রাজধানীর দক্ষিণখান এলাকা থেকে এক জুলাই যোদ্ধার লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। মৃত আরমান আহমেদ শাফিন (২৬) জুলাই যোদ্ধা সংসদের আহ্বায়ক। গতকাল শনিবার দুপুরে দক্ষিণখান আদম আলী মার্কেট এলাকার বাসা থেকে তার লাশ উদ্ধার করা হয়। প্রত্যক্ষদর্শীরা তার লাশ সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় খাটের ওপর হাঁটু গেড়ে থাকা অবস্থায় দেখতে পান। এ ছাড়া পায়ে আঘাতের চিহ্ন দেখা গেছে, এতে তার মৃত্যুর কারণ নিয়ে রহস্য সৃষ্টি হয়েছে। সহপাঠী ও স্বজনরা এ ঘটনাটিকে পরিকল্পিত হত্যাকা- বলে অভিযোগ করেছেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে দক্ষিণখান থানার ওসি তাইফুর রহমান মির্জা দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘লাশ ঝুলন্ত অবস্থায় পাওয়া গেছে। তবে হত্যা নাকি আত্মহত্যা সেটি পোস্টমর্টেম রিপোর্ট এলে সঠিক কারণ জানা যাবে। ঘটনাস্থল থেকে প্রয়োজনীয় আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে। আমরা এ ঘটনাটি গুরুত্বসহকারে তদন্ত শুরু করেছি।’
জানা গেছে, আরমান আহমেদ শাফিন উত্তরা সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী ছিলেন। জুলাই আন্দোলন চলাকালে উত্তরা এলাকায় সম্মুখ সারির নেতৃত্বে ছিলেন তিনি। উত্তরা ৮ নম্বর সেক্টরসংলগ্ন আদম আলী মার্কেট এলাকার ওই বাসায় পরিবারের সঙ্গে বসবাস করতেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মরদেহটি বাসার খাটের ওপরে থাকা সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ফাঁস দেওয়া অবস্থায় হাঁটু গেড়ে ছিল এবং তার পায়ের পাতায় আঘাতের চিহ্ন ছিল। যে আঘাতের ফলে তার পায়ের পাতা নীল হয়ে থাকতে পারে। এমন দৃশ্যে স্থানীয়সহ স্বজনরা হত্যা করে ঝুলিয়ে রাখার অভিযোগ করেন। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন উত্তরা এলাকার সাবেক সমন্বয়ক নুর মোহাম্মদ বলেন, ছবি দেখে মনে হচ্ছে এটা কোনো নরমাল সুইসাইডাল কেস নয়। কেউ মেরে ঝুলিয়ে রেখেছে। এত অল্প জায়গাতে সুইসাইড কীভাবে হয়? তার পায়ের পাতায়ও আঘাতের স্পষ্ট চিহ্ন দেখা গেছে।
সন্ধ্যায় ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অব বিজনেস অ্যাগ্রিকালচার অ্যান্ড টেকনোলজির (আইইউবিএটি) শিক্ষার্থী রাজু আহম্মেদ বলেন, আরমানের লাশ অ্যাম্বুলেন্সে তুলে দিয়ে তার মাকে নিয়ে বাসায় যাচ্ছি। আরমানের মা বারবার জিজ্ঞেস করছে ‘আমার ছেলেকে কেন নিল?’ আমরা মায়ের কান্না বিজড়িত এই প্রশ্নের উত্তর দিতে পারছি না।’
