা মোকাবিলায় চিকিৎসক ও মানুষকে সচেতন করতে সেমিনার, প্রশিক্ষণ ও নির্দেশিকা প্রণয়ন করছে। বৈঠকের উদ্দেশ্য হলো বিশেষজ্ঞদের মতামত একত্রিত করে কর্মপন্থা নির্ধারণ করা।
ফুসফুসজনিত রোগ বেড়েই চলেছে
বাংলাদেশে ফুসফুসজনিত রোগ ক্রমে বেড়ে চলেছে। জনসংখ্যার ঘনত্ব, অপর্যাপ্ত স্বাস্থ্যসচেতনতা এবং সময়মতো রোগ নির্ণয় না হওয়ায় রোগী বাড়ছে। এই প্রেক্ষাপটে জনগণকে সচেতন করা, প্রতিরোধমূলক পদক্ষেপ জোরদার করা এবং আধুনিক চিকিৎসা সুবিধা সম্প্রসারণ অপরিহার্য হয়ে উঠেছে। জাতীয় ইনস্টিটিউট অব ডিজিজেস অব চেস্ট অ্যান্ড হসপিটাল (NIDCH) এবং স্বাস্থ্য সেক্টরের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এনআইডিসিএইচ হতে হবে ফুসফুস স্বাস্থ্যব্যবস্থার মূল নিয়ামক কেন্দ্র। গবেষণা, প্রশিক্ষণ, আধুনিক ল্যাব সুবিধা এবং বিশেষায়িত সেবা প্রদানের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি সারা দেশে মডেল হিসেবে কাজ করতে পারে। স্বাস্থ্য খাতকে জাতীয় নীতিমালার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণ, ধূমপানবিরোধী কার্যক্রম জোরদার এবং ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীকে টার্গেট করে প্রতিরোধমূলক কার্যক্রম চালাতে হবে।
যক্ষ্মা নিরাময়যোগ্য রোগ
যক্ষ্মা গুরুতর কিন্তু প্রতিরোধ ও নিরাময়যোগ্য রোগ। ‘মাইকোব্যাকটেরিয়াম টিউবারকিউলোসিস’ নামক ব্যাকটেরিয়ার কারণে হয়। এই রোগ ফুসফুসকে আক্রান্ত করে এবং সংক্রমিত ব্যক্তির কাশি বা হাঁচি মাধ্যমে ছড়ায়।
দেশে যক্ষ্মার উচ্চ প্রকোপ রয়েছে এবং রোগের বৈশ্বিক তালিকায় শীর্ষ দেশ। যক্ষ্মা নিরাময়যোগ্য রোগ। এর চিকিৎসা বিভিন্ন ওষুধের সংমিশ্রণ ব্যবহার করা হয়, যাতে রোগটি নির্মূল এবং ওষুধ-প্রতিরোধ গড়ে উঠতে না পারে। এর প্রতিরোধ ব্যবস্থা গুরুত্বপূর্ণ এবং কিছু জনস্বাস্থ্যবিষয়ক কৌশল অবলম্বন করা। যারা আক্রান্ত ব্যক্তির সংস্পর্শে এসেছেন, তাদের খুঁজে বের করা ও পরীক্ষা করা। সক্রিয় যক্ষ্মা রোগীদের বাধ্যতামূলক আইসোলেশন সংক্রমণ প্রতিরোধের জন্য অপরিহার্য। নতুন রোগী শনাক্ত এবং দ্রুত তাদের চিকিৎসার আওতায় আনা রোগটি নিয়ন্ত্রণে আনার জন্য খুবই জরুরি।
বায়ুদূষণ জীবনমানের অবনতি ঘটায়
ঢাকা শহরের বায়ুদূষণ গুরুতর পরিবেশগত সংকটে রূপ নিয়েছে। দ্রুত নগরায়ণ, অপরিকল্পিত উন্নয়ন, ইটভাটা এবং ক্রমবর্ধমান যানবাহন প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ ধূলিকণা ও ক্ষতিকর গ্যাস বায়ুম-লে নিঃসরণ করছে। শীতকালে তাপমাত্রার পরিবর্তন এবং স্থবির বাতাসের কারণে দূষণ মাটির কাছাকাছি ঘন হয়ে আটকে থাকে।
শিশু, বয়স্ক এবং যারা শারীরিক সমস্যায় ভুগছেন তাদের অ্যাজমা, সিওপিডি, ব্রঙ্কাইটিস নামক শ্বাসতন্ত্রের প্রদাহজনিত রোগের ঝুঁকি বাড়ে। বায়ুদূষণ শহরের সার্বিক জীবনমানের অবনতি ঘটায়, দৃষ্টিসীমা কমায়, অবকাঠামো ও ভবনসমূহের ক্ষতি করে।
বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণের জন্য প্রয়োজন সরকারি পদক্ষেপ, জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং পরিকল্পিত ও টেকসই নগর উন্নয়ন।
দ্রুত রোগ নির্ণয়ে রোগী দীর্ঘদিন বাঁচে
ফুসফুসের ক্যান্সার মারাত্মক ব্যাধি। যেখানে এক বা উভয় ফুসফুসের কোষগুলোর অনিয়ন্ত্রিত বৃদ্ধি এর কার্যকারিতাকে ব্যাহত করে। প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ ধূমপান ফুসফুস ক্যান্সারের প্রধান কারণ।
কোষের ধরন বিবেচনায় ফুসফুস ক্যান্সার কে Squamous, Adeno, Small Ges Large cell এই চার শ্রেণিতে বিভক্ত করা হয়। ক্যান্সারের পর্যায় অনুযায়ী চিকিৎসা করা হয়। যার মধ্যে সার্জারি, কেমোথেরাপি, রেডিওথেরাপি ও উপশমকারী চিকিৎসা।
চিকিৎসা ব্যবস্থার উন্নতির প্রেক্ষাপটে বর্তমানে জিনগত পরিবর্তন এর ধরন অনুযায়ী কেমোথেরাপির ঔষধ দেওয়া হয়। সর্বোপরি ফুসফুস ক্যানসার চিকিৎসার জন্য বহুমুখী বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকগণের পরামর্শ প্রয়োজন। দ্রুততম সময়ে রোগ নির্ণয় সম্ভব হলে রোগী দীর্ঘদিন বেঁচে থাকতে সক্ষম হন।
ক্যানসারের শীর্ষে ‘ফুসফুস ক্যানসার’
সুস্থ ফুসফুসের লক্ষ্যে রেসপিরেটরি মেডিসিনের পাশাপাশি থোরাসিক সার্জারির ভূমিকাও গুরুত্বপূর্ণ। ফুসফুসের ক্যানসার এবং নন-ক্যানসার উভয় ধরনের রোগের শল্য চিকিৎসায় থোরাসিক সার্জারি অবদান রয়েছে। ক্যানসারের শীর্ষে ফুসফুসের ক্যানসারের অবস্থান। প্রাথমিক পর্যায়ে ফুসফুসের ক্যানসার শনাক্তকরণ জরুরি। রোগের প্রাথমিক অবস্থায় ক্যানসারে আক্রান্ত ফুসফুসের অংশ অপারেশনের মাধ্যমে অপসারণ করলে পূর্ণ নিরাময় সম্ভব। ক্যানসারের চিকিৎসায় অপারেশনের পাশাপাশি কেমোরেডিওথেরাপির মতো সহায়ক চিকিৎসার প্রয়োজন হয়। ক্যানসারের কারণে ম্যালিগন্যান্ট প্লুরাল ইফিউশনে শল্য চিকিৎসার সহায়ক ভূমিকা রয়েছে। ফুসফুসের নন-ক্যানসার জাতীয় রোগ নিরাময়ে থোরাসিক সার্জারির সুনির্দিষ্ট প্রয়োগ রয়েছে। অনেকেই যক্ষ্মা রোগের নানাবিধ জটিলতায় আক্রান্ত হন। এ ধরনের জটিলতায় আক্রান্ত রোগীরা থোরাসিক সার্জারির মাধ্যমে সুস্থ করতে পারেন।
অ্যাজমা ও অ্যালার্জি সম্পর্কযুক্ত
অ্যাজমা ও অ্যালার্জি প্রায়ই একসঙ্গে দেখা যায় এবং একে অপরের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কযুক্ত। অ্যালার্জি তখন ঘটে যখন রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা ধুলা, পরাগকণা বা খাবারের মতো ক্ষতিকারক নয়, এমন উপাদানের বিরুদ্ধে প্রতিক্রিয়া দেখায়। এই অতিরঞ্জিত প্রতিক্রিয়া শ্বাসনালির প্রদাহ সৃষ্টি এবং শ্বাসকষ্ট বাড়িয়ে দিতে পারে। অনেক রোগীর ক্ষেত্রে অ্যালার্জিক প্রতিক্রিয়াই সরাসরি অ্যাজমা আক্রমণ ঘটায়। হাঁচি, শ্বাসকষ্ট, কাশি, বুকে চাপ অনুভব এবং শ্বাস নিতে অসুবিধার মতো উপসর্গগুলো একসঙ্গে দেখা দিতে পারে। মৌসুমি পরিবর্তন, আবহাওয়ার তারতম্য কিংবা অ্যালার্জেনের সংস্পর্শে এলে উভয় অবস্থাই তীব্র হতে পারে। শুধু অ্যালার্জির চিকিৎসা করলে অ্যাজমার তীব্রতা কমতে পারে। একইভাবে, অ্যাজমা নিয়ন্ত্রণে থাকলে অ্যালার্জির ঝুঁকিও হ্রাস পায়। এ দুই অবস্থারই যত্নশীল ব্যবস্থাপনা প্রয়োজন ওষুধ, জীবনযাত্রার পরিবর্তন এবং অ্যালার্জেন এড়িয়ে চলার মাধ্যমে।
ফুসফুস ক্যানসারের বড় কারণ ধূমপান
ফুসফুসের শ্বাসনালির প্রধান রোগ হচ্ছে ব্রঙ্কিয়াল অ্যাজমা বা হাঁপানি, ক্রনিক অবস্ট্রাকটিভ পালমোনারি ডিজিজ বা সিওপিডি, যা বায়ুদূষণ ও ধূমপানের কারণে হয়। ফুসফুসের প্রদাহজনিত রোগ বা নিউমোনিয়া, যা সাধারণত ব্যাকটেরিয়ার জন্য হয়। এটি বাংলাদেশে অত্যন্ত পরিচিত রোগ। প্রদাহজনিত আরেকটি রোগ যক্ষ্মা, যা বিশ্বব্যাপী হতে দেখা যায়। এছাড়া ফুসফুসে ক্যানসার, ফুসফুসে পুঁজ হওয়া বা অ্যাবসেস, একিউট রেসপিরেটরি ডিসট্রেস সিনড্রোম। এছাড়া ইন্টারস্টিসিরাল রোগ, যা ফুসফুসে ধীরগতিতে হয়। এতে ফুসফুসের পর্দা আক্রান্ত হয়। ফুসফুসের রক্তনালিতে পালমোনারি এমবলিজম ও পালমোনারি হাইপারটেনশন হয়। ফুসফুসের পর্দার রোগ হয় নিউমোনিয়া, যক্ষ্মা, ফুসফুসে ক্যানসার ও কোনো দুর্ঘটনার কারণে এ পর্দায় রক্ত জমতে পারে। ফুসফুসের পর্দায় বাতাস ঢুকে নিউমোথোরাক্স হয়। মেসোথেলিওমা হচ্ছে ফুসফুসের পর্দার একটি রেয়ার ডিজিজ।
নিউমোনিয়া শিশুমৃত্যুর কারণ
বাংলাদেশে যক্ষ্মা এখনো গুরুত্বপূর্ণ জনস্বাস্থ্য সমস্যা। বিসিজি টিকা ও DOTS প্রোগ্রামের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণে অগ্রগতি হলেও রোগীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্য। নিউমোনিয়া শিশুমৃত্যুর অন্যতম প্রধান কারণ। অপুষ্টি, ভিড়বহুল পরিবেশ ও চিকিৎসা বিলম্বিত হওয়ার কারণে ঝুঁকি বেশি। ভ্যাকসিন (পিসিভি, Hib) ও অ্যান্টিবায়োটিক সহজলভ্যতায় মৃত্যুহার কমছে। দেশে এইচআইভির প্রাদুর্ভাব তুলনামূলক কম হলেও আক্রান্ত রোগীদের মধ্যে ফুসফুস সংক্রমণ যেমন টিবি, নিউমোনিয়া বেশি দেখা যায়। কভিড-১৯ বাংলাদেশে মহামারীর সময়ে বিপুল সংখ্যক মানুষ আক্রান্ত হয়। টিকাদানের ফলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।
ফুসফুসের সংক্রমণজনিত রোগ স্থানীয়, জাতীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে এখনো জনস্বাস্থ্যের জন্য বড় হুমকি। ভ্যাকসিন, প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা, জনসচেতনতা এবং বৈশ্বিক সহযোগিতা ছাড়া এ রোগগুলো নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়।
যক্ষ্মা নিউমোনিয়ায় ফুসফুসে পানি জমে
ফুসফুসকে ঢেকে রাখা দুটো স্তরের (Pleura) মাঝে অস্বাভাবিকভাবে তরল জমে গেলে তাকে ‘বুকে পানি জমা’ বলে। বিভিন্ন কারণে এই প্লুরাল স্পেসে এ অতিরিক্ত তরল জমতে পারে। ফুসফুসজনিত কারণ সাধারণত একপাশে হয়। যেমন টিউবারকিউলোসিস (টিবি), নিউমোনিয়া, ফুসফুসের ক্যানসার।
এছাড়াও অন্যান্য সিস্টেমিক রোগ থেকেও প্লুরাল ইফিউশন হতে পারে হৃদরোগ, কিডনির রোগ, লিভারের রোগ, রিউমাটোলজিক রোগ, যেকোনো অঙ্গের ক্যানসার।
মনে রাখতে হবে, করাল ইফিউশন নিজে কোনো রোগ নয়; অন্য কোনো রোগের উপসর্গ। কারণ নির্ণয় গুরুত্বপূর্ণ। চিকিৎসা মূলত প্লুরাল ইফিউশনের কারণ বের করে চিকিৎসা করা। প্রয়োজন হলে পানি বের করা। আতঙ্কিত হওয়া যাবে না। রোগের কারন বের করে চিকিৎসা করতে হবে।
অক্সিজেনের ঘাটতি ফুসফুস নিষ্ক্রিয় করে
আইএলডি কিংবা ডিপিএলডি হচ্ছে সামষ্টিকভাবে যেসব রোগে ফুসফুসের ইনস্টারস্টিসিয়ানকে আক্রান্ত করে, সেসব রোগকে বোঝায়। ফুসফুসের ইন্টারস্টিসিয়ামকে হচ্ছে সেই গুরুত্বপূর্ণ অংশ, যেখানে অক্সিজেন ও কার্বন ডাই-অক্সাইডের বিনিময় বা ডিফিউশন হয়। এই অংশটি ফুসফুসের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজটি করে থাকে। একটি ভালো সংখ্যাক রোগ এই ইন্টারস্টিশিয়ামকে আক্রান্ত করে ডিফিউশন বা বিনিময়কে ব্যাহত করে। ফলে রক্তে অক্সিজেনে ঘাটতি বা হ্রাস এবং ফুসফুস ফেইল করে। এই রোগ সমষ্টির কয়েকটির কারণ অজানা কিংবা মনে করা হয় অটো ইউমিনিটির কারণে হয়ে থাকবে। কিছু রোগের কারণ জানাযেমন বাইরের এলার্জিন, ধূলিকণাও ভাইরাস ইত্যাদি। সাধারণত শুষ্ক কাশি, একজারশনাল শ্বাসকষ্ট, সায়ানোসিসি, ফুসফুসের নিচে ফাইন ক্রিপিটেশন আসে। অজানা ওখউ/ওচঋ সাধারণ খুব মারাত্মক প্রকৃতির হয়। এই রোগে সাধারণত রোগীরা ২-৩ বছরের বেশি বাঁচে না।
ফুসফুসের রোগ শনাক্তে স্ক্রিনিং দরকার
পৃথিবীর উন্নততর দেশগুলোতে ফুসফুসের রোগ বিশেষ করে ক্যানসার শনাক্তকরণের জন্য স্ক্রিনিং প্রোগ্রাম চালু আছে। এর ফলে ক্যানসারের কোনো উপসর্গ শরীরে প্রকাশ হওয়ার আগেই প্রাথমিক পর্যায়ে ফুসফুসের ক্যানসার শনাক্ত করা যায়। লো ডোজ সিটি স্ক্যানের মাধ্যমে এটি করা হয়। স্ক্রিনিং করে যদি প্রাথমিক অবস্থায় ক্যানসার নির্ণয় করা যায়, সে ক্ষেত্রে রোগীর চিকিৎসা সফলতা অনেক গুণ বেড়ে যায়, মৃত্যুঝুঁকি অনেক কমে যায়, কম ইনভেসিব চিকিৎসা প্রয়োজন হয়, চিকিৎসা খরচ অনেক কমে যায়, জীবনমান উন্নত হয় এবং কম সময়ে আরোগ্য লাভ করে। গবেষণায় দেখা গেছে, স্ক্রিনিংয়ের মাধ্যমে নির্ণয় হওয়া তিন-চতুর্থাংশ ফুসফুসের ক্যানসার স্টেজ এক অথবা স্টেজ দুই পর্যায়ের। স্ক্রিনিং পরীক্ষা যেমন স্পাইরোমেটি, লাং ভলিউম, ডিএলসিও করে আমরা ফুসফুসের সার্বিক অবস্থা সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যেমন সিওপিডি রোগ নির্ণয় ও মনিটর করা যায়।
মাতৃ ও শিশুস্বাস্থ্যে ফুসফুস রোগের প্রভাব
ফুসফুসজনিত রোগগুলোর মধ্যে রয়েছে শ্বাসনালির সংক্রমণ যেমন ইনফ্লুয়েঞ্জা, নিউমোনিয়া ও দীর্ঘস্থায়ী ফুসফুসের সমস্যা হাঁপাশি, সিওপিডি, যক্ষ্মা ও আইএলডি।
শ্বাসনালির সংক্রমণ acute respiratory illness সাধারণত দ্রুত সেরে যায়, কিন্তু এই স্বল্পমেয়াদি রোগ (ভাইরাল/ব্যাকটেরিয়া নিউমোনিয়া) যদি ফুসফুসে তীব্র সংক্রমণ করে তখন ফুসফুস পূর্বের অবস্থায় যেতে সময় লাগে, অনেক ক্ষেত্রে স্থায়ী ফাইব্রোসিস হয়ে যায়। নিউমোনিয়া পরবর্তী জটিলতাও দীর্ঘমেয়াদি হাঁপানি, যক্ষ্মা পরবর্তী ফুসফুসের জটিলতা (যেমন ফাইড্রোসিস, ব্রংকিয়েক্টেসিস) এ রোগগুলোর নিয়মিত পর্যবেক্ষণ ও প্রতিরোধের ও চিকিৎসার জন্য স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও টিকা দান জরুরি। সংক্রমণ বা গর্ভাবস্থার মতো চাপজনক পরিস্থিতি ভালোভাবে মোকাবিলা করা সম্ভব হবে।
বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজন জনসচেতনতা
ঢাকা শহরের বায়ুদূষণ এখন একটি গুরুতর পরিবেশগত সংকটে রূপ নিয়েছে। দ্রুত নগরায়ণ, অপরিকল্পিত উন্নয়ন, ইটভাটা এবং ক্রমবর্ধমান যানবাহন প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ ধূলিকণা ও ক্ষতিকর গ্যাস বায়ুমন্ডলে নিঃসরণ করছে।
শীতকালে তাপমাত্রার পরিবর্তন এবং ¯’বির বাতাসের কারণে দূষণ মাটির কাছাকাছি ঘন হয়ে আটকে থাকে। এতে শিশু, বয়স্ক এবং যারা আগে থেকেই শারীরিক সমস্যায় ভুগছেন তাদের অ্যাজমা, সিওপিডি, ব্রঙ্কাইটিস নামক শ্বাসতন্ত্রের প্রদাহজনিত রোগের ঝুঁকি বেড়ে যায়। বায়ুদূষণ শহরের সার্বিক জীবনমানকেও অবনতি ঘটায়, দৃষ্টিসীমা কমিয়ে দেয়, অবকাঠামো ও ভবনসমূহের ক্ষতি করে। বায়ু দূষণ নিয়ন্ত্রণের জন্য প্রয়োজন সরকারি পদক্ষেপ, জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং পরিকল্পিত ও টেকসই নগর উন্নয়ন।
সিওপিডি দেশে বড় জনস্বাস্থ্য চ্যালেঞ্জ
সিওপিডি ((COPD) বা ক্রনিক অবস্ট্রাকটিভ পালমোনারি ডিজিজ হলো দীর্ঘস্থায়ী ফুসফুসের রোগ, যা শ্বাসনালির ক্ষতি ও ফুসফুসের স্থায়ী পরিবর্তনের কারণে হয়। উন্নয়নশীল দেশগুলোতে ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি, যেখানে ধূমপান, বায়ুদূষণ ও স্বাস্থ্যসেবার সীমাবদ্ধতা বড় ভূমিকা রাখে। প্রতিরোধের জন্য প্রয়োজন ধূমপান ও পরোক্ষ ধূমপান বন্ধ করা, পরিষ্কার জ¦ালানি ব্যবহার, বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণ, প্রাথমিক পর্যায়ে ফুসফুস পরীক্ষা ও সচেতনতা বৃদ্ধি। চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয় ইনহেলার, ব্রঙ্কোডাইলেটর, স্টেরয়েড, শ্বাস-ব্যায়াম, ভ্যাকসিন এবং জীবনধারার পরিবর্তন। জাতীয় স্তরে নীতি বাস্তবায়ন, স্বাস্থ্যকর্মীদের প্রশিক্ষণ, সহজলভ্য ওষুধ সরবরাহ এবং ডঐঙ ও এঙখউ গাইডলাইন অনুযায়ী রোগ পরিচালনা জরুরি। সিওপিডি বাংলাদেশে বড় জনস্বাস্থ্য চ্যালেঞ্জ হলেও প্রতিরোধ, সচেতনতা, নীতি বাস্তবায়ন ও সঠিক চিকিৎসার মাধ্যমে রোগের প্রাদুর্ভাব ও মৃত্যু হ্রাস করা সম্ভব।
সঠিক সিদ্ধান্তের জন্য বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন
একটা সময় প্রচলিত স্লোগান ছিল ‘যার হয়েছে যক্ষ্মা, তার নেই রক্ষা’ এ সময়ে এসে ভুল ধারণা হিসেবে প্রমাণিত হয়েছে। আরেকটি ভুল ধারণা আছে ম্যান্টু ((MT) বা IGRA টেস্ট পজিটিভ মানেই যক্ষ্মা হয়েছে। এ সময় এসে এটাও ভুল। যক্ষ্মা সংক্রমণ (infection) ও যক্ষ্মা রোগ (disease) এক নয়। টেস্ট পজিটিভ হলে ভয় পাওয়া যাবে না। সরাসরি অভিজ্ঞ ডাক্তারের কাছে যক্ষ্মার চিকিৎসা করাবেন।
চিকিৎসকই সিদ্ধান্ত নেবেন যক্ষ্মার চিকিৎসা লাগবে কি না। পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও উপসর্গ দেখে নির্ধারণ করবেন। অকারণে চিকিৎসা নিলে ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া, ড্রাগ রেজিস্ট্যান্স বৃদ্ধি এবং রোগীর কষ্ট ও জটিলতা তৈরি হতে পারে। MT বা IGRA পজিটিভ মানেই টিবি রোগ নয়। সঠিক সিদ্ধান্তের জন্য সবসময় বক্ষব্যাধি বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।
ফুসফুসের স্বাস্থ্য সুস্থতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ
দ্য চেস্ট অ্যান্ড হার্ট অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের আয়োজিত রাউন্ড টেবিল আলোচনা অনুষ্ঠানে সম্মানিত চিকিৎসকদের সঙ্গে অংশগ্রহণ করতে পেরে আমি গর্বিত। আজ বিশ্ব ফুসফুস দিবস ২০২৫। প্রতিপাদ্য সুস্থ ফুসফুস, সুস্থ জীবন আমাদের সবাইকে স্মরণ করিয়ে দেয় যে, ফুসফুসের স্বাস্থ্য আমাদের সার্বিক সুস্থতার জন্য কতটা গুরুত্বপূর্ণ। আমরা স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস পিএলসি এই চ্যালেঞ্জগুলোকে গভীরভাবে উপলব্ধি করি এবং এসব সমস্যা সমাধানে ভূমিকা পালন করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আমরা উন্নত মানসম্পন্ন ওষুধ উৎপাদনের মাধ্যমে স্বাস্থ্যসেবা উন্নয়নে চিকিৎসকদের সহযোগিতা করে যাচ্ছি। এই অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণের মাধ্যমে দেশের মানুষের সুস্থ ফুসফুস এবং সুস্থ জীবনের প্রতি আমাদের প্রতিশ্রুতি আরও জোরদার হলো। স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস পিএলসির সদস্য হিসেবে দেশের পাশাপাশি বিশ্বব্যাপী স্বাস্থ্য উন্নয়ন কার্যক্রমের অংশ হতে পেরে আমি গর্বিত।
দূষণমুক্তিতে সুস্থ ফুসফুস
সম্মানিত অতিথিবৃন্দ, বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক, মিডিয়া প্রতিনিধি এবং উপস্থিত সবাইকে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানাচ্ছি। আমরা একত্রিত হয়েছি ওয়ার্ল্ড লাং ডে ২০২৫ উপলক্ষে আয়োজিত রাউন্ড টেবিল আলোচনায়, যার প্রতিপাদ্য ‘সুস্থ ফুসফুস, সুস্থ জীবন’। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা’র তথ্য অনুযায়ী প্রতি বছর কোটি কোটি মানুষ ফুসফুসের বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হন এবং এদের একটি বড় অংশ প্রতিরোধযোগ্য। ধূমপান, বায়ুদূষণ, সংক্রমণ এবং পেশাগত ঝুঁকি এখন বিশ্ব জুড়ে ফুসফুসের রোগ বৃদ্ধির প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত। উন্নত দেশগুলোতে আইন প্রয়োগ, ভ্যাকসিনেশন এবং দূষণ নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে অনেক সাফল্য এসেছে। আমাদেরও সেই অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে সামঞ্জস্যপূর্ণ পদক্ষেপ নিতে হবে। এই আলোচনায় আমরা শুধু সমস্যাই নয়, সমাধানের পথও খুঁজব। স্থানীয় পর্যায়ে সচেতনতা, জাতীয় পর্যায়ে আইন ও নীতির বাস্তবায়ন এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সহযোগিতা ও অভিজ্ঞতা বিনিময় সব মিলিয়েই গড়ে উঠতে পারে একটি কার্যকর কর্মপন্থা।
আমার বিশ্বাস, দ্য চেস্ট অ্যান্ড হার্ট অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (CHAB)-এর নেতৃত্বে¡ আমাদের এই আলোচনা একদিন একটি ধূমপানমুক্ত, দূষণমুক্ত ও সুস্থ ফুসফুসবান্ধব বাংলাদেশ গড়ে তুলতে সহায়ক হবে।
