৮২ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ওষুধ সরবরাহ বন্ধ এক বছর

আপডেট : ০৪ অক্টোবর ২০২৫, ০৩:০৬ এএম

চাঁদপুরে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রগুলোতে যথাযথ সেবা পাচ্ছে না প্রান্তিক জনগোষ্ঠী। জেলার ৮২টি ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকেন্দ্রে এক বছর ধরে বন্ধ সরকারি ওষুধ সরবরাহ। রয়েছে জনবল সংকটও। এতে করে বিপাকে পড়ছেন সেবা নিতে আসা প্রান্তিক মানুষ। ওষুধ সংকট সমাধানে দ্রুত পদক্ষেপের দাবি তাদের। কর্তৃপক্ষ বলছেন, দ্রুতই কেটে যাবে ওষুধ সংকট।

প্রান্তিক মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতে প্রতিষ্ঠা করা হয় ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র। বিশেষ করে গর্ভবতী নারী ও শিশুদের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে এখানে জ্বর, সর্দি, কাশি, চর্মরোগসহ মা ও শিশুস্বাস্থ্য সেবার ২৬ ধরনের ওষুধ দেওয়ার কথা। কিন্তু গত এক বছর ধরে এসব কেন্দ্রে বন্ধ রয়েছে ওষুধ সরবরাহ। ফলে সেবা নিতে আসা রোগীদের যেতে হচ্ছে শহরের সরকারি ও বিভিন্ন প্রাইভেট হাসপাতালে। এতে ভোগান্তির পাশাপাশি বাড়ছে ব্যয়।

সম্প্রতি সদর উপজেলার বাগাদী, শাহ মাহমুদপুর ও কল্যাণপুর ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র ঘুরে দেখা যায়, কেন্দ্রগুলোয় সেবা নিতে আসা রোগীরা ওষুধ না পেয়ে খালি হাতে বাড়ি ফিরছেন। সরকারি হাসপাতালে সঠিক সেবা না পাওয়ায় ভোগান্তিতে পড়েছেন এলাকাবাসী। জেলার অন্য ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কেন্দ্রেগুলোতেও একই চিত্র।

বাগাদী ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কেন্দ্রেসেবা নিতে আসা রোগী রোকসানা বেগম বলেন, ‘জ্বর-সর্দিতে আক্রান্ত হইয়া হাসপাতালে আইছি। ডাক্তার আপা ঔষধ লেইখ্যা দিছে, তয় কোনো ঔষধ দেয় নাই। কয় কোনো ঔষধ নাই। এর মাসখানেক আগেও একবার আইছি। তহনও ঔষধ পাই নাই।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমরা গরিব মানুষ। টেহা ছাড়া ঔষধ পাওয়ার লইগ্যা এহানে আহি। অহন ঔষধ না থাহনে বাইরে তনে কিনন লাগে।’

কল্যাণপুর ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রের উপসহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার রহিমা খানম বলেন, ‘আমরা আগে প্রায় ২৩ রকমের ওষুধ পেতাম। প্রায় এক বছর ধরে ঔষধের সাপ্লাই না থাকায় এখন আর রোগীদের দিতে পারছি না। তাই রোগী তেমন একটা আসে না। আগে প্রতিদিন প্রায় অর্ধশত রোগী এলেও বর্তমানে আসে আট থেকে ১০ জন রোগী। ওষুধ না থাকায় রোগীদের শুধু পরামর্শ দিয়ে বিদায় করতে হচ্ছে।’

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, শুধু ওষুধ সংকট নয়, জনবল সংকটেও ভুগছে স্বাস্থ্য কেন্দ্রগুলো। জেলার ৮২টি ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কেন্দ্রে ১ হাজার ৬৯ পদের মধ্যে খালি রয়েছে ৩৮০টি পদ। জেলা পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের উপপরিচালকের আশা জনবল ও ওষুধ সংকটে সেবা কিছুটা ব্যাহত হলেও অচিরেই তা কেটে যাবে।

চাঁদপুর পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তর উপপরিচালক আবুল কাশেম মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘গরিব মানুষ যখন স্বাস্থ্যকেন্দ্রে আসেন, তখন তারা শুধু কাউন্সিলিং বা পরামর্শর জন্য আসেন না। ওষুধের জন্যও তারা আসেন। এখন আমাদের ওষুধের অভাব রয়েছে। এ কারণে আমরা রোগীদের পর্যাপ্ত পরিমাণে সেবা দিতে পারছি না। তবে আশা করি, দ্রুত সময়ের মধ্যে ওষুধ সরবরাহ পাওয়া যাবে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত