নারীর ক্ষমতায়ন ও সামাজিক মর্যাদা প্রতিষ্ঠা, আধুনিক সমাজের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। বাংলাদেশও তার ব্যতিক্রম নয়। ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা অর্জনের পর থেকে, নারীর জীবনমান উন্নয়ন ও ক্ষমতায়নের জন্য বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড এবং রাজনৈতিক অংশগ্রহণে নারীদের দৃশ্যমান অগ্রগতিও হয়েছে। তবে এই অগ্রগতির পাশাপাশি এখনো অসংখ্য সামাজিক প্রতিবন্ধকতা পথ আটকে রেখেছে। এই প্রতিবন্ধকতাগুলো কেবল ব্যক্তিগত বা পারিবারিক পর্যায়ে সীমাবদ্ধ নয়, বরং তা সমাজের গভীরে শিকড় গেড়েছে যা নারীর সামগ্রিক অগ্রগতিকে ব্যাহত করছে। বাংলাদেশের সমাজের মূল ভিত্তি এখনো পিতৃতান্ত্রিক। এই পিতৃতান্ত্রিক মানসিকতা থেকেই একটি কন্যাশিশু তার অধিকার থেকে বঞ্চিত হয়। কন্যাসন্তানের জন্ম এখনো অনেক পরিবারে বিষাদের কারণ। ফলস্বরূপ তাদের শিক্ষা, স্বাস্থ্য এবং অন্যান্য সুযোগ-সুবিধার ক্ষেত্রে অবহেলা করা হচ্ছে। এই বৈষম্য কেবল পরিবারে সীমাবদ্ধ নয় শিক্ষা, কর্মক্ষেত্র এবং রাজনৈতিক অঙ্গনেও বিদ্যমান। পিতৃতন্ত্রের সবচেয়ে গভীর প্রভাব হলো, এটি নারীকে তার নিজস্ব সত্তা থেকে বিচ্ছিন্ন করে ফেলে। তাকে শেখানো হয়, তার জীবনের একমাত্র উদ্দেশ্য হলো একজন ভালো স্ত্রী, মা বা কন্যা হওয়া। ব্যক্তিগত স্বপ্ন, আকাক্সক্ষা এবং প্রতিভা প্রায়ই সমাজের এমন সংকীর্ণ সংজ্ঞার কাছে চাপা পড়ে যায়। নারীকে তার নিজস্ব পরিচয় এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণের স্বাধীনতা থেকে বঞ্চিত করা হয়, যা মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। মনস্তাত্ত্বিকভাবে, দমনমূলক পরিবেশ তাকে আত্মবিশ্বাসী ও স্বাধীন হতে অবিশ^াস্য বাধা দেয়। তখন নিজেকে সে পুরুষের অধীনস্থ মনে করে এবং নিজস্ব অধিকারের স্বাধীনতা হারায়। ফলস্বরূপ বাল্যবিবাহ এখনো একটি বড় সমস্যা। ইউনিসেফের তথ্য অনুযায়ী বাংলাদেশে বাল্যবিবাহের হার বিশে^র অন্যতম সর্বোচ্চ। বাল্যবিবাহের কারণে একটি মেয়ে তার শিক্ষাজীবন থেকে বঞ্চিত হয়, শারীরিক ও মানসিক বিকাশ বাধাগ্রস্ত হয় এবং সে অর্থনৈতিকভাবে পুরুষের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ে। এই অর্থনৈতিক নির্ভরশীলতা তাকে আরও দুর্বল করে তোলে এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতাকে সীমিত করে দেয়।
নারীর অর্থনৈতিক স্বাবলম্বিতা তার মুক্তির অন্যতম চাবিকাঠি। কিন্তু প্রচলিত সমাজ ও আইন নারীর এই স্বাবলম্বিতার পথে বাধা সৃষ্টি করে। মুসলিম উত্তরাধিকার আইনে একজন নারী, তার ভাইয়ের অর্ধেক সম্পত্তি পায়, যা এক ধরনের বৈষম্য। গ্রামাঞ্চলে এই বৈষম্য আরও প্রকট। অনেক ক্ষেত্রে নারীরা তাদের পৈতৃক সম্পত্তির অধিকার থেকে পুরোপুরি বঞ্চিত হয়। হিন্দু উত্তরাধিকার আইনেও, সম্পত্তিতে নারীর অধিকার সীমিত। এই আইনি বৈষম্য নারীর আর্থিক নিরাপত্তাকে দুর্বল করে তোলে। শ্রমিক শ্রেণির কাজের জন্য নারীরা, এখনো পুরুষের চেয়ে কম বেতন পান। নারীদের শ্রমকে এখনো কম গুরুত্বপূর্ণ বা ‘সহায়ক’ হিসেবে দেখা হয়। গত এক বছরে পোশাক খাতে মন্দার কারণে অনেক গার্মেন্টস ফ্যাক্টরি বন্ধ হয়ে গেছে, যার ফলে বিপুল সংখ্যক নারী শ্রমিক বেকার হয়ে পড়েছেন। এই অর্থনৈতিক নিরাপত্তাহীনতা তাদের জীবনকে আরও ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলেছে এবং তাদের ওপর পারিবারিক চাপ ও সহিংসতার ঝুঁকিও বাড়িয়ে দিয়েছে। আর নারীর প্রতি সহিংসতা বাংলাদেশের একটি অন্যতম প্রধান সামাজিক ব্যাধি। এটি কেবল শারীরিক নির্যাতন নয়, বরং মানসিক, অর্থনৈতিক এবং যৌন সহিংসতার রূপ নেয়। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (BBS) ২০১১ সালের জরিপ অনুযায়ী, বাংলাদেশের প্রায় ৮৭% নারী তাদের জীবনে কোনো না কোনো ধরনের পারিবারিক সহিংসতার শিকার হয়েছেন। সাম্প্রতিক সময়ে নারীর প্রতি সহিংসতা, বিশেষ করে ধর্ষণের ঘটনা আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। আইন ও সালিশ কেন্দ্র (ASK)-এর তথ্যমতে, ২০২২ সালের জানুয়ারি থেকে আগস্ট পর্যন্ত ৮ মাসে ৭১৯ জন নারী ধর্ষণের শিকার হয়েছেন এবং ৪৬ জনকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে। ২০২৩ সালে সংখ্যা কিছুটা কমে, ধর্ষণের শিকার হন ৬৫০ জন।
ধর্ষণ কেন হচ্ছে? এর পেছনে প্রধান কারণগুলো হলো আইনের দুর্বল প্রয়োগ, বিচারহীনতার সংস্কৃতি এবং ধর্ষণের শিকার নারীকে দোষারোপ করার প্রবণতা। অনেক ক্ষেত্রে প্রভাবশালী ব্যক্তিরা রাজনৈতিক ক্ষমতা ব্যবহার করে, ধর্ষণের মামলা ধামাচাপা দেয়। রাজনৈতিক ক্ষমতার অপব্যবহারের কারণে, নারীর প্রতি সহিংসতার বিচার প্রক্রিয়া ব্যাহত হয়। অপরদিকে রাজনীতিতে নারীর অংশগ্রহণ বাড়লেও, রাজনৈতিক অঙ্গনেও নারীর প্রতি সহিংসতা এবং অমর্যাদাকর আচরণ একটি বড় সমস্যা। রাজনৈতিক সভা-সমাবেশে নারীকর্মীদের অশ্লীল মন্তব্য, শারীরিক হয়রানি এবং আক্রমণের শিকার হতে হয়। অনেক ক্ষেত্রে রাজনৈতিক ক্ষমতা ব্যবহার করে নারীর ওপর অন্যায্য প্রভাব খাটানো হয়। রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে হেয় করার জন্য নারী রাজনীতিবিদ বা কর্মীদের ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে কুৎসা রটানো হয় যা তাদের রাজনৈতিক জীবনকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। বিভিন্ন নির্বাচনে নারী প্রার্থীদের বিরুদ্ধে অশালীন ভাষা ব্যবহার করা হয় এবং তাদের চারিত্রিক সনদ নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়। এসব ঘটনা নারীর রাজনৈতিক অংশগ্রহণে এক ধরনের ভয়ের পরিবেশ তৈরি করে। উদাহরণস্বরূপ, বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মসূচিতে নারী নেত্রীদের শারীরিক ও মৌখিকভাবে লাঞ্ছিত হওয়ার ঘটনা অহরহ ঘটছে। নারী নেত্রীরা প্রায়ই প্রতিপক্ষের দ্বারা অশালীন মন্তব্যের শিকার হয়ে চুপ থাকেন। ফলে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে তাদের অংশগ্রহণ সীমিত হয়ে পড়ে। রাজনৈতিক দলগুলোও অনেক সময় নারীর সম্মান রক্ষায় পর্যাপ্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করে না। বরং অনেক ক্ষেত্রে এ ধরনের আচরণকে নিরবচ্ছিন্নভাবে সমর্থন করা হয়। ২০২৩ সালের নভেম্বরে, বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও সাবেক সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানাকে উদ্দেশ করে তৎকালীন একজন নেতা জনসমক্ষে অশালীন মন্তব্য করেন। এ ধরনের আক্রমণ শুধু ব্যক্তিগত অসম্মান নয়, বরং রাজনৈতিক অঙ্গনে নারী নেতৃত্বকে নিরুৎসাহিত করার একটি পরিকল্পিত প্রচেষ্টা। সম্প্রতি, এনসিপি নেত্রী ডা. তাসনিম জারাকে যুক্তরাষ্ট্রে বিমানবন্দরে হেনস্তা করার ঘটনাও সামনে আসে, যা রাজনৈতিকভাবে ভিন্নমতের কারণে হয়রানির একটি উদাহরণ। ঘটনাগুলো প্রমাণ করে যে, রাজনৈতিকভাবে ক্ষমতাশালী ব্যক্তিরা যখন নারীর সম্মান ও পেশাদারত্বকে আঘাত করে, তখন সমাজের অন্যরা একই ধরনের আচরণ করতে উৎসাহিত হয়। এ ধরনের অসম্মানজনক আচরণ নারীর সামাজিক মর্যাদা এবং রাজনৈতিক অংশগ্রহণের পথে বড় বাধা। পারিবারিক সহিংসতা, বিশেষ করে, স্বামী কর্র্তৃক স্ত্রীকে হত্যা করার ঘটনাও আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। আইন ও সালিশ কেন্দ্র (অঝক)-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৪ সালের জানুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত ৭ মাসে ১৩৩ জন নারীকে তাদের স্বামী কর্তৃক খুন করা হয়েছে। অর্থাৎ এ সময়ে প্রতি মাসে গড়ে প্রায় ১৯ জন নারী তাদের স্বামীর হাতে খুন হয়েছেন। এই হত্যাকাণ্ডের প্রধান কারণ হলো যৌতুক সংক্রান্ত বিবাদ, পারিবারিক কলহ এবং পরকীয়ার সন্দেহ। পরিসংখ্যানগুলো প্রমাণ করে যে, অসংখ্য নারীর জন্য তাদের নিজের বাড়িই সবচেয়ে অনিরাপদ জায়গা। বিভিন্ন সময় ফতোয়ার নামে নারীর শিক্ষা, কর্মসংস্থান এবং চলাফেরার স্বাধীনতা কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। গ্রামীণ অঞ্চলে এ ধরনের ঘটনা বেশি দেখা যায়। যেখানে ভুয়া ফতোয়ার মাধ্যমে সালিশ ডেকে নারীদের ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করা হয়। ধর্মীয় রক্ষণশীলতা নারীকে ঘরের কোণে আটকে রাখতে চায়, যা তাদের সামাজিকীকরণের সুযোগ সীমিত করে দেয়। মৌলবাদী গোষ্ঠীগুলো নারীর নেতৃত্ব অস্বীকার করে এবং সমাজের সর্বত্র পুরুষের নিরঙ্কুশ ক্ষমতা প্রতিষ্ঠা করতে চায়। এ ধরনের কথা স্পষ্টভাবেই অনেক আগে বেগম রোকেয়া বলে গেছেন।
আধুনিক প্রযুক্তির ব্যাপক ব্যবহার এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের সহজলভ্যতা সত্ত্বেও, এটি নারীর প্রতি সহিংসতা ও অসম্মানকে নতুন মাত্রা দিয়েছে। অনলাইনে বুলিং, ট্রোলিং এবং ‘স্ল্যাট-শেমিং’ নারীর অগ্রগতির অন্যতম প্রধান অন্তরায় হয়ে উঠেছে। নারীরা যখন অনলাইনে নিজেদের মতামত প্রকাশ করেন বা সফল হন, তখন একদল মানুষ তাদের চরিত্র নিয়ে প্রশ্ন তোলে, কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করে এবং ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে আক্রমণ করে। এর ফলে অনেক নারী তাদের ডিজিটাল স্পেস থেকে নিজেদের গুটিয়ে নিতে বাধ্য হন, যা তাদের কণ্ঠস্বরকে সীমিত করে দেয়। এ ধরনের অনলাইন হয়রানি নারীর মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর ব্যাপক নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে এবং তাদের আত্মবিশ্বাস নষ্ট করে দিচ্ছে। সামাজিক প্রতিবন্ধকতা ও বৈষম্য নারীর মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর গভীর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। সমাজে নারীর ভূমিকাকে সংকীর্ণ সংজ্ঞায়িত করার ফলে তাদের মধ্যে হতাশা, উদ্বেগ এবং আত্মবিশ্বাসের অভাব দেখা দেয়। পুরুষতান্ত্রিক সমাজে মানসিক চাপকে প্রায়ই দুর্বলতার লক্ষণ হিসেবে দেখা হয়, যা নারীদের জন্য আরও কঠিন পরিস্থিতি তৈরি করে। যে কারণে তারা মানসিক স্বাস্থ্যবিষয়ক সহায়তা চাইতে সংকোচ বোধ করেন। বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, পারিবারিক বা কর্মক্ষেত্রে সহিংসতার শিকার নারীদের মধ্যে মানসিক অসুস্থতার হার অনেক বেশি। মানসিক স্বাস্থ্যের এই সংকট নারীর উৎপাদনশীলতা এবং সামগ্রিক জীবনযাত্রার মানকে ব্যাপকভাবে প্রভাবিত করতে পারে। গত এক দশকে বাংলাদেশের শিক্ষাক্ষেত্রে নারীর অংশগ্রহণে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে, কিন্তু কিছু চ্যালেঞ্জ এখনো বিদ্যমান। মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক স্তরে নারী শিক্ষার্থীর সংখ্যা বৃদ্ধি পেলেও, শিক্ষার মান এবং বিষয়ভিত্তিক বৈচিত্র্যের ক্ষেত্রে এখনো অনেক ঘাটতি রয়েছে। বিশেষ করে বিজ্ঞান ও কারিগরি শিক্ষার মতো কর্মসংস্থান-নির্ভর ক্ষেত্রগুলোতে নারীর অংশগ্রহণ এখনো সীমিত।
কর্মজীবী নারীদের জন্য কর্মক্ষেত্রের পরিবেশ পুরোপুরি নিরাপদ ও সহায়ক নয়। কর্মক্ষেত্রে শিশু দিবাযত্ন কেন্দ্র (ডে কেয়ার), নিরাপদ যাতায়াত এবং মাতৃত্বকালীন ছুটির সঠিক বাস্তবায়ন এখনো বড় চ্যালেঞ্জ। প্রাতিষ্ঠানিক সহায়তা ছাড়া নারীর পক্ষে কর্মজীবন এবং পারিবারিক জীবনের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করা কঠিন হয়ে পড়ে, যা তাদের পেশাগত অগ্রগতিকে বাধাগ্রস্ত করছে। বিশ্বব্যাংকের এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, বাংলাদেশে মাধ্যমিক শিক্ষায় লিঙ্গ সমতা অর্জিত হলেও, উচ্চ শিক্ষায় নারীর অংশগ্রহণ এখনো পুরুষের তুলনায় কম। শিক্ষা কেবল একটি ডিগ্রি নয়, এটি নারীর ক্ষমতায়নের একটি শক্তিশালী হাতিয়ার। শিক্ষার অভাব নারীকে অধিকার সম্পর্কে অজ্ঞ করে তোলে এবং শোষণ ও বঞ্চনার শিকার হওয়ার ঝুঁকিতে ফেলে দেয়। এ ছাড়া সমাজের সাধারণ মানুষের মধ্যে নারীর অধিকার সম্পর্কে সচেতনতার অভাবই একটি বড় প্রতিবন্ধকতা। পুরুষতান্ত্রিক মানসিকতা এতটাই গভীর যে, অনেক পুরুষ নারীর সমান অধিকারকে হুমকি হিসেবে দেখে। এ রকম মানসিকতা পরিবর্তন না হলে, নারীর প্রতি বৈষম্য দূর করা সম্ভব নয়। মূলত নারীর সামাজিক প্রতিবন্ধকতা দূর করতে হলে কেবল আইন প্রণয়নই যথেষ্ট নয়, বরং এর বাস্তব প্রয়োগ এবং সমাজের মানসিকতার আমূল পরিবর্তন অপরিহার্য। রাজনৈতিক দল, সুশীল সমাজ, গণমাধ্যম এবং প্রতিটি পরিবারকে নারীর প্রতি সম্মান ও সমানাধিকার নিশ্চিত করার জন্য কাজ করতে হবে। বাল্যবিবাহ, যৌতুক প্রথা এবং নারীর প্রতি সহিংসতা বন্ধে কঠোর আইন প্রয়োগের পাশাপাশি ব্যাপক সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধির ক্ষেত্রে মিডিয়ার সহায়তা নেওয়া দরকার। এই কাজটি সফলভাবে করতে হলে, উদ্যোগ নিতে হবে সরকারকেই। শিক্ষা, স্বাস্থ্য এবং অর্থনৈতিক সুযোগ-সুবিধায় নারীর পূর্ণ প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করা জরুরি। নারীকে কেবল ঘরের কাজ নয়, বরং রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণেও সমান অংশীদারত্ব দিতে হবে। একটি সত্যিকারের সমতাপূর্ণ সমাজ প্রতিষ্ঠা করা তখনই সম্ভব হবে, যখন নারী তার পূর্ণ সম্ভাবনা, নিজস্ব চিন্তা, কোনো ধরনের বাধা ছাড়াই পূর্ণাঙ্গভাবে বিকশিত করতে পারবে।
লেখক: কলাম লেখক ও সিইও ইটিসি ইভেন্টস লিমিটেড
