ইসলামী ব্যাংক মনোযোগী উদ্ভাবনী সেবায়

আপডেট : ৩০ অক্টোবর ২০২৫, ১০:৪৪ এএম

দেশ রূপান্তর : তথ্যপ্রযুক্তির এ সময়ে ইসলামী ব্যাংক গ্রাহকদের কী ধরনের ডিজিটাল সেবা দিচ্ছে?

মো. ওমর ফারুক খাঁন : আমরা প্রতিনিয়ত গ্রাহকদের চাহিদা ও সময়ের প্রয়োজন অনুযায়ী সেবা উদ্ভাবনে মনোযোগী। আমরা ডিজিটাল ব্যাংকিং সেবাকে সর্বাধিক গুরুত্ব দিচ্ছি। বর্তমানে ডিজিটাল ব্যাংকিং-সেলফিন, ইন্টারনেট ব্যাংকিং- আই ব্যাংকিং, মোবাইল ব্যাংকিং- এমক্যাশ, এটিএম, সিআরএম, পিওএস, কিউআর কোড পেমেন্টসহ নানামুখী ডিজিটাল সেবা চালু রয়েছে। এর মাধ্যমে গ্রাহক ঘরে বসেই হিসাব খোলা থেকে শুরু করে ব্যাংকিং লেনদেন, বিল পরিশোধ, রেমিট্যান্স গ্রহণ, চেক ইস্যু ও বিনিয়োগের টাকা সমন্বয় করতে পারছেন। ফলে ব্যাংকিং এখন অনেক সহজ, দ্রুত ও নিরাপদ হয়েছে।

দেশ রূপান্তর : আপনার ব্যাংকের ডিজিটাল কার্যক্রমের মূল দিকগুলো কী?

মো. ওমর ফারুক খাঁন : গ্রাহকসেবা সহজ করা, নিরাপত্তা বৃদ্ধি এবং প্রযুক্তিনির্ভর আর্থিক অন্তর্ভুক্তি নিশ্চিত করা আমাদের ব্যাংকের ডিজিটাল কার্যক্রমের মূল দিক। তাছাড়া, সাইবার নিরাপত্তা জোরদারে আমরা উন্নত এনক্রিপশন প্রযুক্তি, টু-ফ্যাক্টর অথেনটিকেশন ও নিরবচ্ছিন্ন মনিটরিং সিস্টেম ব্যবহার করছি। আমাদের লক্ষ্য হলো গ্রাহকদের জন্য একটি সম্পূর্ণ নিরাপদ, দ্রুত ও স্মার্ট ডিজিটাল ব্যাংকিং অভিজ্ঞতা নিশ্চিত করা।

দেশ রূপান্তর : ব্যাংকিংয়ের অন্যতম বিষয় হলো বিনিয়োগ সুবিধা। ডিজিটাল ব্যাংকিংয়ে আপনাদের কী ধরনের ঋণ সুবিধা আছে?

মো. ওমর ফারুক খাঁন : ডিজিটাল ব্যাংকিংয়ের আওতায় আমরা এখনো বিনিয়োগ সুবিধা চালু করিনি। ভবিষ্যতে আমরা ডিজিটাল বিনিয়োগ প্রক্রিয়া চালুর জন্য কাজ করছি। এর মাধ্যমে গ্রাহক ডিজিটাল মাধ্যমেই আবেদন, অনুমোদন ও অর্থগ্রহণ পর্যন্ত সব কিছু করতে পারবেন। এর মাধ্যমে ইসলামী ব্যাংকিং ব্যবস্থাকে আরও গতিশীল, স্বচ্ছ ও প্রযুক্তিনির্ভর পর্যায়ে নিয়ে যাওয়া যাবে বলে আমরা বিশ্বাস করি।

দেশ রূপান্তর : বিনিয়োগ বিতরণ ব্যবস্থা কি এনালগ পদ্ধতি নির্ভর, নাকি বিনিয়োগ আবেদন অনলাইনে করা সম্ভব?

মো. ওমর ফারুক খাঁন : বর্তমানে বিনিয়োগ বিতরণ প্রক্রিয়া প্রচলিত (এনালগ) পদ্ধতির মাধ্যমে সম্পন্ন করতে হচ্ছে। বিনিয়োগের ক্ষেত্রে কিছু গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্রে বিনিয়োগ গ্রহীতা ও সাক্ষীর স্বাক্ষরের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। এ কারণে ব্যাংক প্রচলিত এনালগ পদ্ধতির ওপর নির্ভরশীল। তবে প্রাথমিকভাবে বিনিয়োগের আবেদন, প্রয়োজনীয় তথ্য প্রদান ও নথি অনলাইনে জমা নেওয়া সম্ভব। পরবর্তী ধাপে ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট বিভাগ আবেদনটি যাচাই ও অনুমোদনের কাজ সম্পন্ন করতে পারে। অর্থাৎ, আবেদন ও প্রাথমিক মূল্যায়ন ডিজিটালভাবে হলেও, চূড়ান্ত অনুমোদন ও বিতরণ নিয়মতান্ত্রিক যাচাই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সম্পন্ন হয়। তবে আগামী দিনে পুরো এই প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ ডিজিটাল ও গ্রাহকবান্ধব হয়ে উঠবে।

দেশ রূপান্তর : বিতরণের পর ঋণ আদায়ে সমস্যার কথা সব সময় শুনে থাকি। এ ক্ষেত্রে ডিজিটাল ব্যাংকিংয়ে আপনাদের পরিস্থিতি কী?

মো. ওমর ফারুক খাঁন : ঋণ আদায় ব্যাংকিং খাতের একটি চ্যালেঞ্জিং দিক, তবে ডিজিটাল ব্যাংকিং এ ক্ষেত্রে অনেকটা সহায়ক হয়েছে। আমরা বিনিয়োগ আদায় প্রক্রিয়ায় প্রযুক্তিনির্ভর মনিটরিং সিস্টেম ব্যবহার করি, যার মাধ্যমে প্রতিটি গ্রাহকের কিস্তির পরিমাণ, মেয়াদ ও বকেয়া অবস্থা রিয়েল টাইমে পর্যবেক্ষণ করতে পারি। খিদমাহ বিল পরিশোধের জন্য গ্রাহকদের নিয়মিত এসএমএস ও অ্যাপ নোটিফিকেশনের মাধ্যমে কিস্তির তারিখ মনে করিয়ে দেওয়া হয়। ফলে ঋণ পরিশোধে অনিচ্ছাকৃত বিলম্ব অনেক কমেছে। সেলফিনের মাধ্যমে গ্রাহককে ঘরে বসে বিনিয়োগের টাকা পরিশোধের ব্যবস্থা করে দিয়েছি। এভাবে বিনিয়োগ আদায়ে কার্যকারিতা বৃদ্ধি পেয়েছে এবং অনাদায়ী বিনিয়োগের হার তুলনামূলকভাবে নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

দেশ রূপান্তর : গ্রাহক বিনিয়োগ সেবা নিতে এসে হয়রানির শিকার হন, এমন অভিযোগ আসে।

মো. ওমর ফারুক খাঁন : গ্রাহক হয়রানির বিষয়টি আমরা অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখি, কারণ ইসলামী ব্যাংক সব সময় গ্রাহককেন্দ্রিক সেবা নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

দেশ রূপান্তর : বিনিয়োগ খেলাপি বা ডিফল্টার এখন কেমন?

মো. ওমর ফারুক খাঁন : আমাদের খেলাপি বিনিয়োগের সিংহভাগ এস আলম গ্রুপের কাছেই। ঐতিহ্যগতভাবে ইসলামী ব্যাংকের খেলাপি বিনিয়োগ দেশের অন্যান্য ব্যাংকের তুলনায় অনেক কম ছিল। এ কারণে আমরা আন্তর্জাতিক রেটিংয়ে একটি শক্ত অবস্থানে ছিলাম। কিন্তু গত সরকারের আমলে ব্যাপক অনিয়ম, অব্যবস্থাপনা ও দুর্নীতির কারণে একটি গোষ্ঠীর কাছেই বিনিয়োগ কুক্ষিগত হয়ে পড়ে। জুলাই অভ্যুত্থানের পর এই বিনিয়োগ এখন খেলাপিতে রূপান্তরিত হয়েছে।

দেশ রূপান্তর : ডিজিটাল ব্যবস্থায় আদায়ের জটিলতা কেমন?

মো. ওমর ফারুক খাঁন : খেলাপি বিনিয়োগ আদায়ে ডিজিটাল ব্যবস্থাপনা নতুন সংযোজন। এ পদ্ধতি জটিলতা কমিয়েছে, বাড়ায়নি। ডিজিটাল ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে ব্যাংক একজন গ্রাহকের বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠানে ঋণের তথ্য তৎক্ষণাৎ জানতে পারায় দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে সহজ হয়। এছাড়া গ্রাহকরা এখন ডিজিটাল সেবার মাধ্যমে ঋণের অর্থ সহজে পরিশোধ করতে পারেন।

দেশ রূপান্তর : ডেবিট ও ক্রেডিট কার্ড সেবার ক্ষেত্রে ডিজিটাল ব্যবস্থায় কী কী সুবিধা-অসুবিধা রয়েছে?

মো. ওমর ফারুক খাঁন : ডেবিট ও ক্রেডিট কার্ড সেবায় ডিজিটাল ব্যাংকিং যুগান্তকারী পরিবর্তন এনেছে। ডিজিটাল কার্ড সেবায় ইসলামী ব্যাংকের গ্রাহকরা এখন দিন-রাত ২৪ ঘণ্টা লেনদেন করতে পারছেন। ‘কন্টাক্টলেস’ পেমেন্ট সুবিধায় শুধু কার্ড ট্যাপ করেই অর্থ পরিশোধ করা যায়। মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে কার্ড অ্যাক্টিভেশন, ব্যালেন্স দেখা, স্টেটমেন্ট ডাউনলোড এবং লেনদেনের তাৎক্ষণিক নোটিফিকেশন পাওয়া যাচ্ছে। পাশাপাশি, ই-কমার্স ও বিল পেমেন্টেও কার্ড ব্যবহারের সুযোগ বৃদ্ধি পেয়েছে। কখনো কখনো অনলাইন লেনদেনে টেকনিক্যাল সমস্যা বা ইন্টারনেট সংযোগের দুর্বলতার কারণে লেনদেন কিছুটা বিলম্বিত হতে পারে। এছাড়া, সাইবার নিরাপত্তা ঝুঁকিও একটি চ্যালেঞ্জ, যদিও আমরা উন্নত এনক্রিপশন, টু-ফ্যাক্টর অথেনটিকেশন এবং মনিটরিং সিস্টেমের মাধ্যমে তা নিয়ন্ত্রণে রাখছি। সব মিলিয়ে, ডিজিটাল কার্ড সেবা গ্রাহকদের ব্যাংকিং অভিজ্ঞতাকে অনেক আধুনিক ও সহজ করেছে। আর আমরা নিয়মিতভাবে নিরাপত্তা ও সেবার মান আরও উন্নত করতে কাজ করে যাচ্ছি।

দেশ রূপান্তর : ডিজিটাল সেবার অন্যতম জনপ্রিয় দিক হলো অ্যাপের ব্যবহার। আপনার ব্যাংক এক্ষেত্রে কী উদ্যোগ নিয়েছে? গ্রাহক অ্যাপের সেবায় কেমন সাড়া দিচ্ছে?

মো. ওমর ফারুক খাঁন : ডিজিটাল ব্যাংকিং সেবার সবচেয়ে জনপ্রিয় দিক এখন মোবাইল অ্যাপভিত্তিক সেবা। ইসলামী ব্যাংক এ ক্ষেত্রে দেশে অগ্রণী ভূমিকা পালন করছে। আমরা ‘সেলফিন’ ও ‘আই-স্মার্ট’ নামে দুটি উন্নতমানের অ্যাপ চালু করেছি। এর মাধ্যমে গ্রাহক ব্যাংকিংয়ের প্রায় সব সুবিধাই ডিজিটাল ভাবে পাচ্ছেন। ফলে গ্রাহকদের সাড়া অত্যন্ত ইতিবাচক। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্ম ও প্রবাসী বাংলাদেশিরা এ সেবাকে ব্যাপকভাবে গ্রহণ করেছেন। ব্যবহারবান্ধব ইন্টারফেস, নিরাপদ লেনদেন ও কলসেন্টারে ২৪/৭ সেবার কারণে সেলফিন অ্যাপ এখন আমাদের অন্যতম জনপ্রিয় ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে পরিণত হয়েছে। আমরা নিয়মিতভাবে অ্যাপটিতে নতুন ফিচার সংযোজন, নিরাপত্তা জোরদার ও ব্যবহার অভিজ্ঞতা উন্নত করার কাজ চালিয়ে যাচ্ছি, যেন গ্রাহকরা একটি নিরবচ্ছিন্ন, দ্রুত ও আধুনিক ব্যাংকিং সেবা পান।

দেশ রূপান্তর : প্রবাসীদের কীভাবে ইসলামী ব্যাংক সেবা দিয়ে থাকে?

মো. ওমর ফারুক খাঁন : সেলফিনের মাধ্যমে গ্রাহক হিসাব খোলা, টাকা জমা দেওয়া ও অন্য হিসাবে পাঠানোর কাজগুলো করতে পারেন। দেশের বাইরে সৌদি আরব, ওমান, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, দক্ষিণ কোরিয়া, সিঙ্গাপুরে আমাদের প্রতিনিধি আছে। এর বাইরে ১৬২টি এক্সচেঞ্জ হাউজের মাধ্যমেও প্রবাসীরা টাকা পাঠান। দেশের বিভিন্ন স্থানে প্রায় ২ হাজার ৮০০ এজেন্ট ব্যাংকিং হয়, যার মাধ্যমে প্রবাসীদের পাঠানো অর্ধেকের বেশি টাকা পৌঁছানো হয়।  

দেশ রূপান্তর : মাস শেষে অনেক চাকরিজীবীকে এখনো টাকার জন্য ব্যাংকে যেতে হয়। বিশেষ করে কম বেতনের চাকরিজীবীদের। ডিজিটাল সেবায় কম বেতনের চাকরিজীবীদের জন্য আপনাদের কী ব্যবস্থা রয়েছে?

মো. ওমর ফারুক খাঁন : কম বেতনের চাকরিজীবীদের আর্থিক স্বাচ্ছন্দ্য নিশ্চিত করতে আমরা ডিজিটাল সেবার পরিসর দ্রুত বাড়াচ্ছি। ইতিমধ্যে অনেক প্রতিষ্ঠান আমাদের ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে কর্মীদের বেতন সরাসরি তাদের ব্যাংক হিসাবে কিংবা মোবাইল ওয়ালেটে দিচ্ছে। ফলে বেতন গ্রহণের জন্য আর কাউকে ব্যাংকে ছুটতে হচ্ছে না।

কর্মীরা এখন আমাদের সেলফিন অ্যাপ, এমক্যাশ এবং ডেবিট কার্ড ব্যবহার করে দেশের যে কোনো জায়গায় ছড়িয়ে থাকা এটিএম বুথ থেকে সহজেই টাকা তুলতে পারেন। শুধু তাই নয়, শপিং মল, হাসপাতাল, রেস্টুরেন্ট এবং ই-কমার্স প্ল্যাটফর্মে আমাদের কার্ডের মাধ্যমে তাৎক্ষণিক পেমেন্ট করা যাচ্ছে। একই সঙ্গে ডিজিটাল সার্ভিসের মাধ্যমে ফান্ড ট্রান্সফার, ডিপিএস কিস্তি পরিশোধ, ইউটিলিটি বিল প্রদানসহ প্রায় সব ধরনের আর্থিক লেনদেন ঘরে বসেই সম্পন্ন করা সম্ভব। অর্থাৎ, প্রয়োজনীয় ব্যাংকিং সেবা এখন হাতের মুঠোয়। এতে তাদের সময়, খরচ ও ভোগান্তি সবই কমে আসছে।

দেশ রূপান্তর : ডিজিটাল ব্যাংকিংয়ে ইসলামী ব্যাংকের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কী?

মো. ওমর ফারুক খাঁন : একটি সম্পূর্ণ ডিজিটাল, গ্রাহককেন্দ্রিক এবং শরিয়াহসম্মত ব্যাংকিং পরিবেশ গড়ে তোলা আমাদের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার মূল লক্ষ্য হলো। আমরা এমন একটি ইকোসিস্টেম তৈরি করছি যেখানে গ্রাহক যে কোনো সময়, যে কোনো জায়গা থেকে কাগজবিহীন,  দ্রুত এবং সহজ প্রক্রিয়ায় তার সব আর্থিক লেনদেন সম্পন্ন করতে পারবেন।

আমরা বিনিয়োগ কার্যক্রমকে পুরোপুরি ডিজিটাল করার দিকে অগ্রসর হচ্ছি। বিনিয়োগের আবেদন, প্রয়োজনীয় নথির যাচাই, প্রক্রিয়াকরণ, অনুমোদন এবং বিতরণ সব ধাপই অনলাইনে সম্পন্ন করার পরিকল্পনা রয়েছে।

পাশাপাশি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও অত্যাধুনিক অ্যানালিটিক্স ব্যবহার করে গ্রাহকসেবা আরও দ্রুত, নির্ভুল ও নিরাপদ করার কাজ চলছে।

আমাদের লক্ষ্য শুধু প্রযুক্তির ব্যবহার নয়, বরং প্রযুক্তির মাধ্যমে ন্যায়ভিত্তিক, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও টেকসই ব্যাংকিং সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠা করা। সারা দেশের মানুষ, বিশেষ করে ব্যাংকিং সেবার বাইরে থাকা জনগোষ্ঠীকে ডিজিটাল সুবিধার আওতায় নিয়ে আসাই আমাদের আগামীর ব্যাংকিং যাত্রার প্রধান প্রতিশ্রুতি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত