নরসিংদীতে দুপক্ষের সংঘর্ষে যুবদল নেতা নিহত

আপডেট : ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ০৭:৩৫ এএম

নরসিংদীর দুর্গম চরাঞ্চল আলোকবালিতে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই দল গ্রামবাসীর মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। এতে গুলিতে অলোকবালি ইউনিয়ন যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক সাদেক মিয়া নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন ১০ জন। গতকাল সোমবার সকালে এ ঘটনা ঘটে।

সাদেক মিয়া আলোকবালি ইউনিয়নের মুরাদনগর গ্রামের রুপ মিয়ার ছেলে। আহতরা হলেন এবাদুল মিয়া (২২), হানিফা (৫০), ওমর ফারুক (৩৮), ফারুক মিয়া (৩২), রমজান (৩২) মুরাদ (২৩), আবু বক্কর (২৫), সুলতান (৫০) ও হোসাইন (২৫)। তাদের মধ্যে গুরুতর অবস্থায় পাঁচজনকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

পুলিশ ও নিহতের স্বজনরা জানিয়েছে, এলাকার আধিপত্য বিস্তার ও মেঘনা নদী থেকে বালু উত্তোলনকে কেন্দ্র করে সদর উপজেলার দুর্গম চরাঞ্চল আলোকবালি ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব আব্দুল কাইয়ুমের সঙ্গে ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি শাহআলমের দ্বন্দ্ব চলে আসছিল। এরই মধ্যে গত বছরের ৫ আগস্টের পর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী ও সমর্থকরা এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যায়। চলতি মাসের ১৮ তারিখ আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট আসাদ আলী ও তার গ্রুপের সদস্যরা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি শাহআলমের সমর্থন নিয়ে এলাকায় প্রবেশ করে। ওই সময় দুপক্ষের সংঘর্ষে ইদন মিয়া নামে এক বিএনপি কর্মী নিহত হন। এরপর থেকে অ্যাডভোকেট আসাদ আলীর সমর্থকরা এলাকায় অবস্থান করছিল। এরই মধ্যে গতকাল সকালে এলাকার আধিপত্য বিস্তার নিয়ে দুপক্ষ সংঘর্ষে জড়ায়। এতে প্রতিপক্ষের ছোড়া গুলিতে অলোকবালি ইউনিয়ন যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক সাদেক মিয়া গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন। আহতদের উদ্ধার করে সদর হাসপাতালসহ বিভিন্ন হাসপাতালে পাঠানো হয়। খবর পেয়ে সদর মডেল থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

নরসিংদী সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকের অফিসার ডা. ফরিদা গুলশানারা কবির জানান, নিহত সাদেক মিয়ার গলার ওপরের অংশে গুলির চিহ্ন রয়েছে। লাশটি ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। এসব বিষয়ে জানতে দুপক্ষের প্রধান শাহ আলম চৌধুরী ও কাইয়ুম মিয়ার সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

এ ব্যাপারে নরসিংদীর পুলিশ সুপার মো. মেনহাজুল আলম জানান, নদীপথে একটি গ্রুপ ভোরবেলায় আলোকবালি ইউনিয়নের মুরাদনগর গ্রামের বসতবাড়িতে হামলা করার উদ্দেশ্যে গেলে প্রতিপক্ষের লোকজন বাধা সৃষ্টি করে। এ সময় দুপক্ষের গোলাগুলিতে একজন নিহত হন। পুলিশ খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে যায়। সঙ্গে র‌্যাব ও সেনাবাহিনীর সদস্যরাও সেখানে রয়েছেন। ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। বর্তমানে এলাকার পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।

এর আগে একই ইউনিয়নের আধিপত্য বিস্তার নিয়ে দুপক্ষের পৃথক সংঘর্ষের ঘটনায় ইদন মিয়া ও ফেরদৌসী বেগম নামে দুজন নিহত হন। এ ঘটনায় এই নিয়ে তিনজন নিহত হওয়ার পাশাপাশি বেশ কয়েকজন আহত হন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত