মুচলেকা দিয়ে আরও বেপরোয়া হন সমন্বয়ক রাব্বী

আপডেট : ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ০৭:৩৫ এএম

চাঁদাবাজির অভিযোগে আটক হয়ে ধানমন্ডি থানায় মুচলেকা দিয়ে ছাড়া পাওয়ার পর আবার বেপরোয়া হয়ে উঠেছেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মোহাম্মদপুর থানার সাবেক সমন্বয়ক সাইফুল ইসলাম রাব্বী (২৮)। গত রবিবার রাতে রাজধানীর মোহাম্মদপুরের বছিলা এলাকায় একটি বেসরকারি ক্লিনিকে চাঁদা দাবির অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়ে তিনি আবার আলোচনায় এসেছেন। এবার তার সঙ্গে আরও চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে মোহাম্মদপুর থানা-পুলিশ। এই পাঁচজনকে গতকাল সোমবার আদালতে হাজির করা হয়েছে এবং আজ মঙ্গলবার তাদের বিরুদ্ধে রিমান্ড শুনানি হবে।

গতকাল সন্ধ্যায় মোহাম্মদপুর থানার ওসি কাজী রফিক জানান, রবিবার রাতে রাব্বী ছাড়াও হাসিবুর রহমান ফরহাদ (৩১), আবদুর রহমান মানিক (৩৭), আবু সুফিয়ান (২৯) এবং মো. শাহিনকে (৩৮) সেনাবাহিনী আটক করে। ভুক্তভোগী ক্লিনিক মালিকের করা চাঁদাবাজির মামলার পরিপ্রেক্ষিতে পুলিশ তাদের গ্রেপ্তার দেখায়।

পুলিশ ও মামলার সূত্রে জানা গেছে, গত রবিবার রাতে মোহাম্মদপুরের বছিলা এলাকায় অবস্থিত একটি ক্লিনিকের মালিক আফরুজা শিল্পীর কাছে রাব্বীর নেতৃত্বে কয়েকজন সমন্বয়ক পরিচয়ে চাঁদা দাবি করেন। এ ঘটনায় আফরুজা শিল্পী বাদী হয়ে মোহাম্মদপুর থানায় মামলা করেন। এরপর এ মামলায় তাদের গ্রেপ্তার দেখিয়ে রিমান্ডের আবেদন করা হয়।

মামলার বিবরণ থেকে জানা যায়, গত ২০ সেপ্টেম্বর রাত সাড়ে ১২টার দিকে মোহাম্মদপুরের ‘সেইফ হাসপাতাল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার’-এ শাহিন তার গর্ভবতী স্ত্রীকে নিয়ে সন্তান প্রসবের জন্য আসেন। শিশুর অবস্থা খারাপ দেখে হাসপাতাল কর্র্তৃপক্ষ তাদের অন্য হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেয়। কিন্তু শাহিনের অনুরোধে হাসপাতাল কর্র্তৃপক্ষ তার স্ত্রীর প্রসবের ব্যবস্থা করে। চিকিৎসা চলাকালে তার স্ত্রী স্বাভাবিক প্রসবের মাধ্যমে একটি মৃত ছেলে সন্তান জন্ম দেন। হাসপাতাল কর্র্তৃপক্ষ বিষয়টি শাহিনকে জানায়। তিনি চিকিৎসার খরচ দিতে চাইলেও মানবিক কারণে হাসপাতাল কর্র্তৃপক্ষ কোনো ফি না নিয়ে তাদের ছাড়পত্র দেয়। এরপর গত ২২ সেপ্টেম্বর দুপুর ২টার দিকে আসামিরা হাসপাতালে এসে শিশুমৃত্যুর ঘটনায় মামলা না করার জন্য আফরুজা শিল্পীর ছেলে আবু সাইদের কাছে ৩ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে আসামিরা হাসপাতালের মেশিন ও সিসিটিভি ক্যামেরা ভাঙচুর করে প্রায় দেড় লাখ টাকার ক্ষতি করেন। একপর্যায়ে আসামিরা আবু সাইদকে তুলে নিয়ে হত্যার হুমকি দেন। ভয়ে তিনি ১ লাখ ২০ হাজার টাকা দিলে আসামিরা চলে যান এবং বাকি টাকা দ্রুত পরিশোধ করতে বলেন। এরপর বিভিন্ন সময় আসামিরা মোবাইল ফোনে বাকি টাকা দ্রুত পরিশোধের জন্য চাপ দেন এবং না দিলে একাধিক মামলা দিয়ে হয়রানির হুমকি দেন। গত রবিবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে আসামিরা মোবাইলে কল করে হাজারীবাগের পশ্চিম ধানম-ি ৫ নম্বর সড়কের ব্লক-এ, বছিলা আবাসিক এলাকার হাউজিং অফিসে ডেকে নিয়ে ১ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেন এবং বাকি টাকা দ্রুত না দিলে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি দেন। আফরুজা শিল্পী বিষয়টি মৌখিকভাবে সেনাবাহিনী ও পুলিশকে জানালে তারা দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে যৌথ অভিযান চালিয়ে আসামিদের আটক করে থানায় নিয়ে যায়।

পুলিশ জানায়, আটক সাইফুল ইসলাম রাব্বী মোহাম্মদপুর থানায় একটি চাঁদাবাজি মামলার চতুর্থ আসামি। তিনি দীর্ঘদিন পলাতক ছিলেন। তিনি বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মোহাম্মদপুর থানার সমন্বয়ক ছিলেন। পরে চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন অভিযোগে তাকে সংগঠনের কমিটি থেকে বহিষ্কার করা হয়।

এর আগে, গত ১৯ মে রাতে ধানমন্ডিতে আওয়ামী লীগের দোসর হিসেবে অভিযুক্ত করে হাক্কানী পাবলিশার্সের চেয়ারম্যান গোলাম মোস্তফার বাসা ঘেরাও করেন উত্তেজিত জনতা ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কর্মীরা। তারা জোর করে বাসায় প্রবেশের চেষ্টা করেন। ৯৯৯-এ কল করে পরিস্থিতি জানানোর পর পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌাঁছয়। গোলাম মোস্তফাকে গ্রেপ্তারে চাপ দেওয়া এবং পুলিশের সঙ্গে বাগবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন উপস্থিত কয়েকজন। এ ঘটনায় ধানম-ি থানা-পুলিশ বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের তৎকালীন সমন্বয়ক সাইফুল ইসলাম রাব্বীসহ কয়েকজনকে হেফাজতে নেয়। পরদিন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম নেতা আব্দুল হান্নান মাসউদ ধানম-ি থানায় উপস্থিত হয়ে মুচলেকার মাধ্যমে রাব্বীসহ অন্যদের মুক্ত করেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত