ইতিহাসের প্রবীণতম অলিম্পিক চ্যাম্পিয়নের মৃত্যু

আপডেট : ০৩ নভেম্বর ২০২৫, ০৮:০৪ পিএম

ফ্রান্সের কিংবদন্তি সাইক্লিস্ট চার্লস কস্তে আর নেই। ১০১ বছর বয়সে পৃথিবীর মায়া ত্যাগ করেছেন ১৯৪৮ সালের লন্ডন অলিম্পিকের এই স্বর্ণজয়ী, যিনি প্যারিস ২০২৪ অলিম্পিকে মশাল হাতে নিয়ে বিশ্বের প্রবীণতম জীবিত অলিম্পিক চ্যাম্পিয়ন হিসেবে ইতিহাস গড়েছিলেন।

ফরাসি ক্রীড়ামন্ত্রী মারিনা ফেরারি বৃহস্পতিবার কস্তের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করে বলেন, “গভীর আবেগ নিয়ে জানলাম ১৯৪৮ সালের লন্ডন অলিম্পিকের চ্যাম্পিয়ন ও প্যারিস ২০২৪-এর মশালবাহক চার্লস কস্তের প্রয়াণের সংবাদ। ১০১ বছর বয়সে তিনি রেখে গেছেন বিশাল ক্রীড়া ঐতিহ্য।”

গতবছর প্যারিস অলিম্পিকের মশাল প্রজ্বলনে ছিলেন চার্লস কস্তে

১৯২৪ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি ফ্রান্সের দক্ষিণাঞ্চলীয় ওলিউল শহরে জন্ম নেন কস্তে। সাধারণ পরিবার থেকে উঠে এসে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ-পরবর্তী সময়ে তিনি হয়ে ওঠেন ফ্রান্সের অন্যতম ক্রীড়া নায়ক।

লন্ডন অলিম্পিকে তিনি দলগত ৪,০০০ মিটার পারস্যুট সাইক্লিংয়ে সার্জ ব্লুসন, ফার্নান দেকানালি ও পিয়ের আদামের সঙ্গে স্বর্ণপদক জেতেন। যুদ্ধবিধ্বস্ত ফ্রান্সের জন্য সেই জয় ছিল নতুন সূচনার প্রতীক। পরে এক সাক্ষাৎকারে কস্তে বলেছিলেন, “অলিম্পিক স্বর্ণ জেতা এক অবর্ণনীয় আনন্দের মুহূর্ত। আমরা এতটাই উচ্ছ্বসিত ছিলাম যে, ব্রিটিশরা ‘লা মার্সেলিজ’ না বাজালেও তাতে কিছুই যায় আসেনি!”

অলিম্পিক সাফল্যের পর কস্তে ১৯৪৯ সালে গ্রঁ প্রি দে নাসিওঁ জেতেন— যেখানে তিনি ইতালির কিংবদন্তি ফাউস্টো কপিকে ১২ সেকেন্ডে হারান। এরপর ১৯৫৩ সালে প্যারিস–লিমোজ ও ১৯৫৪ সালে রঁদ দ্য মোনাকো রেসেও চ্যাম্পিয়ন হন।

বুদ্ধিদীপ্ত কৌশল, নম্রতা ও স্পোর্টসম্যানশিপের জন্য কস্তে ছিলেন ক্রীড়া দুনিয়ার শ্রদ্ধেয় নাম। ১৯৫৯ সালে পেশাদার সাইক্লিং থেকে অবসর নিয়ে তিনি তরুণ সাইক্লিস্টদের প্রশিক্ষণ ও অনুপ্রেরণা দিতে নিজ শহরেই কাজ চালিয়ে যান।

২০২৪ সালের জুলাইয়ে শতবর্ষ পার করা কস্তে প্যারিস অলিম্পিকের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মশাল হাতে বিশ্বকে আবেগে ভাসান। তিনি মশাল হস্তান্তর করেন জুডো তারকা টেডি রিনার ও স্প্রিন্ট কিংবদন্তি মেরি-জোসে পেরেকের হাতে। পরে কস্তে বলেছিলেন, “এ যেন এক পূর্ণচক্রের সমাপ্তি— লন্ডনের ধ্বংসস্তূপ থেকে প্যারিসের আলোকিত আকাশ পর্যন্ত, খেলাধুলা সবকিছু সারিয়ে তোলে।”

প্যারিস ২০২৪-এর প্রেসিডেন্ট এস্তানগুয়ে কস্তেকে অভিহিত করেন “ফরাসি ক্রীড়ার প্রবীণতম মহারথী” হিসেবে। টেডি রিনার সামাজিক মাধ্যমে লেখেন, “তুমি আমাকে শুধু মশাল দাওনি, চার্লস— তুমি আমাদের সবার ভেতর এক অনন্ত আগুন জ্বেলে দিয়েছ।” পেরেকও লিখেছেন, “তিনি ছিলেন সৌন্দর্যের প্রতিমূর্তি, এক অনিন্দ্যসুন্দর সাইক্লিস্ট। তাঁর হাত থেকে মশাল গ্রহণ ছিল আমার জীবনের সেরা সম্মান।”

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত