উত্তরা ইপিজেডে শ্রমিক বিক্ষোভ

আপডেট : ২৮ অক্টোবর ২০২৫, ০৬:৩০ এএম

কয়েক দিনের আন্দোলনের জের ধরে উত্তাল হয়ে উঠেছে নীলফামারীর উত্তরা রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল (ইপিজেড)। বেতন-বোনাসসহ বিভিন্ন দাবিতে টানা আন্দোলনে নামেন শ্রমিকরা। প্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধ ঘোষণার পর গতকাল সোমবার সকালে ইপিজেডের মূল ফটকের সামনে বিক্ষোভ করেছে চারটি প্রতিষ্ঠানের কর্মরত শ্রমিকরা। ফলে ইপিজেড এলাকায় পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। খবর পেয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

জানা গেছে, গত রবিবার বিকেলে নোটিসের মাধ্যমে উত্তরা ইপিজেডের চারটি কারখানা যথাক্রমে দেশবন্ধু টেক্সটাইল মিলস লিমিটেড, সেকশন সেভেন ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেড, ইপিএফ প্রিন্টিং লিমিটেড এবং মেইগো বাংলাদেশ লিমিটেড অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধের ঘোষণা করা হয়। তাদের নোটিসে বলা হয়, গত ২৫ অক্টোবর থেকে কারখানার শ্রমিকরা অবৈধ ও অঘোষিত ধর্মঘট, কর্মবিরতি এবং উৎপাদন ব্যাহতসহ বিভিন্ন বিশৃঙ্খল কর্মকা-ে জড়িত হন। শ্রমিকদের সঙ্গে একাধিকবার আলোচনার চেষ্টা করেও কোনো সমাধানে না আসায় কর্তৃপক্ষ কারখানা আইন ১৯৬৫এর ধারা ১৩(১) অনুযায়ী ২৬ অক্টোবর থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করে।

এসব নোটিসে আরও বলা হয়, কারখানা বন্ধ থাকা অবস্থায় শ্রমিকদের বেতন, ওভারটাইম, ছুটি ও বোনাসসহ অন্যান্য পাওনা আইন অনুযায়ী প্রদান করা হবে। তবে এই সময়ে কোনো শ্রমিক বা কর্মকর্তা কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া কারখানায় প্রবেশ করতে পারবে না। পরিস্থিতি অনুকূলে এলে এবং উৎপাদনের পরিবেশ সৃষ্টি হলে কারখানা পুনরায় খোলার তারিখ জানানো হবে।

কারখানা বন্ধের প্রতিবাদ ও পুনরায় চালুর দাবিতে গতকাল সকাল থেকে ইপিজেডের প্রধান ফটকের সামনে শ্রমিকরা বিক্ষোভ করে। বিক্ষোভে অংশ নেওয়া চার কারখানার কয়েক শ্রমিক জানান, কারখানা কর্তৃপক্ষ তাদের প্রাপ্য বেতন বেতন নিয়মিত পরিশোধ করে না।

এ ছাড়া অতিরিক্ত সময় কাজ (ওভারটাইম) করলেও সেই পারিশ্রমিক দেওয়া হয় না। বেতন বাড়ানোসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে শান্তিপূর্ণ আন্দোলন করে আসছিল তারা। হঠাৎ চারটি কারখানা বন্ধ করে দেওয়ায় আমাদের শ্রমিক ও শ্রমিক পরিবারের জীবিকা অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। আমরা পরিবার চালাই এই কাজের আয়ে। কারখানা খুলে দেওয়ার দাবিতেই আমরা অবস্থান নিয়েছি। শ্রমিকরা বলেন, কারখানাগুলো পুনরায় চালুর দাবিতে সকালে ইপিজেডে সামনের অবস্থান নিয়েছি আমরা।

ইপিজেড বাজার এলাকার স্থানীয় বাসিন্দা আরমান হোসেন বলেন, আমরা এই ইপিজেডের আশায় লোন নিয়ে বাজারে ব্যবসা করছি। যদি এই কোম্পানিগুলো বন্ধ হয়ে যায় তাহলে আমরা কিভাবে চলব।

উত্তরা ইপিজেডের এক্সিকিউটিভে ডিরেক্টর মোহাম্মদ আব্দুল জব্বার দেশ রূপান্তরকে বলেন, রবিবার কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী চারটি কারখানা অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। সোমবার সকালে কিছু শ্রমিক ইপিজেডের প্রধান ফটকের সামনে বিক্ষোভ করে। আমরা মালিক পক্ষের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে দ্রুত বন্ধ চারটি কারখানা চালুর চেষ্টা করছি।

নীলফামারী সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এম আর সাঈদ বলেন, খবর পেয়ে ইপিজেড এলাকায় আমরা উপস্থিত হয়ে শ্রমিকদের সঙ্গে শান্তিপূর্ণভাবে কথা বলে তাদের বাড়িতে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে। কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে সেখানে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত