তাড়াইলে ৬০টি বিদ্যালয়ে নেই কোনো খেলার মাঠ

আপডেট : ০৪ অক্টোবর ২০২৫, ০৭:৪০ এএম

কিশোরগঞ্জের তাড়াইল উপজেলার অধিকাংশ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নেই কোনো খেলার মাঠ। মাঠের অভাবে উপজেলার ৬০টি বিদ্যালয়ের প্রায় ২০ হাজার অধিক কোমলমতি শিক্ষার্থী বিদ্যালয়গুলোতে প্রতিদিনের খোলাধুলা, এমনকি বার্ষিক ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান থেকে নিয়মিত বঞ্চিত হচ্ছে। যে কারণে টিফিন কিংবা অন্য কোনো বিরতির সময় শ্রেণিকক্ষে বসেই সময় পার করছে তারা। এসব বিদ্যালয়ে খেলার মাঠ তৈরির দাবি জানিয়েছেন শিক্ষক, অভিভাবক ও শিক্ষার্থীরা।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, উপজেলার সাতটি ইউনিয়নে ৭১টি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। তার মধ্যে অন্তত ৬০টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে কোনো খেলার মাঠ নেই। যে কারণে টিফিন কিংবা অন্য কোনো বিরতির সময় শ্রেণিকক্ষে বসেই সময় পার করে কোমলমতি শিক্ষার্থীরা। মাঠের অভাবে প্রতিদিনের খেলাধুলাসহ বিদ্যালয়ের বার্ষিক ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা সম্ভব হচ্ছে না। খেলার মাঠ না থাকায় হচ্ছে না আন্তঃজেলা ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় দৌড়সহ বিভিন্ন প্রতিযোগিতার বাছাই। মাঠ না থাকার কারণে খেলাধুলা ও চিত্তবিনোদন থেকে নিয়মিত বঞ্চিত হচ্ছে এসব বিদ্যালয়ের ২০ হাজারের অধিক শিক্ষার্থী। এদিকে অনেক বিদ্যালয়ের পাশ দিয়ে চলে গেছে ব্যস্ততম রাস্তা। এতে প্রায়ই ঘটে যাচ্ছে ছোট-বড় দুর্ঘটনা। জীবনবাজি রেখে লেখাপড়া করে যাচ্ছে এখানকার শিক্ষার্থীরা।

উপজেলা ঘুরে দেখা যায়, তাড়াইল আদর্শ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, দেওয়াটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, বারপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ইছাপশর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, সহিলাটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, শিমুলাটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ঘেঁষা ব্যস্ততম রাস্তা চলে গেছে। টিফিনের ফাঁকে দৌড়াদৌড়ি করতে গিয়ে প্রায়ই ছোট-বড় দূর্ঘটনা শিকার হচ্ছে শিক্ষার্থীরা।

বিভিন্ন বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আবুল, সজল, রতন, আয়রা, মালিহা, নিধি, আবির, সাইন, রিফাত, অলিউর রহমানসহ অনেকেই জানায়, বিদ্যালয়ের মাঠ না থাকায় টিফিনের বিরতির সময় তারা শ্রেণিকক্ষে বসেই সময় পার করে। এ ছাড়া মাঠ না থাকায় আন্তঃজেলা ক্রীড়া প্রতিযোগিতা, বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতাসহ বিভিন্ন দিবসের কুচকাওয়াজে অংশগ্রহণ করতে পারছে না। স্কুলঘেঁষা রাস্তা থাকায় প্রায় তাদের সহপাঠীরা দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছে।

তাড়াইল আদর্শ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. হাবিবুর রহমান বলেন, ‘বিদ্যালয়ে খেলার মাঠ না থাকায় কোমলমতি শিশুরা খেলাধুলা ও চিত্তবিনোদন থেকে নিয়মিত বঞ্চিত হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের মানসিক বিকাশের জন্য সব বিদ্যালয়ে খেলার মাঠের দাবি জানাই।’

এ বিষয়ে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. এনামুল হক খান বলেন, ‘অনেক বিদ্যালয়ে খেলার মাঠ নেই। যেহেতু বিদ্যালয়গুলোতে খেলার মাঠ তৈরি করার মতো জায়গা নেই, তাই দ্রুত ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে শিক্ষার্থীদের খেলাধুলার জন্য মাঠের ব্যবস্থার জন্য আবেদন জানাব।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত