চট্টগ্রাম শহরের মাস্টারপ্ল্যান নিয়ে ভেটিং (সঠিকভাবে হয়েছে কি না যাচাই করা) করবে চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) নগর ও পরিকল্পনা বিভাগ। মাস্টারপ্ল্যান নিয়ে কথা হয় স্থাপত্য ও পরিকল্পনা অনুষদের ডিন ও ইনস্টিটিউট অব প্ল্যানার্স চট্টগ্রাম চ্যাপ্টারের প্রেসিডেন্ট প্রফেসর ড. রাশিদুল হাসানের সঙ্গে।
দেশ রূপান্তর : চট্টগ্রামের নতুন মাস্টারপ্ল্যানটি আপনারা (চুয়েট) ভেটিং করতে গিয়ে কী কী দেখবেন?
প্রফেসর ড. রাশিদুল হাসান : আমরা মূলত দেখব মাস্টারপ্ল্যান প্রণয়ন করতে গিয়ে পরামর্শক প্রতিষ্ঠানটি যে রিপোর্টগুলো জমা দেবে, সেগুলোর সঠিকতা। একই সঙ্গে এই রিপোর্ট তৈরি করতে তারা যেসব সার্ভে করেছে, সেসব সার্ভের উপাত্তগুলো ক্রসচেক করা। সার্ভেতে আমরা দেখেছি পরামর্শক প্রতিষ্ঠান ড্রোন সার্ভে, স্যাটেলাইট সার্ভে, আর্থসামাজিক সার্ভেসহ অনেক ধরনের সার্ভে করেছে। আমরা সেগুলোর যাচাই করে দেখব।
দেশ রূপান্তর : চট্টগ্রাম শহরে আগেও মাস্টারপ্ল্যান হয়েছে। কিন্তু বাস্তবে এর প্রতিফলন দেখা যায় না। এর কারণ কী?
প্রফেসর ড. রাশিদুল হাসান : মাস্টারপ্ল্যানকে একটি আইন বা বিধিমালা বা গাইডলাইন যে নামেই আমরা অভিহিত করি না কেন, এর বাস্তবায়ন কিন্তু করবে সরকারের বিভিন্ন সংস্থা। এখন আমরা যদি মাস্টারপ্ল্যানের পরামর্শগুলো শতভাগ বাস্তবায়ন না করে আংশিক করি, তাহলে তো এর দায় মাস্টারপ্ল্যানকে দেওয়া যাবে না। আমাদের বাস্তবায়নকারী সংস্থা কিংবা সহযোগী সংস্থাগুলো এই মাস্টারপ্ল্যান কেন বাস্তবায়ন করছে না কিংবা বছর শেষে কত শতাংশ বাস্তবায়ন করেছে, সে বিষয়ে অডিট হওয়া প্রয়োজন। এই মাস্টারপ্ল্যান প্রণয়ন করতে অনেক অর্থ ও মেধা খরচ হয়েছে। এই শহরে এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে কি মাস্টারপ্ল্যানের গাইডলাইনে ছিল? এই শহরে চারটি নতুন খাল খননের কথা ১৯৯৫ সালের মাস্টারপ্ল্যানে বাজেটসহ দেওয়া হয়েছিল। আমরা কি তা অনুসরণ করেছি?
দেশ রূপান্তর : বিশ্বের অনেক দেশে পাহাড়ে বহুতল ভবন রয়েছে। আমাদের এখানে নির্মাণ করতে দেওয়া হয় না। কেন?
প্রফেসর ড. রাশিদুল হাসান : পাহাড় ঢেকে ভবন নির্মাণ করা হলে পাহাড়ই দেখা দেখা যাবে না, তাহলে তো সেই ভবন নির্মাণ করতে দেওয়া যাবে না। পাহাড়ে কখনোই ভবন নির্মাণে নিষেধ করা হয়নি। তবে পাহাড় ও ভবনের মধ্যে সামঞ্জস্য রেখে ভবন নির্মাণ করতে হবে। বিশ্বের অন্যান্য দেশেও এমন রয়েছে।
