প্রবাসী শ্রমিকের কষ্ট মাও বুঝে না, প্রবাসী শ্রমিকের কষ্ট কেউ বুঝে না এমন শিরোনামে সোশ্যাল মিডিয়ায় যত ভিডিও আছে, তা মিলিয়ন মিলিয়ন ভিউ পেয়েছে। আমরা প্রায়ই দেখি, প্রবাসী শ্রমিকের স্ত্রী চলে গেছে। ছেলে-মেয়ে বড় হয়েছে, কিন্তু বাবা তাদের কাছে নেই। কেউ প্রবাসে থাকাকালে মা হারিয়েছেন, শেষবারের মতো তাকে দেখার সুযোগ পাননি। প্রবাসী শ্রমিকরা পরিবারের জন্য নিজের সুখ-শান্তি, আরাম-আয়েশ সব ত্যাগ করে টাকা বাঁচিয়ে প্রিয়জনদের পাঠান। কিন্তু কেউ সত্যিই কি বোঝে সেই কষ্ট? চোখের জল, নিঃশ্বাসে লুকানো মনের ব্যথা যা প্রতিদিনের জীবনে ধীরে ধীরে কষ্টের পাহাড়ে পরিণত হয় সেটা কি কেউ অনুভব করে? না, কেউ অনুভব করে না। এই ত্যাগ, অদৃশ্য ভালোবাসা আর নীরব ব্যথায় বোনা হয়েছে প্রবাসী শ্রমিকের জীবনের গল্প। যে গল্পের পাঠক শুধুই তারা না রাষ্ট্র, সমাজ ও পরিবার-পরিজন। ভিনদেশে স্বপ্নের সন্ধানে পাড়ি দিতে গিয়ে দালালের খপ্পরে পড়ে জমিজমা, ঘরবাড়ি, এমনকি জীবনের শেষ সম্বলটুকুও হারিয়েছেন অসংখ্য প্রবাসগামী শ্রমিক তবুও বেঁচে আছেন। কিন্তু অনেকেই মৃত্যুর মুখে পতিত হয়েছেন। শত শত শ্রমিক সমুদ্রপথে, জঙ্গলে কিংবা অচেনা দেশে প্রাণ হারিয়েছেন অথচ তাদের স্বপ্নভঙ্গের দায় নেয়নি কেউ। আন্তর্জাতিক সংস্থা ও গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে দেখা যায়, ২০১৫ সালে ভূমধ্যসাগরে নৌকাডুবিতে প্রায় ৩,৭৭১ অভিবাসী মারা যায়, ২০১৯ সালে তিউনিসিয়ার উপকূলে নৌকাডুবিতে অন্তত ৬৫ বাংলাদেশি মারা যায়। ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে লিবিয়া থেকে ইউরোপগামী নৌকাডুবিতে ৯ জন (৮ বাংলাদেশি) প্রাণ হারান এবং একই বছরে আরও ২৩ জন বাংলাদেশির মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়। সামগ্রিকভাবে, ২০১৪ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত প্রায় ২৮৩ বাংলাদেশি শ্রমিক সমুদ্রপথে প্রাণ হারিয়েছেন বা নিখোঁজ হয়েছেন। দালালচক্র ভাঙা, নিরাপদ সরকারি চ্যানেল নিশ্চিত করা, তথ্যভিত্তিক তদারকি এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতা জোরদার করাই এখন সময়ের দাবি। নইলে সমুদ্র, মালয়েশিয়ার জঙ্গল ও দালালের ফাঁদে প্রতিনিয়ত নতুন কবর গড়ে উঠবে।
আমাদের অর্থনীতি যে স্থিতিশীল এবং গ্রামীণ জীবনমান যে উন্নত হয়েছে, তার পেছনে সবচেয়ে বড় অবদান রাখছেন প্রবাসী শ্রমিকরা। তাদের কঠোর শ্রম, আত্মত্যাগ এবং সঞ্চিত রেমিট্যান্স বাংলাদেশের অর্থনীতির রক্ত সঞ্চালনের মতো কাজ করছে এবং দেশের অর্থনীতিকে জীবন্ত রাখছে। ২০২২ অর্থবছরে প্রবাসী শ্রমিকরা প্রায় ২২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন। ২০২৩ সালে বাংলাদেশের রেমিট্যান্স আয় হয়েছে ২৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা দেশের মোট জিডিপির ১২ শতাংশ। এই অর্থ দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ, আমদানি ব্যয়, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প এবং গ্রামীণ অর্থনীতির স্থিতিশীলতা রক্ষায় অপরিসীম ভূমিকা রাখছে। বাংলাদেশ ব্যাংক ও বিভিন্ন অর্থনৈতিক সূচকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে দেশে প্রবাসী আয় বা রেমিট্যান্স এসেছে প্রায় ২৬.৯ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা আগের বছরের তুলনায় উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি। শুধু তাই নয়, ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে এক মাসেই এসেছে ২.৬৪ বিলিয়ন ডলার, যা দেশের ইতিহাসে একক মাসে সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স প্রবাহ। রেমিট্যান্স দেশে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প খাতকে উদ্দীপিত করে, যা স্থানীয় কর্মসংস্থান সৃষ্টি করে। অনেক পরিবার প্রবাসীদের পাঠানো অর্থ বিনিয়োগ করে ছোটখাটো ব্যবসায়। রেমিট্যান্স প্রবাহ টাকার বিপরীতে ডলারের চাহিদা পূরণে সহায়তা করে, যা মুদ্রার মানকে স্থিতিশীল রাখে। এটি মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণেও ভূমিকা রাখে। কভিড-১৯ এর সময়ে রেমিট্যান্স অর্থনীতিকে স্থিতিশীল রাখতে বড় ভূমিকা রেখেছে। প্রবাসীদের পাঠানো অর্থ অর্থনীতির বিভিন্ন সেক্টরে পুনরুজ্জীবন ঘটায়।
বাংলাদেশ থেকে শ্রমিক অভিবাসন মূলত ১৯৭০-এর দশকে শুরু হয়। মধ্যপ্রাচ্যের তেল-সমৃদ্ধ দেশগুলোতে শ্রমশক্তির চাহিদা দেখা দিলে লাখ লাখ তরুণ জীবিকার সন্ধানে দেশ ছেড়ে যায়। তখন থেকেই প্রবাসী শ্রমিকরা বাংলাদেশের অর্থনীতির অন্যতম স্তম্ভ। কিন্তু সাড়ে পাঁচ দশক পার হতে চললেও তাদের জীবন এখনো অনিরাপদ ও ঝুঁকিপূর্ণ। বর্তমানে বাংলাদেশের ১.৫ কোটির বেশি প্রবাসী শ্রমিক কর্মরত। প্রতি বছর প্রায় ৮-১০ লাখ নতুন শ্রমিক বিদেশে যান, প্রধানত মধ্যপ্রাচ্য ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোতে। নারী প্রবাসী শ্রমিকের সংখ্যা প্রায় ২০-২৫ লাখ, যারা কঠোর পরিশ্রম করে পরিবারকে অর্থনৈতিকভাবে সমৃদ্ধ করছেন। তাদের অবদান সামাজিক উন্নয়ন, পরিবার কল্যাণ এবং দেশের মানবসম্পদ বিকাশেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, প্রতি বছর প্রায় ৪-৫ হাজার শ্রমিক বিদেশে মারা যান। শুধু ২০২২ সালে প্রায় ৫ হাজার মরদেহ দেশে ফিরেছে। প্রতিটি মৃত্যুর সঙ্গে ভেঙে যায় একটি পরিবার, অন্ধকারে ডুবে যায় একটি ভবিষ্যৎ। সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, কুয়েত, ওমান এবং মালয়েশিয়ায় ছড়িয়ে আছে তাদের রক্ত-ঘাম-শ্রম। অধিকাংশ মৃত্যু হৃদরোগ ও স্ট্রোকে ৬০-৭০ শতাংশ কারণ দীর্ঘ কাজের চাপ, ১৬-১৮ ঘণ্টা কঠোর পরিশ্রম, দীর্ঘ কর্মঘণ্টা, অনিয়মিত জীবনযাপন এবং পর্যাপ্ত বিশ্রামের অভাব। নির্মাণ ও শিল্প খাতে দুর্ঘটনা, বিস্ফোরণ, নিরাপত্তাহীন পরিবেশে প্রাণ হারানো এবং মানসিক চাপ ও স্বাস্থ্যসেবার অভাব অন্যান্য কারণ। প্রবাসী নারী শ্রমিকদের অবস্থা সবচেয়ে ভয়াবহ। মধ্যপ্রাচ্যের গৃহকর্মী হিসেবে কর্মরত নারীরা প্রায়শই অমানবিক নির্যাতনের শিকার হন। সরকারি ও বেসরকারি তথ্য অনুযায়ী, প্রতি বছর আনুমানিক ৫-৭ হাজার নারী নির্যাতনের শিকার হন। শুধু ২০২২-২৩ সালেই ১২-১৫ হাজার নারী নির্যাতিত হয়ে দেশে ফিরেছেন। অতিরিক্ত কাজ, মারধর, ঘুম বা বিশ্রামের সুযোগ না দেওয়া। গালাগালি, অপমান, ভয়ভীতি প্রদান। গৃহকর্তা বা পরিবারের সদস্যদের দ্বারা যৌন নির্যাতন। এছাড়াও রয়েছে, বেতন আটকে রাখা, পাসপোর্ট জব্দের বিষয়। অনেক নারী দেশে ফিরতে চাইলেও আইনি সহায়তার অভাবে, ভাষাগত প্রতিবন্ধকতা ও দূতাবাসের অনিয়মের কারণে তা সম্ভব হয় না। জীবনের নিরাপত্তা, সামাজিক সুরক্ষা এবং মৃত্যুর পর ক্ষতিপূরণের নিশ্চয়তা নেই। অধিকাংশের জীবনবীমা নেই, পেনশন নেই, স্থায়ী সঞ্চয় প্রকল্প নেই। প্রবাসী শ্রমিকরা বিদেশের বালুকাময় মরুভূমি, নির্মাণশালা, কারখানা কিংবা গৃহকর্মীর অমানবিক পরিবেশে প্রতিদিন ঘাম ও রক্ত ঝরিয়ে দেশের জন্য বৈদেশিক মুদ্রা পাঠাচ্ছেন। তাদের টাকায় জাতীয় অর্থনীতির রিজার্ভ শক্তিশালী হয়, মেগা প্রকল্প দাঁড়ায়, রাজধানীতে আকাশচুম্বী ভবন গড়ে ওঠে। অথচ নির্মম বৈপরীত্য হলো যে শ্রমিকের ঘামে দেশ বেঁচে থাকে, তার নিজের ঘরে ফেরার পর অবস্থা হয় অনিশ্চয়তায় ভরা। অবদান অপরিসীম, কিন্তু প্রতিদান প্রায় নেই বললেই চলে।
গ্রামীণ অর্থনীতিতে প্রবাসী আয়ের প্রভাব আরও গভীর। রেমিট্যান্সের টাকায় গ্রামের মাটির ঘর আজ পাকা ভবনে রূপ নিয়েছে। কৃষক জমি কিনতে পারছেন, ছোট ব্যাবসা দাঁড় করাতে পারছেন, অসংখ্য ছেলে-মেয়ে উচ্চশিক্ষার সুযোগ পাচ্ছে। বিশ্বব্যাংকের তথ্যমতে, রেমিট্যান্সের কারণে দারিদ্র্যের হার প্রায় ৫-৬ শতাংশ কমেছে। অর্থাৎ, দেশের ভেতরে একটি মধ্যবিত্ত শ্রেণি গঠনের প্রক্রিয়াকেও ত্বরান্বিত করছে। কিন্তু এই উজ্জ্বল ছবির বিপরীতে রয়েছে, এক অন্ধকার সম-বাস্তবতা। বিদেশে কর্মরত অবস্থায় অনেক শ্রমিককে প্রতিদিন ১৪-১৬ ঘণ্টা কাজ করতে হয়, ন্যায্য মজুরি পান না, অনেক সময় পাসপোর্ট আটকে রাখা হয় কিংবা মালিকের শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হন। এসব অবস্থায় রাষ্ট্রীয় দূতাবাস ও কূটনৈতিক মিশনগুলো অনেক সময় দায়সারা দায়িত্ব পালন করে, কিন্তু প্রকৃত সুরক্ষা ও সহায়তা দিতে ব্যর্থ হয়। দেশে ফেরার পর শুরু হয় আরেক দুঃসহ অধ্যায়। দশক ধরে বিদেশে রক্ত ঝরিয়ে ডলার আনা শ্রমিক দেশে ফিরে দেখেন, রাষ্ট্র তার জন্য কোনো সম্মানজনক কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা রাখেনি। প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক, পুনর্বাসন প্রকল্প কিংবা দক্ষতা উন্নয়ন কেন্দ্র কাগজে-কলমে থাকলেও বাস্তবে কার্যকারিতা নেই বললেই চলে। সহজ শর্তে ঋণ, ক্ষুদ্র উদ্যোগে বিনিয়োগের সুযোগ কিংবা সামাজিক নিরাপত্তার কাঠামো কার্যকরভাবে বাস্তবায়িত হয়নি। ফলে, প্রবাসী শ্রমিকরা অর্থনীতির জন্য অপরিহার্য হলেও সমাজ ও রাষ্ট্রের কাছে প্রায়ই উপেক্ষিত থেকে যান।
রাষ্ট্র যদি সঠিক পদক্ষেপ গ্রহণ করত, প্রবাসী শ্রমিকরা আরও নিরাপদ, দক্ষ এবং দেশের অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী রাখার যোগ্য হতেন। আইনগত সুরক্ষা নিশ্চিত করা গেলে শ্রমিকরা স্বাচ্ছন্দ্যে বিদেশে কাজ করতে পারবেন। এ জন্য বাধ্যতামূলক বৈধ চুক্তি, দ্রুত আইনি সহায়তা, জীবনবীমা, পেনশন, নিরাপত্তা আইন, স্বাস্থ্যসেবা এবং সুরক্ষা প্রশিক্ষণ অপরিহার্য। বিশেষ করে নারী শ্রমিকদের জন্য সেফ হাউজ, পুনর্বাসন ব্যবস্থা, আইনি সহায়তা ও নির্যাতন প্রতিরোধের কার্যকরী ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে। এটা রাষ্ট্রেরও মানবিক দায়। শ্রমিকদের দক্ষতা উন্নয়ন ও বিদেশে কাজের সুযোগ সম্প্রসারণ আজ সময়ের দাবি। বিদেশি শ্রমবাজারে নতুন দক্ষ শ্রমিকের সুযোগ তৈরি করতে হলে সুষ্ঠু ও বৈধ রিক্রুটমেন্ট প্রক্রিয়া চালু করতে হবে। দালালচক্র ভেঙে ফেলতে হবে, আর নিয়োগকর্তা ও শ্রমিকদের সরাসরি সংযুক্ত করতে হবে। একটি ডিজিটাল রিক্রুটমেন্ট প্ল্যাটফর্ম প্রবাসী শ্রমিকদের প্রতারণা থেকে রক্ষা করবে এবং শ্রমবাজারকে আরও স্বচ্ছ করবে। প্রযুক্তির ব্যবহার এখানে হতে পারে, নানা প্রতারণা থেকে মুক্তির অন্যতম চাবিকাঠি। প্রবাসী শ্রমিকদের জন্য স্মার্ট অ্যাপ, ডিজিটাল আইডি, লাইভ চ্যাট সাপোর্ট ও রেমিট্যান্স ট্র্যাকিং সিস্টেম চালু করা সম্ভব। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক নিরাপত্তা অ্যাপ শ্রমিকদের অবস্থান, স্বাস্থ্য, বেতন, শ্রম শর্তাবলি, নির্যাতন কিংবা বিপদের সংকেত পর্যবেক্ষণ করে তাৎক্ষণিক রিপোর্ট দিতে পারবে। ‘রেড জোন’ শনাক্তকরণ ও সতর্কবার্তা পাঠানোর মাধ্যমে অনেক প্রাণ ও স্বপ্ন বাঁচানো সম্ভব। সামাজিক সুরক্ষা এবং অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য প্রবাসী শ্রমিকদের সঞ্চয় ও বিনিয়োগ প্রকল্প, পরিবার কল্যাণ প্রকল্প, দুর্ঘটনা ও জীবনবীমা স্কিম চালু করা জরুরি। আয় থেকে কিছু অংশ সঞ্চয়ে রাখলে তাদের দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে। আর নারীদের জন্য মানসিক স্বাস্থ্যসেবা, কাউন্সেলিং, সামাজিক সচেতনতা ও ওয়ার্কশপ অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। আন্তর্জাতিক সংস্থা ও এনজিওগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে প্রবাসী নারীদের মানবাধিকার রক্ষা করা গেলে নির্যাতনের ঘটনা অনেকাংশে কমবে, মর্যাদা বৃদ্ধি পাবে। ভুলে গেলে চলবে না, প্রবাসী শ্রমিকরাই দেশের অর্থনীতির মেরুদণ্ড। তাদের রক্ত-ঘামের রেমিট্যান্স বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বাড়ায়, দারিদ্র্য হ্রাস করে, গ্রামীণ জীবনমান উন্নত করে এবং ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প খাতকে উদ্দীপিত করে। তাই শুধু ভোটাধিকার প্রদান নয়, রাষ্ট্রের প্রথম দায়িত্ব হলো প্রবাসী শ্রমিকদের সুরক্ষা, অধিকার ও উন্নয়ন নিশ্চিত করা। প্রবাসী শ্রমিকদের মর্যাদাপূর্ণ নাগরিক হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা, তাদের অধিকার রক্ষা করা এবং জীবনে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। অন্যথায়, ইতিহাস একদিন এই রাষ্ট্রকে কঠিনভাবে জবাবদিহি করতে পারে।
লেখক: গবেষক ও কলাম লেখক
