আমরা জানি, দেশের পোশাকশিল্প অর্থনীতির মেরুদণ্ড। ৪ কোটিরও বেশি মানুষের জীবন-জীবিকা এই শিল্পের ওপর নির্ভরশীল, যা দেশের মোট রপ্তানি আয়ের প্রায় ৮২ শতাংশ। সাম্প্রতিককালে এই খাত, তীব্র অস্থিরতা ও বহুমুখী চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন। বিশেষত, শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি এবং কারখানার নিরাপদ পরিবেশ নিয়ে চলমান বিতর্ক, অস্থিরতার মূল কারণ। শ্রমিকদের দীর্ঘদিনের মজুরি বৃদ্ধির দাবি, বিশেষত উচ্চ মূল্যস্ফীতির এ সময়ে, নতুন সংকট তৈরি করেছে। যদিও সর্বশেষ মজুরি কাঠামো অনুযায়ী, পোশাক শ্রমিকদের সর্বনিম্ন মজুরি ৮,০০০ টাকা থেকে বৃদ্ধি করে ১২,৫০০ টাকা করা হয়েছে। কিন্তু শ্রমিক সংগঠনগুলো মনে করে, এই বৃদ্ধি বর্তমান বাজার দরের তুলনায় যথেষ্ট নয়। সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের তথ্য অনুযায়ী, জীবনযাত্রার ব্যয়বৃদ্ধির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে মজুরি ন্যূনতম ২২,০০০ থেকে ২৫,০০০ টাকা হওয়া উচিত। মজুরি বোর্ডের সিদ্ধান্ত ঘোষণার পর যে বিক্ষোভ দেখা দিয়েছিল, তা এই শিল্পের স্থিতিশীলতার জন্য একটি বড় উদ্বেগের কারণ। মজুরি বৃদ্ধির পরও শ্রমিকদের ক্রয়ক্ষমতা কার্যত কমছে। কারণ দেশের গড় খাদ্য মূল্যস্ফীতি এখনও ৯ শতাংশের ওপরে।
বাংলাদেশ গার্মেন্টস ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের তথ্যমতে, জানুয়ারি ২০২৪ থেকে মার্চ ২০২৫ পর্যন্ত তাদের সদস্যভুক্ত ১১৩টি পোশাক কারখানা স্থায়ীভাবে বন্ধ হয়ে গেছে। এর ফলে প্রায় ৯৬,০০০-এরও বেশি শ্রমিক চাকরি হারিয়ে বেকার। যদিও এই সময়ে নতুন কিছু কারখানা চালু হয়েছে, কিন্তু বন্ধ হওয়া কারখানার সংখ্যা এবং বেকারত্বের হার উদ্বেগজনক। পোশাকশিল্প প্রধানত ঢাকা ও চট্টগ্রামকেন্দ্রিক হওয়ায়, দুই অঞ্চলেই অস্থিরতার প্রভাব বেশি অনুভূত হচ্ছে। গাজীপুর, সাভার, নারায়ণগঞ্জ এবং চট্টগ্রামের ইপিজেডসহ বিভিন্ন এলাকায় কারখানা বন্ধের ঘটনা বেড়েছে। শুধু চট্টগ্রামেই গত ৬ মাসে ৫২টি পোশাক কারখানা বন্ধ হয়ে যাওয়ার তথ্য জানা গেছে, যা হাজার হাজার শ্রমিককে বেকার করেছে। বন্ধ হয়ে যাওয়া কারখানাগুলোর অধিকাংশই ছিল ছোট ও মাঝারি আকারের, যারা আন্তর্জাতিক ক্রয়াদেশের পতন এবং কঠোর কমপ্লায়েন্সের মান ধরে রাখতে ব্যর্থ হয়েছে। অধিকাংশ ক্ষেত্রে শ্রমিকরা তাদের বকেয়া মজুরি ও প্রাপ্য সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত। যে কারণে মানবেতর জীবনযাপন করছে, যা সমাজের ওপর গুরুতর অর্থনৈতিক ও সামাজিক চাপ সৃষ্টি করছে। রানা প্লাজা ট্র্যাজেডির পর অ্যাকর্ড (বর্তমানে ইন্টারন্যাশনাল অ্যাকর্ড ফর হেলথ অ্যান্ড সেইফটি ইন দ্য টেক্সটাইল অ্যান্ড গার্মেন্টস ইন্ডাস্ট্রি) এবং অ্যালায়েন্সের (বর্তমানে নিরবচ্ছিন্নভাবে পরিচালিত) মতো আন্তর্জাতিক উদ্যোগের মাধ্যমে কারখানাগুলোর কাঠামোগত নিরাপত্তা ও অগ্নি-সুরক্ষার ক্ষেত্রে অভূতপূর্ব উন্নতি হয়েছে। এই উদ্যোগগুলোর অধীনে ১,৬০০-এরও বেশি কারখানা পরিদর্শন করা হয়েছে এবং অধিকাংশ ত্রুটি দূর করা হয়েছে। তবে কর্মক্ষেত্রে শ্রমিকদের স্বাস্থ্য, সুরক্ষা এবং ট্রেড ইউনিয়ন করার অধিকার এখনো গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ। বর্তমানে পোশাকশিল্পে মাত্র ৫ শতাংশের কম কারখানায় সক্রিয় ট্রেড ইউনিয়ন রয়েছে, যা শ্রমিকদের সম্মিলিত দর কষাকষির ক্ষমতাকে দুর্বল করে দেয়। এ ছাড়া কারখানার পরিবেশগত টেকসইতা নিশ্চিত করার দিকে মনোযোগ বাড়লেও, কর্মক্ষেত্রে হয়রানি ও অতিরিক্ত কাজের চাপ নিয়ে প্রায়ই অভিযোগ ওঠে। আন্তর্জাতিক বাজারে ক্রয়াদেশ ও দর কষাকষির চাপ এ অস্থিরতাকে আরও বাড়িয়েছে। বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্দার কারণে, প্রধান আমদানিকারক দেশগুলোতে (যেমন : ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র) পোশাকের চাহিদা হ্রাস পেয়েছে। বায়াররা এখন পোশাকের দাম কমাতে তীব্র চাপ দিচ্ছে। ফলে অনেক ছোট কারখানা কম লাভে বা লোকসানে কাজ করতে বাধ্য হচ্ছে। বাংলাদেশ থেকে পোশাক আমদানির ক্ষেত্রে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে মূল্যহ্রাসের প্রবণতা দেখা গেছে, যেখানে প্রতিযোগিতামূলক বাজার ধরে রাখতে নির্মাতারা মার্জিন কমাতে বাধ্য হচ্ছেন।
বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংকটের কারণে, কারখানাগুলোতে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে জ¦ালানি তেলের মূল্য সমন্বয় এবং গ্যাসের দাম বৃদ্ধির ফলে, পোশাক তৈরির সামগ্রিক ব্যয় বৃদ্ধি পেয়েছে। উৎপাদন ব্যয়ের বৃদ্ধি (বিশেষত মজুরি ও ইউটিলিটি খরচ) এবং আন্তর্জাতিক বাজারে পোশাকের কম দাম এই দুইয়ের মধ্যে সমন্বয় করতে না পেরে অনেক ছোট এবং মাঝারি আকারের কারখানা তাদের কার্যক্রম বন্ধ করতে বাধ্য হচ্ছে। পোশাকশিল্পের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ হলো শ্রমিকদের দক্ষতা ঘাটতি এবং প্রযুক্তির অভাব। আন্তর্জাতিক বাজারে দ্রুত ডিজাইন পরিবর্তন ও উচ্চমানের পোশাকের চাহিদা বাড়ছে। কিন্তু অনেক কারখানা এখনো পুরনো প্রযুক্তির ওপর নির্ভর করছে। ভ্যালু-অ্যাডেড পোশাক বা উচ্চমূল্যের পণ্য তৈরির জন্য যে ধরনের দক্ষ জনবল ও আধুনিক প্রযুক্তি প্রয়োজন, তার অভাব রয়েছে। যে কারণে বাংলাদেশ এখনো মূলত বেসিক বা তুলনামূলক কম দামের পোশাক (যেমন- টি-শার্ট) রপ্তানির ওপর বেশি নির্ভরশীল। ভবিষ্যৎ টেকসইতার জন্য ‘গ্রিন ফ্যাক্টরি’ বা পরিবেশবান্ধব কারখানার সংখ্যা বৃদ্ধি অত্যন্ত ইতিবাচক দিক। বর্তমানে ইউএস গ্রিন বিল্ডিং কাউন্সিল থেকে লিড সার্টিফিকেট পাওয়া পরিবেশবান্ধব পোশাক কারখানার সংখ্যা প্রায় ২০০টিরও বেশি, যা বিশ্বে সর্বোচ্চ। এ অর্জন বৈশ্বিক কমপ্লায়েন্স নিশ্চিত করতে সাহায্য করলেও, এটি শুধু বড় কারখানাগুলোর সক্ষমতাকে প্রতিফলিত করে, বেশিরভাগ ছোট কারখানা এখনো পিছিয়ে রয়েছে। সরকারের নীতি সহায়তা এবং প্রণোদনা এই খাতের জন্য অত্যন্ত জরুরি। ডলার সংকট মোকাবিলায় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কঠোর মুদ্রানীতি এবং উচ্চ সুদের হার অনেক কারখানার জন্য ঋণ গ্রহণ ও পরিচালন ব্যয়কে কঠিন করে তুলেছে। রপ্তানি ধরে রাখতে, সরকারের পক্ষ থেকে রপ্তানি প্রণোদনা এবং ঋণ সুবিধা সহজতর করার দাবি জানাচ্ছে শিল্প মালিকরা। শুধু অর্থনৈতিক দিক নয়, নারীর ক্ষমতায়নের ক্ষেত্রে পোশাকশিল্পের ভূমিকা অনস্বীকার্য। এই শিল্পের মোট শ্রমিকের প্রায় ৬০ শতাংশ নারী, যারা প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে এসে শহরে কর্মসংস্থান খুঁজে পেয়েছেন। কারখানার এ অস্থিরতা এবং বন্ধ হয়ে যাওয়ার ঘটনাগুলো নারীর কর্মসংস্থান ও অর্থনৈতিক স্বাধীনতার ওপর সরাসরি আঘাত হানছে, যা সামগ্রিকভাবে নারী উন্নয়নের গতিকে শ্লথ করে দিতে পারে। পোশাকশিল্পের প্রধান কাঁচামাল, বিশেষ করে তুলা এবং ফেব্রিক্সের জন্য বাংলাদেশকে এখনো আমদানির ওপর নির্ভর করতে হয়। এই কাঁচামাল আমদানির জন্য প্রয়োজনীয় ডলারের জোগান দিতে গিয়ে অনেক কারখানা সমস্যায় পড়ছে। এই খাতের ব্যাকওয়ার্ড লিংকেজ শক্তিশালী হলেও, ৪৫ শতাংশেরও বেশি কাঁচামাল আমদানি করতে হয়। বৈশি^ক বাজারে তুলার দামের অস্থিরতা এবং দেশীয় ব্যাংকিং খাতে ডলারের তারল্য সংকট উভয়ই উৎপাদন খরচকে আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে। মজুরি ও কর্মপরিবেশের পাশাপাশি শ্রমিকদের সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর অভাবও এ অস্থিরতার অন্যতম কারণ। অধিকাংশ পোশাক শ্রমিকের জন্য কার্যকর স্বাস্থ্য বীমা বা প্রভিডেন্ট ফান্ড নেই। আইএলও এবং আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলো বহু বছর ধরে এই খাতে সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী প্রতিষ্ঠার ওপর জোর দিলেও, এর বাস্তবায়ন এখনো ধীরগতিতে চলছে। চাকরি হারানোর পর বেকার শ্রমিকদের আর্থিক সুরক্ষা দেওয়ার কোনো সুনির্দিষ্ট সরকারি ব্যবস্থা না থাকায়, তাদের জীবনধারণ কঠিন হয়ে পড়ে।
পোশাকশিল্প এখন চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে আছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, স্বয়ংক্রিয়তা এবং রোবোটিক্সের ব্যবহার উৎপাদনশীলতা বাড়াতে সাহায্য করবে ঠিকই, কিন্তু এর ফলে কম দক্ষতাসম্পন্ন শ্রমিকদের, বিশেষ করে নারীদের, চাকরি হারানোর ঝুঁকি সৃষ্টি হচ্ছে। শিল্প মালিকদের প্রযুক্তিগত পরিবর্তনের সুবিধা নিতে হবে, কিন্তু শ্রমিকদের নতুন প্রযুক্তির জন্য প্রশিক্ষণ দেওয়া এবং তাদের কর্মসংস্থান নিশ্চিত করার জন্য সুস্পষ্ট কর্মপরিকল্পনা তৈরি করা অপরিহার্য। ক্রেতারা প্রায়ই দ্রুত ডেলিভারি এবং সর্বনিম্ন দামের জন্য চাপ দেন, যা কারখানার মালিকদের কমপ্লায়েন্স বজায় রাখতে এবং শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি দিতে বাধা সৃষ্টি করে। এই খাতকে দীর্ঘমেয়াদে স্থিতিশীল করতে হলে শুধু তুলানির্ভর পোশাকের পরিবর্তে নন-কটন (যেমন সিনথেটিক ও কৃত্রিম ফাইবার) পোশাক উৎপাদনে মনোযোগ দিতে হবে। বর্তমানে বাংলাদেশের রপ্তানির ৭৪ শতাংশেরও বেশি কটনভিত্তিক। বিশ্ববাজারের চাহিদা অনুযায়ী, কৃত্রিম ফাইবারভিত্তিক পোশাকের উৎপাদন বাড়িয়ে পণ্যের বৈচিত্র্য আনতে পারলে, প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা বাড়বে এবং রপ্তানি বাজার আরও সুরক্ষিত হবে। মজুরি ও পরিবেশসংক্রান্ত আইন থাকা সত্ত্বেও শ্রম পরিদর্শকের সংখ্যা অপর্যাপ্ত হওয়ায় এবং পরিদর্শন কার্যক্রমে দুর্বলতার কারণে আইন ও বিধিগুলোর যথাযথ প্রয়োগ নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়ে। শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের অধীনে থাকা শ্রম পরিদপ্তরের পরিদর্শকের সংখ্যা (মোট কারখানার তুলনায়) খুবই কম, ফলে ঘন ঘন পরিদর্শন এবং নিয়ম লঙ্ঘনের জন্য কঠোর শাস্তি দেওয়া সম্ভব হয় না। এই দুর্বলতা মালিকদের মধ্যে আইনের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ কমায় এবং শ্রমিকদের নিরাপত্তা ঝুঁকি ও ন্যায্য পাওনা থেকে বঞ্চিত হওয়ার সুযোগ তৈরি করে। অর্থনৈতিক সংকটের পাশাপাশি অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক অস্থিরতা, পোশাক শিল্পের স্থিতিশীলতার ওপর সরাসরি নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। বিভিন্ন সময়ে ধর্মঘট, অবরোধ বা রাজনৈতিক সংঘাতের কারণে পণ্য পরিবহন বাধাগ্রস্ত হয়, সময়মতো পণ্য রপ্তানি সম্ভব হয় না এবং ক্রেতার কাছে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণœ হয়। এই অনিশ্চয়তা অনেক ক্রেতাকে অন্য প্রতিযোগী দেশ, যেমন ভিয়েতনাম বা কম্বোডিয়ার দিকে ঝুঁকতে উৎসাহিত করে, যার ফলে দীর্ঘমেয়াদি ক্রয়াদেশ হারানোর ঝুঁকি সৃষ্টি হয়। পোশাকশিল্পের পণ্য দ্রুত বিশ্ববাজারে পৌঁছানোর জন্য উন্নত সড়ক ও রেল যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং চট্টগ্রাম বন্দরের দক্ষতা অপরিহার্য। যদিও অবকাঠামো উন্নয়নে সাম্প্রতিককালে কিছু অগ্রগতি হয়েছে, তবুও ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে যানজট এবং বন্দরে কনটেইনার জট এখনো বড় চ্যালেঞ্জ। এই দক্ষতা ঘাটতির কারণে লিড-টাইম বা পণ্য প্রস্তুতির সময় বেড়ে যায়, যা আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের কাছে বাংলাদেশের প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতাকে কমিয়ে দেয়।
পোশাকশিল্পের সামনে আরেকটি উদীয়মান চ্যালেঞ্জ হলো, জলবায়ু পরিবর্তন এবং পরিবেশগত কমপ্লায়েন্সের ক্রমবর্ধমান চাপ। আন্তর্জাতিক বায়াররা এখন শুধু সামাজিক কমপ্লায়েন্স নয়, বরং জল ব্যবহারের দক্ষতা, রাসায়নিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং কার্বন ফুটপ্রিন্ট হ্রাসের মতো কঠোর পরিবেশগত মানদণ্ড পূরণের ওপর জোর দিচ্ছে। যেহেতু বাংলাদেশের অধিকাংশ কারখানা ভূগর্ভস্থ পানির ওপর নির্ভরশীল এবং নদীগুলোতে দূষণ একটি গুরুতর সমস্যা, তাই আন্তর্জাতিক বাজারে টিকে থাকতে হলে জিরো ডিসচার্জ নীতি অনুসরণ করে পরিবেশবান্ধব উৎপাদন প্রক্রিয়া নিশ্চিত করতে হবে। কিন্তু এটি দীর্ঘমেয়াদি এবং ব্যয়বহুল। পোশাকশিল্পে অস্থিরতা একটি বহুমাত্রিক সংকট যেখানে মজুরি, কমপ্লায়েন্স, বৈশ্বিক অর্থনীতি ও অভ্যন্তরীণ নীতির জটিলতা জড়িয়ে আছে। ২০২৬ সালে এলডিসি থেকে উত্তরণের পর, এই চ্যালেঞ্জগুলো আরও তীব্র হতে পারে। কারণ বাংলাদেশ তখন অনেক শুল্ক সুবিধা হারাবে। তাই, স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে সরকার, মালিক ও শ্রমিক সংগঠন এই তিন পক্ষের সমন্বিত এবং টেকসই উদ্যোগ গ্রহণ করা অপরিহার্য। এই অস্থিরতা থেকে মুক্তি পেতে হলে শ্রমিকদের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে বাস্তবসম্মত মজুরি কাঠামো নির্ধারণ, কারখানায় সুশাসন নিশ্চিতকরণ এবং টেকসই প্রযুক্তিতে বিনিয়োগে কোনো বিকল্প নেই। বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ভবিষ্যৎ, বহুলাংশে এই শিল্পের স্থিতিশীলতার ওপর নির্ভরশীল।
লেখক: সিইও, ইটিসি ইভেন্টস লিমিটেড