তৃণমূলে ফুটবল নিয়ে ব্যাপক উদ্যোগের স্বীকৃতি পেয়েছে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন। এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশন (এএফসি) বৃহস্পতিবার তাদের বার্ষিক অ্যাওয়ার্ড অনুষ্ঠানে বাংলাদেশসহ তিনটি সদস্য দেশকে ব্রোঞ্জ পদকে ভূষিত করেছে। যে স্বীকৃতি আগামীতে উন্নয়ন খাতে আরও গভীরে গিয়ে কাজ করতে অনুপ্রাণিত করবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন বাফুফে সভাপতি তাবিথ আউয়াল। সৌদি আরবের রিয়াদে অনুষ্ঠিত অ্যাওয়ার্ড অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে এ কথা দেশ রূপান্তরকে বলেন তিনি। গত এক বছর তৃণমূল ও যুব উন্নয়ন নিয়ে সরাসরি কাজ করা বাফুফের সহ-সভাপতি নাসের শাহরিয়ার জাহেদীর মতে এ স্বীকৃতিতে আত্মতুষ্টির সুযোগ নেই। বরং আরও গভীরে গিয়ে কাজ করার দায়বদ্ধতা তৈরি হয়েছে এতে।
তাবিথ আউয়াল শুক্রবার দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘দেশের তরুণ ফুটবলারদের প্রতি আরও বেশি মনোযোগ দেওয়ার ক্ষেত্রে আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এএফসির এই গ্রাসরুটস অ্যাওয়ার্ড তারই নিদর্শন। বাংলাদেশের ফুটবলের ভবিষ্যৎ গঠনে এবং একটি সুস্থ প্রজন্ম গড়ে তুলতে যেসব তরুণ খেলোয়াড় অবদান রাখতে শুরু করেছে, এই পুরস্কারটি তাদের জন্য।’ দায়িত্ব নেওয়ার এক বছরের কম সময়ে তৃণমূলে চাঞ্চল্য সৃষ্টির জন্য তাবিথ কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন বাফুফের ডেভেলপমেন্ট কমিটি ও টেকনিক্যাল কমিটির প্রতি, ‘আমাদের ডেভেলপমেন্ট কমিটি এবং টেকনিক্যাল কমিটি যৌথভাবে একটি ভবিষ্যৎমুখী কর্মসূচি হাতে নিয়েছে, যার লক্ষ্য হলো দেশের কোচের সংখ্যা বৃদ্ধি করা, স্বীকৃত অ্যাকাডেমি ও শামসুল হুদা অ্যাকাডেমির মতো এলিট অ্যাকাডেমি প্রতিষ্ঠা করা। যেখানে নিয়মিত ফুটবল উৎসব আয়োজন করা যাবে। এছাড়াও সরকার থেকে ‘তারুণ্যের উৎসব’-এর মধ্য দিয়ে উৎসাহ দেওয়া হচ্ছে, যা এই উদ্যোগকে আরও গতিশীল করেছে। সব মিলিয়ে এটি ছিল এক দলগত প্রচেষ্টা এবং নতুন বাংলাদেশের উদীয়মান ফুটবল সংস্কৃতির প্রতীক হিসেবে একটি কার্যকর ফুটবল ইকোসিস্টেমের সূচনা।’
নাসের শাহরিয়ার জাহেদী মনে করেন একটি সমন্বিত প্রয়াসেই মিলেছে এই স্বীকৃতি, ‘গ্রাসরুটে ফুটবলে অবদানের জন্য এএফসির পক্ষ থেকে বাফুফেকে যে অ্যাওয়ার্ড দেওয়া হয়েছে, এতে আমরা ভীষণ আনন্দিত। তৃণমূল থেকে ফুটবলকে তুলে আনার জন্য আমরা মে মাসে যশোরের শামসুল হুদা ফুটবল অ্যাকাডেমিতে সাড়ে ৬শ’র বেশি ৭ থেকে ১৪ বছর বয়সী ফুটবলারের সমাবেশ ঘটিয়েছিলাম। আমরা বিভিন্ন পর্যায়ে স্কুল ফুটবল চর্চায় আগ্রহ দেখিয়েছি। এই সার্বিক প্রচেষ্টারই একটা ফল আমরা পেয়েছি। আমার মনে হয় এএফসি আমাদের উদ্যোগটাকে বেশি প্রাধান্য দিয়েছে। অর্জনের জন্য হয়তো আরও এক-দুই বছর অপেক্ষা করবে। আমরা এএফসির প্রতি কৃতজ্ঞ, সেই সঙ্গে দেশের সব ক্রীড়ানুধ্যায়ীদের প্রতিও কৃতজ্ঞ।’
এতে অবশ্য তৃপ্ত হওয়ার সুযোগ দেখছেন না জাহেদী, ‘এত আগে পরিতৃপ্ত হওয়ার সুযোগই নেই। এখন প্রচেষ্টার সময়। আগামীর জন্য কিছু লক্ষ্য স্থির করেছি। এখন আমরা সেগুলো একটা একটা করে অর্জন করব। তখন আপনারা বলতে পারবেন আমরা খানিকটা তৃপ্ত হয়েছি। এখন চেষ্টা ও সবাই মিলে এগিয়ে যাওয়ার সময়। আগে ফিফার নিষেধাজ্ঞা ছিল, এখন তারা আরও সাহায্য করতে এগিয়ে আসছে।’
