আফগানিস্তান যেন ধ্বংসযজ্ঞই চালাল বাংলাদেশের বিপক্ষে। আবুধাবিতে তৃতীয় ওয়ানডেতে ২০০ রানের বিশাল জয় তুলে নিয়ে ৩-০ ব্যবধানে সিরিজ জিতেছে তারা। প্রথমে ব্যাট করে আফগানরা তোলে ৯ উইকেটে ২৯৩ রান, জবাবে বাংলাদেশ গুটিয়ে যায় মাত্র ৯৩ রানে। এর আগে বাংলাদেশ ওয়ানডেতে সর্বশেষ ১০০ রানের নিচে অলআউট হয়েছিল ২০১৮ সালে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে মিরপুরে, ৮২ রানে। ওয়ানডেতে যেমন আফগানরা হোয়াইটওয়াশ করেছে বাংলাদেশকে, ঠিক তেমনি আগের টি-টোয়েন্টি সিরিজে বাংলাদেশই ৩-০ ব্যবধানে জিতেছিল।
আফগানিস্তানের ইনিংসে শুরু ও শেষটা ছিল দুই অভিজ্ঞ ব্যাটার—ইবরাহিম জাদরান ও মোহাম্মদ নবির দুর্দান্ত ফিফটিতে সাজানো। পরে বল হাতে নিজের প্রথম পাঁচ উইকেট শিকার করে ইতিহাস গড়েন পেসার বিলাল সামি। তবে ধস নামান রশিদ খান—প্রথম তিন ওভারেই তুলে নেন তিনটি উইকেট, ওখানেই শেষ করে দেন বাংলাদেশের প্রতিরোধ।
বাংলাদেশের ব্যাটারদের পারফরম্যান্স এই সিরিজে ছিল একেবারেই হতাশাজনক, তৃতীয় ম্যাচেও তার ব্যতিক্রম ঘটেনি। কাঠখড় পুড়িয়ে ভিসা পেয়ে আমিরাতে গিয়ে ওপেনার নাইম শেখ ২৩ বল খেলে মাত্র ৭ রান করে আজমাতউল্লাহ ওমরজাইয়ের বলে স্লিপে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন, দল তখনও চাপে।
একপ্রান্তে উইকেট পড়লেও অপর প্রান্তে কিছুটা লড়াইয়ের ইঙ্গিত দেন সাইফ হাসান। ইনিংসের শুরুতেই দু’টি ছক্কা ও একটি চার হাঁকিয়ে পাওয়ারপ্লেতে রান তোলেন বেশ ভালো ছন্দে। কিন্তু সাবেক অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত আবারও ব্যর্থ—বিলাল সামির ইনসাইড এজে বোল্ড হয়ে ফেরেন তিনি।
এরপরই শুরু হয় রশিদ খানের ঘূর্ণির প্রদর্শনী। প্রথম বলেই তাওহীদ হৃদয়কে দ্রুতগতির গুগলিতে বিভ্রান্ত করে ফেরান তিনি। পরের ওভারে সাইফ হাসানকেও বোকা বানান সেই একই অস্ত্রে—ব্যাট ও প্যাডের ফাঁক গলে ভেতরে ঢুকে যায় বল। সাইফ অবশ্য দলের হয়ে সর্বোচ্চ ৫৪ বলে ৪৩ রান করেন, যাতে ছিল দুই চার ও তিন ছক্কা।
শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশ পুরোপুরি ধসে পড়ে রশিদদের ঘূর্ণি ও সামির আগুনে পেসের সামনে। আফগানিস্তান সিরিজ জেতে দাপটের সঙ্গেই, প্রমাণ করে দেয়—তারা এখন ওয়ানডে ক্রিকেটে এক ভয়ঙ্কর প্রতিপক্ষ। এই সংস্করণে ঘরের মাঠে তিন দিন পরই আবার ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে মাঠে নামতে হবে বাংলাদেশকে। এই ধাক্কা মিরাজবাহিনী কীভাবে সামলায় সেটি বোঝা যাবে শনিবার।
সাইফ ম্যাজিকের পরও ২৯৩ রান করলো আফগানরা
লাহোর টেস্ট জিততে ইতিহাস গড়তে হবে দক্ষিণ আফ্রিকাকে