স্বাধীন ভারতের ৭৮ বছরের ইতিহাসে দীর্ঘ সময় রাষ্ট্রীয়ভাবে ঔপনিবেশিক আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে ভারত। বিশেষ করে ফিলিস্তিনের প্রতি অব্যাহত সমর্থনই ভারতের নৈতিক ও মানবিক অবস্থানের বড় উদাহরণ ছিল।
১৯৪৭ সালে জাতিসংঘে ফিলিস্তিন পার্টিশন প্ল্যানের বিরোধিতা, ১৯৭৪ সালে পিএলওকে বৈধ প্রতিনিধি হিসেবে স্বীকৃতি, ১৯৮৮ সালে ফিলিস্তিনকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি—এই সব পদক্ষেপ ভারতের সুপরিচিত সমর্থনের প্রমাণ।
কিন্তু ১৯৯০-এর দশকের গোড়ার দিকে ইসরায়েলের সঙ্গে পূর্ণাঙ্গ কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপনের পর ভারতের ফিলিস্তিন নীতি বদলাতে থাকে। বিশেষ করে ২০১৪ সালের পর নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে বিজেপি ক্ষমতায় আসার পর এই পরিবর্তন আরও দৃঢ় হয়।
ভারতীয় ইতিহাসবিদ জোয়া হাসানের মতে, প্রতিরক্ষা ও অর্থনৈতিক স্বার্থের কারণে ভারত ইসরায়েলের সঙ্গে ক্রমেই ঘনিষ্ঠ হয়ে উঠেছে, যা ফিলিস্তিনের প্রতি বহু বছরের আস্থা নষ্ট করেছে।
জোয়া হাসান আরও জানান, ভারতের রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিবর্তনের কারণে ফিলিস্তিনের প্রতি নৈতিক সমর্থনের জায়গা এখন সংকুচিত হয়েছে। ধীরে ধীরে ধর্ম ও রাজনৈতিক ভাবধারার ব্যবধান সাধারণ মানুষকে ফিলিস্তিনের প্রতি সহমর্মিতা হারাতে বাধ্য করেছে, এবং অনেকেই এখন ফিলিস্তিনকে ইসরায়েলের চোখে দেখতে শুরু করেছেন।
বুকারজয়ী লেখক অরুন্ধতী রায়ও মন্তব্য করেছেন, শুধু রাষ্ট্রীয় পর্যায়েই নয়, সাধারণ মানুষও এখন ফিলিস্তিনের প্রতি সমর্থন হারিয়েছে। গাজায় ইসরায়েলের বিধ্বংসী হামলার পর ভারতে তেমন কোনো প্রতিবাদ হয়নি।
তাঁর মতে, বিজেপির হিন্দুত্ববাদী জাতীয়তাবাদ ও ইসরায়েলের জায়নিস্ট আদর্শের মিল দুই দেশকে আরও কাছাকাছি এনেছে।
রাশিয়া থেকে তেল কিনবে না মোদি, দাবি ট্রাম্পের
গাজায় ফের অভিযান চালাতে পারে ইসরায়েল: ট্রাম্প