ইসরায়েলের জায়নবাদী ও ভারতের আরএসএস যমজ ভাই: কেরালা মুখ্যমন্ত্রী

আপডেট : ০৩ অক্টোবর ২০২৫, ০৫:৪৯ পিএম

রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের (আরএসএস) শতবর্ষ উপলক্ষে ডাকটিকিট ও স্মারক মুদ্রা উন্মোচন করেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। এর পরিদিন কেরালার মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়ন আরএসএসকে ইসরায়েলের জায়নবাদীদের সঙ্গে তুলনা করে ‘যমজ ভাই’ বলে অভিহিত করেছেন।

বুধবার কন্নুরে এক জনসভায় বিজয়ন বলেন, ‘ইসরায়েলের জায়নবাদী আর ভারতের আরএসএস যমজ ভাই।’

এর আগে এক্সে (পূর্বে টুইটার) এক পোস্টে বিজয়ন বলেছিলেন, ‘আরএসএসের শতবর্ষ উদ্‌যাপন করা সংবিধানের প্রতি গুরুতর অপমান।’

আরএসএসের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক ইতিহাসে ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন কমিউনিস্ট পার্টি অব ইন্ডিয়ার (মার্কসবাদী) সাধারণ সম্পাদক ডি. রাজা। তিনি তাদের প্রতিক্রিয়াশীল, বিভাজনমূলক ও সাম্প্রদায়িক আখ্যা দিয়ে বলেন, ‘আরএসএস সামাজিক ও সাংস্কৃতিক ইতিহাসে কী অবদান রেখেছে? এটি প্রতিক্রিয়াশীল, বিভাজনমূলক, সাম্প্রদায়িক এবং মানুষের মধ্যে বিভাজন সৃষ্টি করে দেশের ঐক্য ও অখণ্ডতার জন্য হুমকি তৈরি করেছে। আমি প্রধানমন্ত্রীর কাছে চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিচ্ছি, তিনি যেন স্বাধীনতা আন্দোলনে আরএসএসের ভূমিকা ব্যাখ্যা করেন।’

একইভাবে, আম আদমি পার্টির রাজ্যসভা এমপি সঞ্জয় সিং সরকারকে কটাক্ষ করে বলেন, এটি সেই সংগঠনকে উদ্‌যাপন করছে, যারা ৫২ বছর জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেনি এবং ঔপনিবেশিক যুগে ব্রিটিশদের সমর্থন করেছিল।

কমিউনিস্ট পার্টি অব ইন্ডিয়া (মার্কসবাদী-লেনিনবাদী) লিবারেশনের সাধারণ সম্পাদক দিপঙ্কর ভট্টাচার্য এই উদ্‌যাপনকে ‘দুর্ভাগ্যজনক’ বলে অভিহিত করে বলেন, ‘এটি এমন একটি সংগঠন যাকে মহাত্মা গান্ধীর হত্যাকাণ্ডে ভূমিকার কারণে তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সর্দার প্যাটেল নিষিদ্ধ করেছিলেন। আরএসএসের শতবর্ষ উদ্‌যাপন গান্ধী জয়ন্তীর সঙ্গে মিলে যাওয়া এক দুর্ভাগ্যজনক সমাপতন। তার চেয়েও খারাপ হলো, বর্তমান সরকার তা উদ্‌যাপন করছে উচ্ছ্বাসের সঙ্গে। বিজেপি সরকার ও আরএসএসের মধ্যে যেকোনো বিভাজনরেখা আজ মুছে গেছে।’

অন্যদিকে, বিশেষভাবে নকশা করা ডাকটিকিট ও স্মারক মুদ্রা উন্মোচনের সময় প্রধানমন্ত্রী মোদি আরএসএসকে ‘চিরন্তন জাতীয় চেতনার প্রতীক’ আখ্যা দিয়ে বলেন, ২০৪৭ সালের মধ্যে একটি উন্নত ভারত গড়ার অভিযানে সংগঠনটির ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত