শারজায় ইতিহাস গড়ল নেপাল। ওয়েস্ট ইন্ডিজকে সইতে হয়েছে আরেকটি নতুন লজ্জা। নেপালের কাছে মাত্র ৮৩ রানে অলআউট হয়ে গেছে ক্যারিবীয়রা। সোমবার দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টিতে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ৯০ রানে হারিয়ে নেপাল তুলে নেয় টেস্ট খেলুড়ে কোনো দেশের বিপক্ষে প্রথম ঐতিহাসিক দ্বিপক্ষীয় সিরিজ জয়।
বিশ্ব র্যাংকিংয়ে ১৮ নম্বরে থাকা নেপাল এর আগে কখনো পূর্ণ সদস্য কোনো দলের সঙ্গে টি-টোয়েন্টি সিরিজ খেলেনি। কিন্তু এবার সিরিজে এক ম্যাচ বাকি থাকতেই জয় নিশ্চিত করে দেশটি। ওয়েস্ট ইন্ডিজের ৮৩ রান কোনো পূর্ণ সদস্য দলের সহযোগী সদস্যের বিপক্ষে করা সবচেয়ে কম স্কোর। আর নেপালের ৯০ রানের জয় ব্যবধানও হলো সহযোগী দলের পক্ষে পূর্ণ সদস্যকে হারানোর সবচেয়ে বড় জয়।
এর আগে ওয়েস্ট ইন্ডিজ টেস্ট দল অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে জুলাইয়ে মাত্র ২৭ রানে গুঁড়িয়ে গিয়ে লজ্জাজনকভাবে হেরেছিল। সেটি টেস্ট ইতিহাসের দ্বিতীয় সর্বনিম্ন স্কোর এবং ১৯৫৫ সালের পর সবচেয়ে কম রান। ৩-০ ব্যবধানে সেই সিরিজ হারের পর ওয়েস্ট ইন্ডিজ ক্রিকেট বোর্ড জরুরি সভা ডেকে স্যার ভিভ রিচার্ডস, স্যার ক্লাইভ লয়েড ও ব্রায়ান লারার মতো কিংবদন্তিদের পরামর্শ নিয়েছিল। তাছাড়া ওয়েস্ট ইন্ডিজ ২০২৩ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপে জায়গা করে নিতে ব্যর্থ হয়। এমনকি ২০২৭ আসরের যোগ্যতা অর্জনের অবস্থানেও বর্তমানে নেই।
শারজায় নেপাল প্রথমে ব্যাট করে ২০ ওভারে ৬ উইকেট হারিয়ে তোলে ১৭৩ রান। আসিফ শেখ ও সানদিপ জোরার মধ্যে চতুর্থ উইকেটে গড়া ১০০ রানের জুটি দলকে এ স্কোর এনে দেয়। পাঁচ ছক্কা জোরা খেলেন ৩৯ বলে ৬৩ রানের ইনিংস। ওপেনিংয়ে নেমে আসিফ অপরাজিত থাকেন ৪৭ বলে ৬৮ রান করে। জবাবে টি-টোয়েন্টি র্যাংকিংয়ে ছয় নম্বরে থাকা ওয়েস্ট ইন্ডিজ শুরু থেকেই ধুঁকতে থাকে। মাত্র তিনজন ব্যাটার দুই অঙ্কের ঘরে পৌঁছান। ১২তম ওভারে ৪ উইকেটে ৬৩ রান থেকে বাকিরা গুঁড়িয়ে যান ৮৩ রানেই। নেপালের আদিল আলম ২৪ রানে ৪টি এবং কুশল ভুরটেল ১৬ রানে ৩ শিকার ধরেন। অস্ট্রেলিয়ান কোচ স্টুয়ার্ট ল-এর তত্ত্বাবধানে থাকা নেপাল আগামী মাসে ২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের বাছাইপর্বে খেলবে। এর আগে ২০১৪ এবং ২০২৪ আসরেও অংশ নিয়েছিল হিমালয়ানরা।
নেপাল অধিনায়ক রোহিত পওডেল বলেন, ‘আমরা ভীষণ খুশি। টেস্ট খেলুড়ে দলের বিপক্ষে ম্যাচ জেতাই কঠিন, আর দুদিনের ব্যবধানে সিরিজ জিতে ফেলাটা সত্যিই দারুণ লাগছে। আসিফ আর জোরা যেভাবে খেলেছে, বিশেষ করে জোরা যেভাবে চাপ সামলে ইনিংসটা এগিয়েছে, সেটা আসিফকে বড় ইনিংস খেলতে সাহায্য করেছে। এই সিরিজটা আমাদের জন্য ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ ছিল, বিশ্ব ক্রিকেটকে দেখানোর জন্য যে নেপালও এই জায়গার অংশীদার। অনেক চোখ এখন আমাদের দিকে, আমরা চাই টেস্ট খেলুড়ে দলের বিপক্ষে আরও বেশি সিরিজ খেলতে। সিরিজটা ক্লিন সুইপ করাই এখন আমাদের লক্ষ্য। যদি নতুনভাবে শুরু করি, তবে সেই ধারা ধরে রেখে বাছাইপর্বে যাব এবং ২০২৬ বিশ্বকাপে কোয়ালিফাই করার চেষ্টা করব।’
পুরস্কার বিতরণীতে জনপ্রিয় ধারাভাষ্যকার ও সাবেক ক্যারিবীয় ক্রিকেটার ইয়ান বিশপ কথা বলা শুরু করেন ‘হ্যান্ডশেক’ করে। নেপালের অধিনায়ককে তিনি বলেন, ‘সাধারণত আমি হ্যান্ডশেক করি না, রোহিত। তবে আপনি এবং আপনার দেশ এটির প্রাপ্য। দারুণ করেছেন! আপনি দুর্দান্ত একজন অধিনায়ক। সামনের ম্যাচের জন্য শুভকামনা।’
