মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে ক্ষমতাচ্যুত শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে মামলায় প্রসিকিউশন পক্ষের যুক্তিতর্কের শুনানি অব্যাহত রয়েছে। গতকাল বুধবার বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বে গঠিত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এ চতুর্থ কার্যদিবসে শুনানি হয়। এদিন শুনানি করেন চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম। তিনি বিভিন্ন তথ্যের নথি ও জুলাই হত্যাকান্ড নিয়ে জাতিসংঘের প্রতিবেদন তুলে ধরে বলেন, ‘আন্দোলন দমন করতে শেখ হাসিনার নির্দেশে র্যাবের হেলিকপ্টার থেকে গুলির বিষয়টি প্রমাণিত হয়েছে। শেখ হাসিনা তিনজনের সঙ্গে কথোপকথনে নিশ্চিত করেছেন যে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে তিনি ল্যাথাল উইপন (প্রাণঘাতী অস্ত্র) ব্যবহার করে আন্দোলনকারীদের হত্যার নির্দেশ দিয়েছেন।’
আদালত আজ বৃহস্পতিবার পর্যন্ত শুনানি মুলতুবি করেন। এদিন মামলার আসামি পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজি) চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল মামুনকে ট্রাইব্যুনালের ডকে হাজির করা হয়। তিনি এ মামলায় শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান কামালের বিরুদ্ধে রাজসাক্ষী (অ্যাপ্রুভার) হিসেবে সাক্ষ্য দিয়েছেন।
আন্দোলন দমনে হেলিকপ্টার থেকে গুলি, সাউন্ড গ্রেনেড, টিয়ারশেল নিক্ষেপ নিয়ে গতকাল শুনানিতে বিস্তারিত তুলে ধরেন অ্যাডভোকেট তাজুল ইসলাম। সংশ্লিষ্ট বাহিনী থেকে সংগৃহীত ‘ডিটেইলড ফ্লাইট চার্টার’-এর বিষয়টি উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমরা র্যাব ও পুলিশের কাছে গত বছরের ১ জুলাই থেকে ৫ আগস্ট পর্যন্ত হেলিকপ্টারের ফ্লাইট শিডিউল চেয়েছিলাম। তাতে ওই সময়ে ঢাকা ও ঢাকার বাইরে ৩৬টি ফ্লাইটের তথ্য মিলেছে। এ সবের কিছু ফ্লাইট আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবহার করা হয়েছে। ঢাকার বিভিন্ন পয়েন্টে নিচু দিয়ে উড়ে যাওয়ার কারণে হেলিকপ্টারে কারা কারা ছিলেন তা মোবাইল টাওয়ারে ধরা পড়েছে। তাদের মোবাইল নম্বর ও তথ্য পাওয়া গেছে।’ চিফ প্রসিকিউটর বলেন, ‘হেলিকপ্টার থেকে আন্দোলনকারীদের উদ্দেশ্যে শটগান, গ্যাস গান, এসএমজি, এলএমজি, সাউন্ড গ্রেনেড ব্যবহার করা হয়েছে। গুলি করে ছাত্র-জনতাকে হত্যা করা হয়েছে।’
শুনানিতে আন্দোলনকারীদের উদ্দেশ্যে হেলিকপ্টার থেকে গুলির দৃশ্য সংবলিত ভিডিও প্রদর্শন করা হয়। এ ছাড়া ৫ আগস্ট ঢাকার যাত্রাবাড়ীতে পুলিশ কর্তৃক গুলি করে ছাত্র-জনতা হত্যাকান্ডের ভিডিও ফুটেজ দেখানো হয়। শুনানিতে চিফ প্রসিকিউটর বিভিন্ন গণমাধ্যম ও জাতিসংঘের প্রতিবেদনের বরাতে আন্দোলনে গুলিতে ১৩৩ শিশুর মৃত্যুর বিষয়টি উল্লেখ করে বলেন, ‘আন্দোলন দমনে শিশুহত্যা ছিল অন্যতম ট্রেন্ড অব অ্যাটাক।’ মামলার কয়েকজন সাক্ষীর বক্তব্য তুলে ধরে চিফ প্রসিকিউটর শুনানিতে বলেন, ‘এই সাক্ষীদের প্রত্যেকেই যেভাবে সাক্ষ্য দিয়েছেন তাতে প্রমাণিত হয়, হত্যাকান্ডের সুপিরিয়র কমান্ডার শেখ হাসিনা।’ এর আগে গত ৮ অক্টোবর এ মামলার সবশেষ (৫৪তম) সাক্ষী তদন্ত কর্মকর্তা মো. আলমগীরের সাক্ষ্য গ্রহণের মাধ্যমে সাক্ষ্য শেষ হয়।
