জলমহাল নীতিমালায় প্রবহমান নদী ইজারার বিধান না থাকলেও পাবনায় প্রবহমান নদীকে বদ্ধ জলাশয় দেখিয়ে মাছ চাষের জন্য ইজারা দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেছে জেলা প্রশাসন। সম্প্রতি জেলার ২৬টি জলাশয় ইজারার বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে জেলা প্রশাসন। এর মধ্যে ইছামতী ও পদ্মাসহ চারটি নদী রয়েছে, যা শ্রেণি পরিবর্তন করে বদ্ধ জলাশয় দেখিয়ে মাছ চাষের জন্য ইজারা দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
জানা গেছে, গত বছরের ১৪ জানুয়ারি জেলায় ৬৩টি জলাশয় ইজারা দেওয়ার বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে জেলা প্রশাসন। এর মধ্যে ৩১টি ছিল বিভিন্ন নদীর অংশ। গণমাধ্যমে এ নিয়ে সংবাদ প্রকাশ হলে ওই সময় ব্যাপক সমালোচনা হয়। পরে বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি (বেলা) আইনি নোটিস পাঠালে প্রশাসন নদীর অংশ ইজারা দেওয়া বন্ধ করে। কিন্তু এই আইনি সতর্কতায়ও অবস্থান বদলায়নি জেলা প্রশাসনের।
চলতি বছরের ১৩ অক্টোবর আবারও জেলা প্রশাসন ৮টি উপজেলার ২৬টি জলাশয় ছয় বছরের জন্য ইজারা আহ্বান জানিয়ে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে। এসব জলাশয়ের মধ্যে চারটিই নদীর অংশ। যার মধ্যে রয়েছে জেলার মধ্য দিয়ে প্রবাহিত ইছামতী ও পদ্মা নদীর অংশ। এ বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, পাবনা সদর উপজেলার পদ্মার কোল (পদ্মা নদীর একটি শাখা)-এর ২১ একর এলাকা এবং সাঁথিয়া উপজেলার তিনটি স্থানে ইছামতী নদীর ১০৭ একর এলাকা অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। ২০ অক্টোবর থেকে আগামী ১৫ নভেম্বর পর্যন্ত ইজারাপ্রত্যাশীরা অনলাইনে আবেদন জমা দিতে পারবেন বলে ইজারা বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ ব্যাপারে পাবনার জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মফিজুল ইসলাম বলেন, নিয়ম অনুযায়ী বদ্ধ জলাশয় ইজারা দেওয়ার জন্য এই বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছে। ২০ একরের বেশি আয়তনের তালিকাভুক্ত জলাশয় উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় সঠিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করে ইজারা দেওয়া হচ্ছে।
কেন নদীর অংশ ইজারার অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে এ প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘এগুলো দেশের বদ্ধ জলাশয়ের তালিকায় আগে থেকেই অন্তর্ভুক্ত আছে।’
পাবনার বেড়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. জাহিদুল ইসলাম বলেন, ইছামতী নদীর একটি অংশ জলমহাল হিসেবে নিবন্ধিত, তাই জেলা প্রশাসন সেটি ইজারা দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে। একইভাবে পদ্মার কোলও ইজারা দেওয়া হচ্ছে, যদিও এটি পদ্মা নদীরই অংশ এবং একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রাকৃতিক মাছ ধরার স্থান।
জেলা প্রশাসনের এ পদক্ষেপের সমালোচনা করে বেলা রাজশাহী আঞ্চলিক কার্যালয়ের সমন্বয়ক তন্ময় সান্যাল বলেন, ২০১৯ সালের ৩ ফেব্রুয়ারির আদালতের রায়ের মাধ্যমে দেশের সব নদীকে ‘জীবন্ত সত্তা’ হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। আইন অনুযায়ী নদীতে প্রবেশাধিকার কেউ সীমিত করতে পারে না বা রাজস্ব আয়ের জন্য নদীর কোনো অংশ বা শাখা ইজারা দেওয়া যায় না। অর্থাৎ বিদ্যমান আইনে নদীর কোনো অংশ ইজারা দেওয়ার সুযোগ নেই। এটি আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।
