বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ক্ষমতায় গেলে দাবি আদায়ে জনগণকে রাস্তায় নামতে হবে না বলে মন্তব্য করেছেন দলটির আমির ডা. শফিকুর রহমান। গতকাল শনিবার রাজধানীর কাকরাইলে অবস্থিত ইনস্টিটিউট অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স বাংলাদেশ ভবনে ফোরাম অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স বাংলাদেশের (এফডিইবি) বার্ষিক কাউন্সিল অধিবেশনে তিনি এ কথা বলেন। জামায়াতের আমির বলেন, ‘তরুণরা যেন যোগ্যতা অনুযায়ী কাজের সুযোগ পান, সেই পরিবেশ গত অর্ধশতাব্দীতেও গড়ে তোলা সম্ভব হয়নি বিগত সরকারগুলোর ব্যর্থতার কারণে। জনগণের সহযোগিতায় জামায়াত একটি ঘুণে ধরা বাংলাদেশকে নতুন করে গড়ে তুলতে চাই।’
তিনি বলেন, ‘এমন শিক্ষা আর দেওয়া হবে না, যা মানুষকে পিছিয়ে দেয়। যারা শিক্ষাব্যবস্থার পরিকল্পনার দায়িত্বে আছেন, তাদের সন্তানরাই বিদেশে পড়াশোনা করেন, আর এ কারণেই দেশের শিক্ষাব্যবস্থার এই করুণ অবস্থা তৈরি হয়েছে।’
শফিকুর রহমান বলেন, ‘আমরা বিশ্বাস করি, পাঁচ বছরে উন্নয়নের বুলেট ট্রেন চালু করা সম্ভব না হলেও উন্নয়নের এক্সপ্রেস ট্রেন অবশ্যই চালু করা যাবে। আমরা ক্ষমতায় গেলে সাংবাদিকদের সাহসিকতার বিকাশ ঘটানোর সুযোগ দেব, সেটা আমাদের বিপক্ষে গেলেও।’
তিনটি অঙ্গীকারের কথা তুলে ধরে জামায়াত আমির বলেন, ‘আমাদের প্রধান ফোকাস থাকবে ভাঙাচোরা শিক্ষাব্যবস্থা সংস্কারে। মেরুদ- না থাকলে মানুষ দাঁড়াতে বা বসতে পারে না মেরুদ-হীন হলে মানুষ ফুটবলের মতো এদিক-সেদিক গড়িয়ে যায়। তাই প্রথমেই মেরুদ-ের চিকিৎসা করতে হবে। একইভাবে, যে শিক্ষা অনৈতিকতা বাড়ায়, মানুষকে দুর্নীতিবাজ ও অমানবিক করে তোলে সে শিক্ষা আমরা দেব না। বরং যে শিক্ষা মানুষকে সত্যিকারের মানুষ বানায়, অন্যকে সম্মান করতে শেখায়, সেই শিক্ষাই আমরা আমাদের ছেলেমেয়েদের হাতে তুলে দেব।’
জামায়াত আমির বলেন, নৈতিক ও বৈষয়িক শিক্ষার সমন্বয় তৈরি করা হবে, যাতে শিক্ষার পাঠ শেষ করার পর প্রত্যেকে তার যোগ্যতা অনুযায়ী কাজ পেতে পারে। কেউ বেকার থাকবে না; প্রত্যেকে হয় উদ্যোক্তা হবে, নয়তো চাকরিজীবী। দ্বিতীয় অঙ্গীকারের বিষয়ে তিনি বলেন, শুধু ডিগ্রির ভিত্তিতে কারও মর্যাদা নির্ধারণ হবে না; কাজের দক্ষতা ও ফলাফলের ভিত্তিতেই মর্যাদা দেওয়া হবে।
তৃতীয় অঙ্গীকারের কথা তুলে ধরে জামায়াত আমির বলেন, দুর্নীতির প্রবাহ বন্ধ করা হবে। এটা শুনে অনেকের হৃদয় ধড়ফড় করছে, কারণ অনেকে এভাবেই চলেন। এ ছাড়া যে সার্ভিসের গভীরতা ও দায়িত্বের পরিমাণ আছে, তার অনুযায়ীই বেতন কাঠামো নির্ধারণ করা হবে।
পুলিশের উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, পুলিশের ২৪ ঘণ্টা ডিউটি। কখন ডাক পড়ে ঠিক নেই। অস্ত্র হাতে থাকলেও তাকে ঝুঁকি নিয়েই দায়িত্ব পালন করতে হয়। কারণ প্রতিপক্ষের কাছেও অস্ত্র আছে। কিন্তু তাকে যদি ফকিরের ভিক্ষার মতো বেতন দেওয়া হয়, সে ঝুঁকি নেবে কেন? যে কারণে সমাজের আজকে এ অবস্থা। তাকে তার কাজ অনুযায়ী পারিশ্রমিক বা বেতন দেওয়া উচিত। অথচ আমাদের এখানে ‘বেড়াই সব ধান খেয়ে ফেলছে’ অবস্থা।
এফডিইউবির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আব্দুছ ছাত্তার শাহের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় এফডিইউবির কেন্দ্রীয় উপদেষ্টা এটিএম আজহারুল ইসলাম, সাইফুল আলম মিলনসহ আরও অনেকে বক্তব্য রাখেন।
