জম্মু ও কাশ্মীরে আয়োজিত টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্ট ইন্ডিয়ান হেভেন প্রিমিয়ার লিগ নাটকীয়ভাবে ধসে পড়েছে। আয়োজকেরা মাঝরাতে শ্রীনগর ছেড়ে উধাও হয়ে যাওয়ার পর হোটেলের বকেয়া বিল, খেলোয়াড়দের বেতন এবং ম্যাচ কর্মকর্তাদের পারিশ্রমিক পরিশোধ ছাড়াই পুরো আয়োজন থেমে যায়। আন্তর্জাতিক তারকা ক্রিস গেইল, মার্টিন গাপটিল, জেসি রাইডার, থিসারা পেরেরা—এঁরা সবাই অংশ নিয়েছিলেন এই টুর্নামেন্টে। কিন্তু রবিবার সকালে বাকশি স্টেডিয়াম ফাঁকা, প্রায় ৪০ জন খেলোয়াড় অনিশ্চয়তার মধ্যে আটকে রয়েছেন বলে জানিয়েছে ভারতীয় গণমাধ্যম।
এই টুর্নামেন্টে খেলার কথা ছিল বাংলাদেশের সাকিব আল হাসানেরও। গত ১৫ অক্টোবর টুর্নামেন্টের অফিশিয়াল ইনস্টাগ্রাম পেজে প্রকাশিত ভিডিওতে সাকিবকে এই টুর্নামেন্টে ‘অংশ নেবেন’ বলতে দেখা যায়; যদিও পরে খেলেছেন কি না নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
ইংলিশ আম্পায়ার মেলিসা জুনিপার বলেন, “আয়োজকেরা হোটেল থেকেই পালিয়ে গেছে। হোটেল, খেলোয়াড়, আম্পায়ার—কাউকেই টাকা দেয়নি। অবশেষে হোটেলের সঙ্গে সমঝোতা করে আমরা খেলোয়াড়দের বাড়ি ফেরার ব্যবস্থা করছি। এভাবে ওদের আটকে রাখা অন্যায়।”
শ্রীনগরের দ্য রেসিডেন্সি হোটেল-এর এক কর্মকর্তা জানান, “আয়োজকেরা গেইলদের মতো তারকাদের এনে কাশ্মীরের পর্যটন বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। কিন্তু রবিবার সকালে দেখি তারা হোটেল ছেড়ে গায়েব, বিল পরিশোধ না করেই।”
ভারতের সাবেক ক্রিকেটার পারভেজ রাসুল বলেন, “একজন ইংলিশ আম্পায়ার ব্রিটিশ দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন, কারণ কিছু খেলোয়াড়কে প্রথমে হোটেল থেকে বের হতেও দেওয়া হয়নি।”
ভারতীয় একজন ক্রিকেটার জানান, টুর্নামেন্টের প্রথম দিন থেকেই বিশৃঙ্খলা ছিল। “আমরা ভেবেছিলাম আন্তর্জাতিক তারকাদের সঙ্গে খেলার বিরল সুযোগ পাচ্ছি। কিন্তু স্পনসররা হয়তো শেষ মুহূর্তে সরে যায়, দর্শকও ছিল কম। প্রথম দিন কোনো ইউনিফর্মই ছিল না, স্থানীয়ভাবে কিনে আনা হয়। এমনকি কোনো প্লেয়ার কনট্রাক্টও সই করানো হয়নি।”
জম্মু ও কাশ্মীর ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশনের সঙ্গে ইউভা সোসাইটি নামের একটি এনজিওর সঙ্গে যৌথভাবে এই লিগের আয়োজন করেছিল। ক্রীড়া পরিষদ জানায়, তারা শুধু অবকাঠামো ও নিরাপত্তার অনুমতি দিয়েছে। কিন্তু ২২ অক্টোবর প্রকাশিত এক সরকারি প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে দেখা যায়, বিভাগীয় কমিশনার অশুল গর্গ নিজেই এই লিগের প্রস্তুতি সভা’য় সভাপতিত্ব করেছিলেন এবং ২৫–৩০ হাজার দর্শক উপস্থিতির পূর্বাভাস দিয়েছিলেন।
গত ১৮ সেপ্টেম্বর ঘোষণা করা হয়েছিল ইন্ডিয়ান হেভেন প্রিমিয়ার লিগ—যুব উন্নয়ন ও কাশ্মীরের ক্রীড়া পর্যটনে নতুন দিগন্ত খুলবে বলে দাবি করা হয়। মেন্টর সুরিন্দর খান্না বলেছিলেন, “এটা হবে কাশ্মীরের তরুণদের জন্য সুবর্ণ সুযোগ।”
৮টি দল ও ৩২ জন সাবেক আন্তর্জাতিক খেলোয়াড় নিয়ে ২৩ অক্টোবর থেকে ৭ নভেম্বর পর্যন্ত ম্যাচ আয়োজনের পরিকল্পনা ছিল। গেইলের প্রথম ম্যাচগুলোতে কিছু দর্শক এলেও পরে গ্যালারি প্রায় ফাঁকা হয়ে যায়। টিকিটের দাম কমানো হয়, স্পনসররা সরে দাঁড়ায়, আর কয়েক দিনের মধ্যেই সব বন্ধ হয়ে যায়।
টুর্নামেন্টের ১৩টি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়েছিল। ১ ও ২ নভেম্বরের ম্যাচ বাতিল হয় আয়োজকদের পলায়নের কারণে। বাকি ছিল আরও ১৪টি ম্যাচ, দুটি সেমিফাইনাল ও ফাইনালসহ।
বিসিবির ইতিহাসে দ্বিতীয় নারী পরিচালক হলেন রুবাবা দৌলা
২৪ ঘণ্টায় শান্তকে অধিনায়কত্বে ফেরাতে যেভাবে রাজি করালেন ফারুক