নিষেধাজ্ঞা ভেঙে চলছে ইলিশ শিকার

আপডেট : ০৯ অক্টোবর ২০২৫, ০৭:৪৯ এএম

প্রজনন মৌসুমে মা-ইলিশ সংরক্ষণে প্রশাসনিক অভিযানের মধ্যেও পটুয়াখালীর দুমকিতে চলছে ইলিশ শিকারের মহোৎসব। জনবল স্বল্পতা আর যানবাহন সংকটে দায়সারা অভিযান এড়িয়ে পায়রা, পাতাবুনিয়া ও লোহালিয়া নদীতে দিনে-রাতে সমান তালে চলছে ইলিশ শিকার। উপজেলা প্রশাসন, মৎস্য বিভাগ, থানা পুলিশ ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধি সমন্বয়হীনতায় পরিবারের ছোট ছোট শিশু-কিশোর সন্তানদের ব্যবহার করে জেলেরা ইচ্ছেমত শিকার করছে মা-ইলিশ। দুর্বল ডিজেল ইঞ্জিনের ট্রলারে উপজেলা প্রশাসনের নিয়মিত অভিযান ফাঁকি দিয়ে অত্যন্ত দ্রুততার সাথে কৌশলী জেলেরা ইলিশ শিকারের উৎসবে মেতে ওঠেছে।

অবরোধের ২-৩ দিন পরেই পায়রা, পাতাবুনিয়া ও লোহালিয়া নদীর তীরবর্তি জেলেরা বেপরোয়া হয়ে ওঠেছে। নির্র্বাহী মেজিষ্ট্রেটের নেতৃত্বে অভিযান চললেও তাদের ঠেকাতে পারছে না প্রশাসন। প্রশাসন অবশ্য অভিযোগটি মানতে নারাজ। তাদের দাবি, অভিযান মোটামুটি সফল হচ্ছে। মৎস্য বিভাগের নিয়মিত অভিযানে এ পর্যন্ত ৪টি নৌকা ও ১ লাখ ৯০ হাজার মিটার কারেন্ট জাল আটক হওয়ায় পরিস্থিতি কিছুটা নিয়ন্ত্রণে এসেছে বলে দাবি করা হচ্ছে।

নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়, উপজেলার পাংগাশিয়া, আঙ্গারিয়া, লেবুখালী ও মুরাদিয়া ইউনিয়ন বেষ্টিত পায়রা, পাতাবুনিয়া ও লোহালিয়া নদীর অন্তত ১১টি পয়েন্টে জেলেরা দিনে রাতে সমান তালে ইলিশ শিকার করছে। কম সময়ে বেশী ইলিশ ধরা পড়ায় প্রজন মৌসুমে নিষেধাজ্ঞার শুরু থেকেই (৪ অক্টোবর) নানান কৌশলের আশ্রয় নিয়ে নদীতে মা-ইলিশ শিকারে নামছে।

জানা যায়, স্থানীয় কতিপয় প্রভাবশালী ব্যক্তির আশ্রয়-প্রশ্রয়ে জেলেরা তাদের পরিবারের ছোট ছোট শিশু-কিশোর সন্তানদের হাতে নৌকা-জাল তুলে দিয়ে ইলিশ শিকার করছে।প্রতিটি জেলে পরিবারের পুরুষ সদস্যরা নৌকা-জাল নিয়ে নদীতে নামে আর নারী, শিশু-যুবা সবাই নির্ঘুম পাহারায় রাত কাটায় নদীর তীরে। দূর-দুরান্তে অভিযানের ট্রলার দেখলেই মোবাইল ফোনে স্ব স্ব জেলেদের সতর্ক সংকেত জানিয়ে দেয় তারা। সংকেত পাওয়া মাত্রই দ্রুত নৌকা-জাল নিয়ে উপজেলার সীমানা ছাড়িয়ে নদীর অপর তীরে বাকেরগঞ্জের দুধলমৌ, পান্ডব নদীর সাদিস, নলুয়া, মির্জাগঞ্জের কাঠালতলী ও লোহালিয়ার ওপারে বাউফলের বিভিন্ন এলাকার নিরাপদ ঝোপের আড়ালে, পাতাবন ও ছোট ছোট নালা খালে ঢুকে আত্মগোপণে চলে যায়। অভিযানের ট্রলার চলে গেলে ফের জাল ফেলে রাতভর ইলিশ শিকারে মেতে ওঠেন তারা।

সূত্রটি আরও জানায়, চলতি মৌসুমে টনকে টন ইলিশ ধরা পরলেও তা বাজারজাত হচ্ছে না। নির্দিষ্ট কয়েকজন পাইকার বিভিন্ন ঘাটে গোপনে মাছগুলো কিনে নিয়ে মওজুদ করে রাখছে। উপজেলার হাজিরহাট, লেবুখালী ফেরীঘাট, ভাঙ্গার মাথা, আঙারিয়া বন্দর, পাতাবুনিয়ার হাট, জেলেপাড়া, উত্তর মুরাদিয়া ও জোয়ারগরবদিসহ অন্তত ১১টি ঘাটে পাইকারদের গোপনীয় আস্তানায় ককশেড ভর্তি করে ইলিশ মাছ মওজুদ রাখা হচ্ছে। দিনের বেলায় কোথাও ইলিশের চিহ্নমাত্র দেখা না গেলেও প্রতিদিন সূর্যোদয় ও সূর্যাস্তের পর পরই নৌকা-জাল গুটিয়ে সারারাতের আহরিত ইলিশ বস্তায় ভর্তি করে জেলেরা যে যার মতো সটকে পড়ছে। একদিকে ভ্রাম্যমান আদালতের বিশেষ অভিযান চলছে অন্য দিকে এখানের নদ-নদীতে দেদারছে ইলিশ শিকারও অব্যাহত আছে।

ইলিশ শিকার বন্ধের প্রশ্নে আঙ্গারিয়া ইউপি প্যানেল চেয়ারম্যান জিল্লুর রহমান সোহরাব বলেন, প্রশাসনিক দুর্বলতা ও সমন্বয়হীনতার কারণে ঠেকানো যাচ্ছে না। কিছু জেলে নির্দেশ মানলেও মৌসুমি জেলেরা কথা শুনছেন না।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আবুজর মো. এজাজুল হক বলেন, নদীতে অভিযানকালে তেমন একটা নৌকা-জাল পাওয়া যাচ্ছে না। দু’একটা জেলে নৌকা দেখলেও তাদের ধরা খুবই কষ্টসাধ্য। তবে স্থানীয় লোকজন সহযোগিতা করলে শতভাগই নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত