ওয়াসার তারে চোরের নজর

আপডেট : ২৩ অক্টোবর ২০২৫, ০৫:৫২ এএম

রাজশাহী ওয়াসার পানি সরবরাহে ব্যবহৃত পাম্প ঘরগুলো থেকে বৈদ্যুতিক তার চুরি বেড়ে গেছে। এ অবস্থায় পাম্প এলাকায় পুলিশের টহল বৃদ্ধি করার অনুরোধ জানিয়ে রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশ (আরএমপি) কমিশনার বরাবরে চিঠি দিয়েছে ওয়াসা। রাজশাহী সিটি করপোরেশন এলাকার ৩০টি ওয়ার্ডে ওয়াসার পাম্প ঘর রয়েছে ১২৩টি। এসব পাম্পের মাধ্যমে ভূ-গর্ভস্থ পানি তুলে নগরবাসীর জন্য সরবরাহ করা হয়। পাম্পগুলো থেকে বৈদ্যুতিক তার চুরি হয়ে যাওয়ায় হঠাৎ করেই সংশ্লিষ্ট এলাকায় পানি সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। এতে ভোগান্তিতে পড়ছেন এলাকার বাসিন্দারা। সবশেষ গত সোমবার রাতে নগরীর কাজলা এবং খোজাপুর গোরস্তান সংলগ্ন পাম্প ঘর থেকে তার চুরির ঘটনা ঘটে।

রাজশাহী ওয়াসা সূত্রে জানা গেছে, আগেও তার চুরির ঘটনা ঘটত, তবে সেটি ছিল সংখ্যায় খুবই কম। বছরে দু-একটি পাম্পঘর থেকে বৈদ্যুতিক তার চুরি হতো।

তবে এখন চুরি হচ্ছে প্রায়ই। চলতি মাসেই গত ১১ অক্টোবর বুধপাড়া বাইপাস পাম্পঘর, ১৬ অক্টোবর দায়রাপাক মোড়ের পাম্পঘর ও ১৯ অক্টোবর খলিল সরকারের মোড়ের পাম্পঘরে তার চুরি হয়।

এ অবস্থায় পাম্পঘর এলাকায় পুলিশের টহল বৃদ্ধির অনুরোধ জানিয়ে ওয়াসার সচিব সুবর্ণা রানী সাহা গত সোমবার আরএমপি কমিশনার মোহাম্মদ আবু সুফিয়ানকে চিঠি দেন। এ চিঠির সঙ্গে চুরি হওয়া পাম্পগুলোর তালিকা এবং শহরের মোট ১২৩টি পাম্পঘরেরই ঠিকানা দেওয়া হয়। তবে, আবেদন দেওয়ার রাতেই নগরীর কাজলা ও খোজাপুর গোরস্থান সংলগ্ন পাম্পে আবারও তার চুরির ঘটনা ঘটে।

রাজশাহী ওয়াসার প্রধান প্রকৌশলী পারভেজ মামুদ জানান, রাতে পাম্প ঘরগুলোতে চালক থাকেন না। মূলত যখন পাম্প চালানোর সময় হয় তখন অপারেটররা এগুলো চালাতে আসেন। এ সুযোগে চোরেরা তার চুরি করছে। আগে পাম্পের বাইরের অংশের তার চুরি হতো। এমন পরিপ্রেক্ষিতে তারের ধরন পরিবর্তন করা হয়েছে। তবে ইদানীং বাইরের তার আর চুরি না হলেও পাম্পের তালা ভেঙে ভেতরের তার চুরির ঘটনা ঘটছে। চোর কখনো তালা ভেঙে ঢুকছে। আবার পাম্পঘরের ছাদ ফুটো রয়েছে ভূ-গর্ভস্থ পাইপ কিংবা পাম্প তোলার জন্য। সেখানে সø্যাব থাকলেও তা সরিয়ে চোরেরা ঢুকে পড়ছে। এরপর বোর্ড থেকে পাম্প পর্যন্ত থাকা সাবমারসিবল তার ও টেন-আরএম তার কেটে নিয়ে যাচ্ছে। এর ফলে পাম্প বন্ধ হয়ে পানি সরবরাহ থেমে যাচ্ছে। এমন পরিপ্রেক্ষিতে পুলিশের সহযোগিতা চেয়ে চিঠি দেওয়া হয়েছে।

রাজশাহী ওয়াসার উপব্যবস্থাপনা পরিচালক (অর্থ ও প্রশাসন) তৌহিদুর রহমান বলেন, ‘রাতে পাম্প চলে না।

এ জন্য অপারেটররা সেখানে থাকেন না। আর আমাদের কোনো নৈশপ্রহরীও নেই। এই সুযোগে রাতে চুরির ঘটনা ঘটছে। এসব চুরির ঘটনায় আমরা সংশ্লিষ্ট থানায় অভিযোগ দিচ্ছি। পাশাপাশি ১২৩টি পাম্পঘরের তালিকাসহ পুলিশ কমিশনারকে চিঠি দিয়েছি যেন তারা এসব এলাকায় পুলিশের টহল বৃদ্ধি করেন। 

আরএমপির উপ-কমিশনার গাজিউর রহমান বলেন, আমরা চুরির যেসব অভিযোগ পেয়েছি সেগুলোর তদন্ত চলছে। চোর চক্রকে ধরার চেষ্টা চলছে। মেট্রোপলিটন এলাকার সব স্থাপনার নিরাপত্তার বিষয়টিকেই গুরুত্ব দিয়ে দেখছে পুলিশ। এ অবস্থায় রাতে টহল বৃদ্ধি করা হয়েছে বলে জানান তিনি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত