গজারিয়ায় গভীর রাতে বাড়িঘরে হামলা-ভাঙচুর, আহত ৭

আপডেট : ১১ অক্টোবর ২০২৫, ১২:৪২ এএম

মুন্সীগঞ্জের গজারিয়ায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে গভীর রাতে ১২টি পরিবারের ওপর সন্ত্রাসী হামলা চালিয়ে বাড়িঘর ভাঙচুর, লুটপাট ও পিটিয়ে সাতজনকে আহত করা হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার রাত ৩টার দিকে উপজেলার প্রত্যন্ত গুয়াগাছিয়া ইউনিয়নের শিমুলিয়া, বালুয়াকান্দী ও জামালপুর গ্রামে এই ঘটনা ঘটে।

আহতরা হলেন নুরজাহান বেগম (৭০) রিনা (৪০), মনিকা (৩০), শিউলি (৩৫), কামরুন নাহার (৪০),

পিংকি (৩১), ছফিরুন (৫৫)। এদের মধ্যে তিনজন গজারিয়ায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রিনা বেগম বলেন, ‘গ্রামের জিতু রাঢ়ীর ছেলে জিহাদ ও সাব্বির, কুদ্দুসের নেতৃত্বে ৩০-৪০ জন সশস্ত্র সন্ত্রাসী পিস্তল, বন্দুক রামদা ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা চালিয়ে আমাদের দুই বোন, ভাই, মামাসহ আত্মীয় স্বজনদের ১০-১২টি বাড়িতে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর ও আমাদের মারধর করে। তারা নারীদের গায়ে থাকা সব স্বর্ণালংকার, নগদ টাকাসহ সব কিছু নিয়ে গেছে। নুরজাহান বেগম বলেন, ‘রাত ১০টার মধ্যেই ঘুমাইয়া পড়েছিলাম, গভীর রাতে হামলার শব্দে ঘুম ভাঙে, শক্রতা থাকলে আমার ছেলেদের সঙ্গে আছে কিন্তু ওরা আমাকেও হাত পা বেঁধে পিটাইছে, বাড়িগুলোতে যা ছিল সব নিয়ে গেছে, আমাদের আর কিছু নেই।’

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে দায়িত্বরত চিকিৎসক মো. নাফিজ আহমেদ জানান, হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য তিন নারী এসেছেন, তাদের গায়ে জঘম ও আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।

গতকাল শুক্রবার সরেজমিনে দেখা যায়, জামালপুর গ্রামের গুয়াগাছিয়া ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য মাহমুদ আলীর বাড়ির চারটি ঘর, নয়ন সরকারের বাড়ি, শিমুলিয়া বালুয়াকান্দি গ্রামের প্রবাসী সামাদ, রিনা, আলন, লালন, আক্তার সরকার, শিউলি বেগমেরসহ মোট ১০-১২টি পরিবারের ঘরে হামলার চিহ্ন, ঘরের দরজা জানালা ভাঙা,  ভেতরের আসবাব, ফ্রিজ, খাট, সোফা, কাঁচের জিনিসপত্র সব ভাচুর করা।

প্রত্যক্ষদর্শী সুফিয়া নামে এক নারী বলেন, রাত ৩টার দিকে সন্ত্রাসীরা বাড়িতে এসে ঘরের দরজা ভেঙে প্রবেশ করে মহিলা ও বাচ্চাদের  জিম্মি করে মারপিট করে ঘরের আলমারী ও অন্য আসবাবপত্র ভাঙচুর করে সোনা-গয়না টাকা-পয়সা বিভিন্ন মালামাল, মোবাইল ফোন, টেলিভিশন ও মূল্যবান জিনিসপত্র নিয়ে যায়। অভিযোগের বিষয়ে জিতু রাঢ়ী বলেন, ঘটনার সময় তিনি এলাকায় ছিলেন না, স্থানীয় নয়ন পিয়াস-বাহিনীর হাতে পূর্বে নির্যাতিত গ্রামবাসী এই হামলা চালিয়ে থাকতে পারে, এই ঘটনায় তার কোনো লোক জড়িত নয়।

গজারিয়া থানার ওসি আনোয়ার আলম আজাদ বলেন, ‘স্থানীয়দের মাধ্যমে খবর পেয়েছি, বিষয়টা আন্তরিকভাবে খতিয়ে দেখছি, গুয়াগাছিয়ায় শান্তি বজায় রাখতে আমরা অঙ্গীকারবদ্ধ। এ বিষয়ে বিস্তারিত পরে জানাব।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত