ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা মেজর জেনারেল ইয়াহিয়া রাহিম সাফাভি তেহরানকে পাকিস্তান ও সৌদি আরবের মধ্যে স্বাক্ষরিত প্রতিরক্ষা চুক্তিতে অন্তর্ভুক্ত হওয়ার প্রস্তাব দিয়েছেন।
তিনি বলেন, ইরান, সৌদি আরব, পাকিস্তান ও ইরাক একটি সম্মিলিত নিরাপত্তা চুক্তি করতে পারে।
তেহরান টাইমসের খবরে বলা হয়েছে, ইরানি বিপ্লবী গার্ডের জেনারেল সাফাভি ইসলামাবাদ ও রিয়াদের মধ্যে স্বাক্ষরিত ‘কৌশলগত পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তি’র (এসএমডিএ) কথা বলেছেন।
এই চুক্তি অনুযায়ী, এক দেশের ওপর যে কোনো আক্রমণকে অন্যদেশের বিরুদ্ধে আক্রমণ হিসেবে গণ্য করা হবে। সাফাভি এক টেলিভিশন সাক্ষাৎকারে বলেন, আমরা এই চুক্তিকে ইতিবাচকভাবে দেখি। পাকিস্তান জানিয়েছে, অন্য দেশও এই প্রতিরক্ষা চুক্তিতে যোগ দিতে পারবে।
তিনি সুপারিশ করেন, ইরানও এতে অংশগ্রহণ করুক। ইরান, সৌদি আরব, পাকিস্তান ও ইরাক একসঙ্গে একটি যৌথ চুক্তির দিকে এগোতে পারে। যদিও সৌদি আরব ও পাকিস্তান যুক্তরাষ্ট্রের অনুমতি ছাড়া এ ধরনের চুক্তি করবে না, তবু আমাদের একটি আঞ্চলিক শক্তি হিসেবে প্রস্তুতি ঘোষণা করা উচিত। এটা আমাদের সামরিক কূটনীতি ও পররাষ্ট্রনীতির অংশ।
সৌদি আরবের ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমান এবং পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফের মধ্যে সম্প্রতি এই চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। কাতারে ইসরায়েলের হামলার পর আঞ্চলিক কূটনৈতিক হিসাব পরিবর্তনের ঠিক এক সপ্তাহ পর এই চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।
কিছু আন্তর্জাতিক মিডিয়ায় এই চুক্তি নিয়ে আলোচনায় বলা হয়, পাকিস্তানের পারমাণবিক কর্মসূচিও এতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। তবে পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ জোর দিয়ে বলেন, চুক্তির আওতায় সৌদি আরবের কাছে কোনো পারমাণবিক অস্ত্র বিক্রি করবে না পাকিস্তান।
বিশ্লেষকরা চুক্তিটিকে ঐতিহাসিক ও অপ্রত্যাশিত উন্নয়ন হিসেবে উল্লেখ করেছেন। এই চুক্তি দুটি দেশের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে আনুষ্ঠানিক নিরাপত্তা অঙ্গীকারে উন্নীত করেছে।
