সেন্টমার্টিনে বার বি-কিউ, মোটরযান পলিথিন নিষিদ্ধ

আপডেট : ২৩ অক্টোবর ২০২৫, ০৫:৪২ এএম

সেন্টমার্টিন দ্বীপের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, পরিবেশ, প্রতিবেশ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় ভ্রমণ কার্যক্রমে কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করেছে সরকার। দ্বীপের পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য সুরক্ষায় নতুন করে ১২ দফা নির্দেশনা জারি করেছে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়। গতকাল বুধবার মন্ত্রণালয়ের পরিবেশ-২ শাখা থেকে এই নির্দেশনাসমূহ সংবলিত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।

সরকারি প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন ছাড়া কোনো নৌযানকে সেন্টমার্টিন দ্বীপে যাতায়াতের অনুমতি দিতে পারবে না। পর্যটকদের বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের স্বীকৃত ওয়েব পোর্টাল থেকে অনলাইনে টিকিট ক্রয় করতে হবে। প্রতিটি টিকিটে ঞৎধাবষ চধংং ও ছজ ঈড়ফব থাকবে, যা যাচাইযোগ্য  হবে। ছজ ঈড়ফব ছাড়া কোনো টিকিট নকল হিসেবে গণ্য হবে।

প্রজ্ঞাপনে আরও বলা হয়, নভেম্বর মাসে শুধু দিনের বেলায় ভ্রমণ করা যাবে, রাত্রিযাপন নিষিদ্ধ। ডিসেম্বর ও জানুয়ারি মাসে রাত্রিযাপনের অনুমতি থাকবে।

ফেব্রুয়ারি মাসে দ্বীপে পর্যটক যাতায়াত সম্পূর্ণভাবে বন্ধ থাকবে। এ ছাড়া প্রতিদিন সর্বোচ্চ দুই হাজারের বেশি পর্যটক দ্বীপে প্রবেশ করতে পারবেন না।

সেন্টমার্টিনের প্রাকৃতিক পরিবেশ অক্ষুণœ রাখতে দ্বীপে রাতে সৈকতে আলো জ¦ালানো, শব্দ সৃষ্টি বা বার-বি-কিউ পার্টি করা নিষিদ্ধ করা হয়েছে। তাছাড়া, কেয়া বনে প্রবেশ, কেয়া ফল সংগ্রহ বা ক্রয়-বিক্রয়, সামুদ্রিক কাছিম, পাখি, প্রবাল, রাজকাঁকড়া, শামুক-ঝিনুকসহ যেকোনো জীববৈচিত্র্যের ক্ষতি করা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ।

এ ছাড়া দ্বীপের সৈকতে মোটরসাইকেল, সি-বাইকসহ যেকোনো মোটরচালিত যানবাহন চলাচলও সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ থাকবে। নিষিদ্ধ পলিথিন বহন করা যাবে না এবং একবার ব্যবহার্য প্লাস্টিক যেমন চিপসের প্যাকেট, প্লাস্টিক চামচ, স্ট্র, সাবান ও শ্যাম্পুর মিনিপ্যাক, ৫০০ ও ১০০০ মিলিলিটারের প্লাস্টিক বোতল ইত্যাদি বহন নিরুৎসাহিত করা হয়েছে। পর্যটকদের নিজস্ব পানির ফ্লাস্ক সঙ্গে রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে, যেন প্লাস্টিক বর্জ্য হ্রাস পায়।

পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসানের সভাপতিত্বে মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত হয়। সভায় মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. ফারহিনা আহমেদ, বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধি, ই-টিকেটিং ব্যবস্থাপনা বাস্তবায়নকারী সংস্থা ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত