২৫ বছর ধরে বেতন নেই শতাধিক শিক্ষকের

আপডেট : ২৬ অক্টোবর ২০২৫, ০৮:০০ এএম

পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জ উপজেলায় প্রায় ২৫ বছর ধরে ২১টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বিনা বেতনে চাকরি করছেন শতাধিক শিক্ষক। বেতনভুক্ত না হওয়ায় দুঃসহ পরিস্থিতিতে মানবেতর জীবন কাটাচ্ছেন তারা। অনেকের অবসরের সময় ঘনিয়ে এসেছে। তাই পেশা ও জীবন নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন তারা। 

জানা গেছে, অধিকাংশ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ২২ থেকে ২৫ বছর ধরে পাঠদান চলছে। শিক্ষার্থীরা নিয়মিত পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছেন, ভালো ফলও করছেন। শিক্ষকরা দাবি করছেন, সরকারের দেওয়া এমপিওভুক্তির যাবতীয় শর্তাবলি পূরণ করেছেন তারা। তবুও প্রতিষ্ঠানগুলো এমপিওভুক্ত করছে না সরকার। তারা জানান, এসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষক ও কর্মচারী মিলে কর্মরত আছেন ২৫৫ জন, এদের মধ্যে দেড় শতাধিক শিক্ষক। এর মধ্যে চাকরির বিধিমালা অনুযায়ী আগামী ১ বছরের মধ্যে অবসরে যাবেন ৪৪ জন শিক্ষক। উপজেলার ২১ নন-এমপিও স্কুল ও কলেজে প্রায় ৪ হাজার শিক্ষার্থী নিয়মিত পড়াশোনা করছেন। পরীক্ষার ফলাফলও সন্তোষজনক।

সূত্রমতে, দেবীগঞ্জ উপজেলায় নন-এমপিও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ২১টি। এর মধ্যে ১৫টি স্কুলে ১০৫ জন শিক্ষক ও ৫৪ জন কর্মচারী, ৩টি কলেজে ৪৮ জন শিক্ষক ও ১৮ জন কর্মচারী, ২টি মাদ্রাসায় ১৪ জন শিক্ষক ও ৮ জন কর্মচারী, ১টি কারিগরি স্কুলে ৬ জন শিক্ষক ও ২ জন কর্মচারী কর্মরত আছেন।

উপজেলার দেবীডুবা ইউনিয়নের লক্ষ্মীর হাট নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯৯৮ সালে। এই প্রতিষ্ঠানে কর্মরত আছেন ৭ জন শিক্ষক ও ৪ জন কর্মচারী। প্রধান শিক্ষক নিতাই চন্দ্র রায় বলেন, ‘২৫ বছর ধরে বেতন ছাড়া ছাত্রছাত্রীদের পড়াচ্ছি। আমার সংসার এখন অর্থনৈতিকভাবে পঙ্গু। জীবনের সবটুকু সোনালি সময় এই বিদ্যালয়ে ব্যয় করেছি, বিনিময়ে ১ টাকাও ভাগ্যে জোটেনি। বেঁচে থাকলে হয়তো আর কয়েক বছর পর অবসরে যাব। সরকারের কাছে অনুরোধ, শিক্ষকদের জন্য না হলেও এই প্রতিষ্ঠানটিকে বাঁচিয়ে রাখতে অতি দ্রুত এমপিওভুক্ত করুন।’

উপজেলার সুন্দরদিঘি ইউনিয়নে অবস্থিত ছলিমনগর তোপকাচারী নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়। এটি প্রতিষ্ঠিত হয় ২০০০ সালে। এই প্রতিষ্ঠানেও ৭ জন শিক্ষক ও ৪ জন কর্মচারী কর্মরত আছেন। এই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও নন-এমপিও শিক্ষক-কর্মচারী ঐক্য পরিষদ পঞ্চগড় জেলা শাখার সভাপতি কফিল ইসলাম বলেন, ‘আমাদের নন-এমপিও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো একাডেমিক স্বীকৃতি ও পাঠদানের অনুমতিসহ এমপিওভুক্তির সব শর্ত পূরণ করেছে। অত্যন্ত দুঃখের বিষয়, সংসার চালাতে, ছেলেমেয়ের পড়ালেখার খরচ জোগান দিতে না পেরে অনেক শিক্ষক স্কুল বন্ধের সময় শ্রমিকের কাজ করেন, রিকশা চালিয়ে জীবনযাপন করছেন।’ তিনি আরও বলেন, ‘এমপিওভুক্তির বিষয়ে সরকার আমাদের বারবার আশ্বস্ত করলেও আজ পর্যন্ত কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেয়নি।’

এ ব্যাপারে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) সাইফুল আলম বলেন, ‘নন-এমপিও শিক্ষকদের এমপিওভুক্তি সরকারের উচ্চপর্যায়ের বিষয়। আমরা মাধ্যমিক পর্যায়ের প্রতিষ্ঠানগুলোতে পাঠ্যপুস্তক সরবরাহসহ বিভিন্ন সহযোগিতা করে যাচ্ছি।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত