নড়বড়ে যুদ্ধবিরতি টেকাতে তৎপর যুক্তরাষ্ট্র

আপডেট : ২২ অক্টোবর ২০২৫, ১২:১১ এএম

এক সপ্তাহ ধরে চলা গাজা যুদ্ধবিরতি সহিংসতার কারণে নড়বড়ে হয়ে পড়ার পর প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শান্তি পরিকল্পনার বাস্তবায়ন জারি রাখতে কূটনৈতিক পদক্ষেপ নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। ইসরায়েল ও হামাসকে যুদ্ধবিরতিতে ধরে রাখার লক্ষ্যে জোর তৎপরতা চালাচ্ছেন দেশটির কূটনীতিকরা। এ লক্ষ্যে গত সোমবার ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে দেখা করেছেন মার্কিন দূত স্টিভ উইটকফ ও ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনার। গত রবিবার গাজার রাফায় ফিলিস্তিনি যোদ্ধাদের হামলায় দুই ইসরায়েলি সেনা নিহত হন। এর জেরে গাজায় হামাসের বিভিন্ন লক্ষ্যস্থলে ব্যাপক বিমান হামলা চালায় ইসরায়েল, এতে অন্তত ২৬ জন নিহত হন। গাজায় ত্রাণ সরবরাহ বন্ধ রাখার ঘোষণা দেয় ইসরায়েল। এসব সহিংসতা ও পদক্ষেপে গাজা যুদ্ধবিরতি ভেঙে পড়ার উপক্রম হয়।

এসব ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে বিরাজমান যুদ্ধবিরতি ধরে রাখতে সক্রিয় হয় ট্রাম্প প্রশাসন। তাদের চাপে ইসরায়েল গাজায় ফের ত্রাণ সরবরাহ শুরু করার প্রস্তুতি নেয় বলে রয়টার্সকে জানিয়েছেন ইসরায়েলি নিরাপত্তা বাহিনীর নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা।

রয়টার্স লিখেছে, যুদ্ধবিরতির প্রথম পর্ব বারবার সহিংসতার ঝলকানিতে নড়বড়ে হয়ে উঠছে। সোমবারও গাজায় সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। এ অবস্থায় গাজা যুদ্ধ শেষ করার প্রক্রিয়া বজায় রাখার জন্য যুক্তরাষ্ট্র হামাস ও ইসরায়েলের ওপর চাপ ধরে রাখতে পারবে কি না, তা পরিষ্কার হয়নি।

গাজায় দীর্ঘ প্রতীক্ষিত যুদ্ধবিরতি সত্ত্বেও সাম্প্রতিক সহিংসতার ঘটনাগুলো ইঙ্গিত দিচ্ছে সেখানে স্থায়ী শান্তিপ্রতিষ্ঠা সহজ হবে না। বেশ কিছু বাধা এখনো রয়ে গেছে, এগুলো দুবছর স্থায়ী একটি যুদ্ধের পর শান্তিপ্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টাকে বাধাগ্রস্ত করছে। এক্ষেত্রে প্রধান প্রশ্নগুলো হলো হামাসের নিরস্ত্রীকরণ, ইসরায়েলি সেনাদের সরিয়ে নেওয়া ও ফিলিস্তিনি ছিটমহলটির ভবিষ্যৎ শাসক কারা হবে। এসব প্রশ্ন এখনো অমীমাংসিত রয়ে গেছে।

ট্রাম্প তার দ্বিতীয় মেয়াদের প্রথম বছরে বৈদেশিক নীতিতে অর্জিত সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এই সাফল্য ধরে রাখতে হামাস ও ইসরায়েল, উভয়ের উপর চাপ বজায় রেখেছেন। সোমবার তিনি বলেছেন, যুদ্ধবিরতি বজায় রাখতে যুক্তরাষ্ট্র বিভিন্ন পদক্ষেপ নিচ্ছে।

‘হামাসের পরিস্থিতি’ দ্রুত সামাল দেওয়া হবে বলে সাংবাদিকদের জানিয়েছেন তিনি। কিন্তু এ ক্ষেত্রে ইসরায়েলকে ‘বিষয়টি দেখার কথাও’ বলেননি তিনি। হামাস যুদ্ধবিরতি চুক্তি লঙ্ঘন করলেও তিনি বলেছেন, সংগঠনটি তাদের কয়েকটি পদে ‘কিছু বিদ্রোহের’ মুখোমুখি হলেও হামাসের নেতৃত্ব এর জন্য দায়ী নয় বলে বিশ্বাস করেন তিনি।

সোমবার থেকে ইসরায়েল সফর শুরু করেছেন উইটকফ ও কুশনার। তারা যুদ্ধবিরতিকে আরও শক্তিশালী করার চেষ্টা করবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। তারপর তারা ট্রাম্পের ২০ ধাপের শান্তিপরিকল্পনার পরবর্তী পর্বগুলো নিয়ে আলোচনা শুরু করবেন। এই পর্বগুলো আরও কঠিন হবে বলে মনে করা হচ্ছে। এদিকে গতকাল মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সও ইসরায়েল পৌঁছেছেন। ইসরায়েলের সঙ্গে আলোচনার পাশাপাশি সোমবার রাত থেকে মিসরে হামাসের কর্মকর্তাদের সঙ্গেও আলোচনা শুরু হয়েছে। সব মিলিয়ে গাজাকে ঘিরে সর্বোচ্চ পর্যায়ের কূটনৈতিক তৎপরতা চালাচ্ছে যুক্ত রাষ্ট্র। এতে গাজা যুদ্ধবিরতিকে টেকসই করতে ট্রাম্প কতটা গুরুত্ব দিচ্ছেন তা বোঝা যাচ্ছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত