বহুজাতিক হংকংয়ে আছেন ব্রাজিলের আগুস্তো জুনিনহো এভারটন

আপডেট : ০৮ অক্টোবর ২০২৫, ১০:৩৫ পিএম

দক্ষিণ এশিয়ার এ অঞ্চলের জল-হাওয়ার সঙ্গে পরিচয়টা অনেক দিনের অ্যাশলে ওয়েস্টউডের। ভারতে দীর্ঘদিন কাজ করার সুবাদে এ অঞ্চলের ফুটবলের গলি-ঘুপচিও চেনা ৪৯ বছর বয়সী ভদ্রলোকের। এই কোচই আজ হয়ে উঠতে পারেন বাংলাদেশের জন্য সবচেয়ে বড় হুমকির। কারণ তার হাতে আছে একটা বহুজাতিক দল। হংকং চায়না দলে ব্রাজিল, জার্মানি, বলিভিয়া, নিউজিল্যান্ড, ক্যামেরুন ও জাপান বংশোদ্ভুত খেলোয়াড় আছেন ১০ জনের মতো। দলের কোন খেলোয়াড়ের নাড়ি দুনিয়ার কোন অঞ্চলে পোঁতা এটা অবশ্য মূখ্য নয় ওয়েস্টউডের কাছে। ২০২৪-এর মার্চে দায়িত্ব নেওয়া ব্রিটিশ কোচের কাছে এটা স্রেফ হংকং দল। বাংলাদেশের স্প্যানিশ কোচ হাভিয়ের কাবরেরাও বলছেন তার ভাবনায় বহুজাতিক হংকং নেই। বরং ঘরের মাঠে এমন একটি দলকে মোকাবেলার জন্য প্রস্তুত তার দল, যে দলটিকে খুব এগিয়ে রাখতে চান না বাংলাদেশ কোচ।

র‌্যাংকিংয়ে হংকং আছে ১৪৬তম স্থানে। বাংলাদেশ ১৮৪-তে। সি গ্রুপে প্রথম দুই ম্যাচ ডে শেষে পয়েন্ট সংগ্রহেও এগিয়ে হংকং। তবে আধুনিক ফুটবলে র‌্যাংকিং কেবলই একটি সংখ্যা। আর একটা জয় পেলেই ঘুঁচে যাবে পয়েন্টের ব্যবধান। জাতীয় স্টেডিয়ামে রাত ৮টায় কিক-অফের আগ পর্যন্ত তাই বাংলাদেশকে ঘিড়ে প্রত্যাশার পারদ আকাশ ছোঁয়া। তবে কাবরেরাকে পা মাটিতেই রাখতে হচ্ছে। প্রথমত নিজ দলের সামর্থ্য তার জানা। দ্বিতীয়ত হংকং কোচের তুণে কী কী অস্ত্র আছে, সেটাও জেনেই সাজাতে হচ্ছে রণ কৌশল। হংকং নানা পজিশনে নানা দেশের খেলোয়াড়দের এনে হাতে তুলে দিয়েছে পাসপোর্ট আর নাগরিকত্বের সনদ। সবচেয়ে বেশি খেলোয়াড় আমদানী করেছে ব্রাজিল থেকে। সংখ্যাটা পাঁচ। এর মধ্যে বিশ্বতারকা নেইমার জুনিয়রের এক সময়ের সতীর্থও আছেন। ব্রাজিলিয়ানদের মধ্যে সবচেয়ে অভিজ্ঞ ফার্নেন্দো আগুস্তো। ২০২২ থেকে তিনি হংকংয়ের হয়ে খেলছেন। এর এক বছর পর ব্রাজিলের এভারটন কামারগোকে নিজেদের করে নেয় দলটি। ১৯ ম্যাচে ১০ গোল করা এ উইঙ্গার ভীতি ছড়াতে পারেন বাংলাদেশের রক্ষণে। নেইমারের সান্তোস অ্যাকাডেমির সতীর্থ দুদু এর মধ্যেই হংকংয়ের হয়ে খেলেছেন তিন ম্যাচ। গত বছর অভিষেক হয় আরও দুই ব্রাজিলিয়ানের। জুনিনহো ও স্টিফান পেরেইরা ইতিমধ্যে দলের আক্রমণভাগে থিতু হয়েছেন। তবে বর্তমান দলটির গোলের মূল দায়িত্বে নিউজিল্যান্ড বংশোদ্ভুত মেথ্যু এলিয়ট। ২০২১ সালে অভিষেকের পর খেলা ৪২ ম্যাচে করেছেন ১১ গোল। বুধবার সন্ধ্যায় জাতীয় স্টেডিয়ামে অনুশীলনে নামার আগে প্রাক-ম্যাচ সংবাদ সম্মেলনে হংকংয়ের অভিজ্ঞ কোচ ওয়েস্টউড অবশ্য আমদানীকৃত ফুটবলারদের আলাদা ট্যাগ না দেওয়ার পক্ষে মতামত দিয়েছেন, 'আমার দলে যারা আছেন, সবাই হংকং-এর পাসপোর্টধারী। আইন মেনেই তারা সবাই হংকংয়ের নাগরিক। সুতরাং কে কোথা থেকে এসেছেন সেটা গুরুত্বপূর্ণ না। আমি যখন দায়িত্ব নিই, একটা নির্দিষ্ট স্টাইল ও পরিকল্পনা নিয়ে শুরু করেছি। আমাদের খেলার মূলনীতি হলো— পরিশ্রম, ইচ্ছা, ছুটে চলা, সংগঠিত থাকা, দল হিসেবে খেলা। খেলোয়াড়রা সেই মানসিকতায় খেলে কিনা, সেটাই মুখ্য।'

ঠিক একই ভাবে কাবরেরাও প্রতিপক্ষের আমদানী প্রবণতা নিয়ে চিন্তিত নন একদমই। প্রাকৃতিককরণে হংকং আহামরী কোন দলে বদলে গেছে, সেটা মনে করেন না বাংলাদেশ কোচ, 'যখন গ্রুপের ড্র হয়েছিল এবং আমরা গ্রুপটি দেখেছিলাম, তখনই আমরা বলেছিলাম যে চারটি দলেরই মান প্রায় সম পর্যায়ে। প্রতিটি দলের নিজস্ব পরিচিতি ও খেলার ধরন আছে। তবে মানের দিক থেকে আমি মনে করি সবাই খুব কাছাকাছি। হংকং দলটিকে যদি দেখি, আমি বলব তারা সিঙ্গাপুরের সঙ্গে অনেকটা একই স্তরের। গ্রুপের ফলাফলগুলোও তাই বলছে। তাদের দলের নাগরিকত্ব বদলে আসা খেলোয়াড়রা আলাদা করে আমাদের কাছে খুব গুরুত্বপূর্ণ নন। দিন শেষে, আমরা হংকং জাতীয় দলের বিপক্ষে খেলছি, তাদের খেলোয়াড় কে কোথা থেকে এসেছে সেটা মূখ্য নয়। গুরুত্বপূর্ণ হলো, তারা একটি দল, এবং সেই দলটার বিপক্ষেই আমাদের খেলা। আর আমরা সেই অনুযায়ী প্রস্তুতি নিয়েছি।'

হংকংয়ের আছে এক ঝাক আমদানীকৃত ফুটবলার। সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশ শক্তি বাড়িয়েছে এক ঝাক প্রবাসীকে উড়িয়ে এনে। হালের হামজা চৌধুরী, শামিত সোম, কাজী শাহ, ফাহামেদুল ইসলাম, জায়ান আহমেদদের সঙ্গে আছেন অভিজ্ঞ জামাল ভুঁইয়া, তারিক কাজীরা। তাই বহুজাতিক হংকংকেও দিতে হবে শক্তির প্রমাণ। 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত