চট্টগ্রামে যুবদলকর্মী আলমগীর হত্যাকাণ্ডে ‘সন্ত্রাসী’ রায়হানের সংশ্লিষ্টতা

আপডেট : ২৬ অক্টোবর ২০২৫, ০১:৩৪ পিএম

চট্টগ্রামের রাউজানে যুবদলকর্মী মুহাম্মদ আলমগীর আলম হত্যার ঘটনায় ‘সন্ত্রাসী’ রায়হানের সংশ্লিষ্টতার সন্দেহ করছে রাউজান থানা পুলিশ। এছাড়া জনৈক বখতেয়ার ফকির যুবদলকর্মী আলমকে হত্যার পরিকল্পনার সত্যতা ও সামনে আসে। 

শনিবার (২৫ অক্টোবর) ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া আলমগীর আলমের সঙ্গে মোবাইলে এক ব্যক্তির কথোপকথনের ভিডিওতে রায়হানের সংশ্লিষ্টতার বিষয়টি সামনে আসে। ওই ভিডিওতে ‘সন্ত্রাসী’ রায়হান নিয়ে নিজের জীবনহানির আশঙ্কা প্রকাশ করতেও দেখা যায় আলমগীরকে।

এ বিষয়ে রাউজান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুল ইসলাম ভূঁইয়া জানান, আলমগীর আলম খুনে জড়িতদের শনাক্তের চেষ্টা চলছে। নিহত আলম যাদের আগ থেকে সন্দেহ করতেন, তাদের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কি না তা গুরুত্ব দিয়ে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

যুবদলকর্মী মুহাম্মদ আলমগীর আলম হত্যাকাণ্ডের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটিতে দেখা যায়, এক ব্যক্তির সঙ্গে মোবাইল ফোনে কথা বলছেন আলম। ‘সন্ত্রাসী’ রায়হানের নাম উল্লেখ করে অপর প্রান্তে থাকা ব্যক্তিকে উদ্দেশ করে তাকে বলতে শোনা যায়, ‘তুমি যে শোডাউন করিয়েছ আতঙ্ক সৃষ্টি করে, আমাকে তো মেরেও ফেলতে পারত, তুমি তো ও রকম মানুষ নিয়ে এসে আমাকে মেরে ফেলতে পার।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমাকে তাড়ানোর জন্য তুমি এসব করছ।...ওরা অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে এসেছে আমাকে থ্রেট দিতে।’

নিজে কারাগারে থাকার প্রসঙ্গ টেনে আলমকে ওই ভিডিওতে বলতে শোনা যায়, ‘আমি বাঁচতে চাই। ১৭ বছর আমি স্ত্রী-সন্তানকে ছেড়ে কারাগারে ছিলাম। এখনো যদি তোমাদের কারণে কষ্টে থাকি, আমি কার কাছে যাব। আমাকে আইনের আশ্রয় নিতে হবে।’ তিনি বলেন, ‘তাদের অস্ত্রসহ কেন আনলে। তিনটি মোটরসাইকেলে অস্ত্র ছিল।...আমি তো এক ছিলাম। জনগণ পাশে আসায় ওরা চলে গেছে। নইলে তো আমার মৃত্যুর ঝুঁকি ছিল।’ আলমের সঙ্গে কথোপকথনের সময় অপর প্রান্তে কে ছিলেন, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে কথোপকথনে কয়েকজন স্থানীয় বিএনপি নেতার নাম উল্লেখ করেন আলম।

হত্যাচেষ্টার একটি মামলায় কারাগারে গিয়ে চট্টগ্রামের শীর্ষ ‘সন্ত্রাসী’ ছোট সাজ্জাদের সঙ্গে পরিচয় হয় রায়হানের। গত বছরের ৫ আগস্টের পর দুইজন কারাগার থেকে জামিনে বের হন। এরপর ছোট সাজ্জাদের সঙ্গে বেপরোয়া হয়ে ওঠেন রায়হান। সাজ্জাদ সম্প্রতি আবারও কারাগারে গেলে তার অস্ত্রভাণ্ডারের দেখভাল করছেন এই রায়হান।

তিন ভাই এক বোনের মধ্যে রায়হান দ্বিতীয়। ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে দলটির বিভিন্ন মিছিল ও সমাবেশে যোগ দিতেন রায়হান। স্থানীয় এক ইউনিয়ন পরিষদ সদস্যের সঙ্গে তার সখ্য ছিল। ক্ষমতার পটপরিবর্তনের পর বিএনপির সভায় যোগ দিতে শুরু করেন রায়হান।

পুলিশ জানায়, রায়হানের বিরুদ্ধে গত বছরের ৫ আগস্টের পর চট্টগ্রাম নগর ও জেলায় জোড়া খুনসহ বিভিন্ন অভিযোগে ১৩টি মামলা হয়েছে। এর মধ্যে ছয়টি হত্যা মামলা। জানা গেছে, ছোট সাজ্জাদের বাহিনীতে রয়েছেন ২৫ সক্রিয় সদস্য। গত ১৫ মার্চ ঢাকার একটি শপিং মল থেকে সাজ্জাদকে গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর বাহিনীর হাল ধরেন পাঁচ সহযোগী। তাঁদের অন্যতম সাজ্জাদের ডানহাত হিসেবে পরিচিত রায়হান। তিনি রাউজানের মৃত বদিউল আলমের ছেলে।

শনিবার বিকেলে মোটরসাইকেল চালিয়ে বাড়ি ফেরার সময় রাউজান পৌরসভার চারাবটতল বাজারসংলগ্ন কায়কোবাদ জামে মসজিদের সামনে আলমকে গুলি করে হত্যা করা হয়। এ সময় তার স্ত্রী ও সন্তান পেছনে একটি অটোরিকশায় ছিলেন। আলমের বাড়ি পার্শ্ববর্তী ঢালারমুখ এলাকায়।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত