জবি ছাত্রদল নেতাকে ছুরি মেরে হত্যা

আপডেট : ২০ অক্টোবর ২০২৫, ০৭:২০ এএম

রাজধানীর আরমানিটোলায় পানির পাম্প গলির একটি ভবনের সিঁড়ি থেকে ছাত্রদলের জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) শাখার আহ্বায়ক কমিটির সদস্য মো. জোবায়েদ হোসেনের রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। ওই ভবনের একটি বাসায় তিনি টিউশনি করতেন।

জোবায়েদ বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের পরিসংখ্যান বিভাগের শিক্ষার্থী ছিলেন। একই সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের কুমিল্লা জেলা ছাত্রকল্যাণ পরিষদের সভাপতি ছিলেন। ফরাশগঞ্জে মেসে থাকতেন তিনি।

জানা গেছে, গতকাল রবিবার সন্ধ্যায় জোবায়েদ পড়াতে যান। পরে স্থানীয়রা ছয়তলাবিশিষ্ট ওই বাসার তৃতীয়তলার সিঁড়িতে রক্তাক্ত অবস্থায় তাকে পড়ে থাকতে দেখেন। তার গলায় ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। খবর পেয়ে ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের পাশাপাশি শিক্ষার্থীরাও সেখানে উপস্থিত হন। জবির শাখা ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা বাসাটি ঘিরে বিক্ষোভ করেন।

এদিকে জুবায়েদ হত্যার ঘটনায় দুজনকে শনাক্ত করার পাশাপাশি ঘটনায় সংশ্লিষ্ট এক নারীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গতকাল রাত সাড়ে ১১টার দিকে গণমাধ্যমে প্রচারিত লাইভে দেখা গেছে, ওই নারীকে গ্রেপ্তার করে নিয়ে যাচ্ছে পুলিশ। এ সময় ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন ছাত্রদলের সভাপতি নাছির উদ্দিন নাছির। গ্রেপ্তারের সময় আশপাশে ছাত্রদলের নেতাকর্মীসহ উৎসুক জনতার ভিড় দেখা যায়। এ সময় জড়িতদের ‘ফাঁসি চাই’ বলে স্লোগান দেন ছাত্রদলের কর্মী ও উপস্থিত জনতা।

এর আগে রাত সাড়ে ৮টার দিকে ঘটনায় জড়িত দুজনকে শনাক্ত করার তথ্য নিশ্চিত করেন লালবাগ জোনের উপপুলিশ কমিশনার (ডিসি) মল্লিক আহসান উদ্দিন সামী। তিনি বলেন, আমরা প্রাথমিক অবস্থায় দুজনকে শনাক্ত করতে পেরেছি। তাদের গ্রেপ্তারের জন্য এরইমধ্যে পুলিশের একাধিক টিম মাঠে সক্রিয়ভাবে কাজ করছে।

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ তাজাম্মুল হক বলেন, ঘটনা শোনামাত্রই আমি সেখানে রওনা দিয়েছি। পুলিশ প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে ছুরিকাঘাতে মৃত্যু হয়েছে। আশপাশের সিসিটিভির ফুটেজ সংগ্রহের জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে বলেছি। তারা সেটি সংগ্রহ করার চেষ্টা করছে।

জবি ছাত্রদল নেতা হত্যায় ঢাবি ছাত্রদলের বিক্ষোভ : এদিকে জুবায়েদ হত্যার ঘটনায় তাৎক্ষণিক বিক্ষোভ মিছিল করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) শাখা ছাত্রদল। গতকাল রাত ৯টায় বিক্ষোভ মিছিলটি ঢাবির টিএসসি থেকে শুরু হয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে টিএসসির ডাস চত্বরের পাশে এসে সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মধ্য দিয়ে শেষ হয়।

বিক্ষোভ-পরবর্তী সংক্ষিপ্ত সমাবেশে শাখা ছাত্রদলের সভাপতি গণেশ চন্দ্র রায় সাহস বলেন, ৫ আগস্ট-পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন জায়গায় ছাত্রদলকে হত্যা করার ন্যারেটিভ তৈরি করা হয়েছে। বিভিন্ন সময় ছাত্রদলের বিভিন্ন মেধাবী শিক্ষার্থী হত্যার শিকার হয়েছেন। আজকে (গতকাল) জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের এক মেধাবী শিক্ষার্থীকেও নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত