পশুখাদ্য কারখানা বন্ধে বিপাকে খামারিরা

আপডেট : ০৭ নভেম্বর ২০২৫, ০৬:৪৪ এএম

সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ায় লাহিড়ী মোহনপুরে মিল্ক ভিটার নিজস্ব পশুখাদ্য কারখানা গত একবছর ধরে পুরোপুরি বন্ধ। প্রায় ২০ কোটি টাকা ব্যয়ে ২০১৪ সালে চালু হওয়া এ কারখানাটি বৃহত্তর পাবনা অঞ্চলের শত শত সমবায়ী খামারির জন্য ছিল আশীর্বাদ। কিন্তু এখন কোটি কোটি টাকার যন্ত্রপাতি মরচে ধরছে, রাত নামলেই কারখানা প্রাঙ্গণে ভুতুড়ে নীরবতা। 

কারখানার বর্তমান ব্যবস্থাপক ডা. মো. বাবুল আক্তার জানান, ২০১৪ সালে চালুর পর থেকে এখানে উৎপাদিত দানাদার ফিড ‘নো লস নো প্রফিট’ ভিত্তিতে মিল্ক ভিটাভুক্ত খামারিদের মাঝে সরবরাহ করা হতো। ভুট্টা, গমের ভুসি, ডি-অয়েল রাইস ব্রান, তিলের খৈল, চিটাগুড়সহ উন্নত উপকরণ দিয়ে তৈরি এ ফিডের কেজি ছিল মাত্র ৪২ টাকা। দুধের বিল থেকে সমন্বয় করায় খামারিদের নগদ টাকার চিন্তা করতে হতো না। ফলে গাভির দুধ বাড়ত, রোগ কমত, বকনা গরু সময়মতো হিটে আসত, গর্ভপাত বন্ধ হতো। কিন্তু ২০২৪ সালের ডিসেম্বর থেকে কারখানা পুরোপুরি বন্ধ। গত চার বছর ধরেই উৎপাদন কমিয়ে দেওয়া হয়েছিল। ফলে খামারিরা বাধ্য হয়ে বাইরের বাজার থেকে ভেজাল মিশ্রিত ফিড কিনছেন। ফলাফল ভয়াবহ গাভির গর্ভপাত, হিটে না আসা, দুধ উৎপাদন কমে যাওয়া, বাছুরের মৃত্যু।  খামারিরা সরাসরি অভিযোগ করছেন মিল্ক ভিটার সাবেক চেয়ারম্যান শেখ নাদির হোসেন লিপুর বিরুদ্ধে।

তারা জানান, শেখ নাদির হোসেন লিপু গোপালগঞ্জে একই ধরনের পশুখাদ্য কারখানা স্থাপন করেন। সেখানকার ফিড মিল্ক ভিটাভুক্ত খামারিদের মাঝে বিক্রি করতে মিল্ক ভিটার ডাক্তার ও কর্মকর্তাদের ব্যবহার করতেন। মোহনপুরের উৎকৃষ্ট ফিড কিনতে খামারিদের নিরুৎসাহিত করা হতো, বরং লিপুর কারখানার ফিড কিনতে বাধ্য করা হতো। ফলে মোহনপুর কারখানার উৎপাদন কমিয়ে দেওয়া হয়, পরে পুরোপুরি বন্ধ। 

উল্লাপাড়ার কয়রা ইউনিয়নের খামারপাড়ার মোহাম্মদ আলী বলেন, ‘মোহনপুর ফিড খাওয়ালে আমার গাভিগুলো যেখানে ১৮-২০ লিটার দুধ দিত, এখন ভেজাল ফিডে ১০-১২ লিটারে নেমেছে। গত তিন মাসে দুটি গাভির গর্ভপাত হয়েছে।’ 

শাহজাদপুরের পোতাজিয়া দুগ্ধ সমিতির পরিচালক লিটন প্রামাণিক জানান, ‘আগে দুধের বিল থেকে ফিডের টাকা কেটে নিত। এখন বাইরের ফিড কিনতে গিয়ে নগদ টাকা দিতে হচ্ছে, দামও বেশি। লাভ কমে গেছে, অনেকে খামার বন্ধ করার চিন্তা করছেন।’ 

বাঘাবাড়ি মিল্ক ভিটার সমিতি বিভাগের ডিজিএম অমিয় কুমার মণ্ডল বলেন, ‘এ কারখানা খামারিদের জন্য চলমান ছিল। বন্ধ হওয়ায় ভেজাল ফিডের কারণে গাভির স্বাস্থ্য নষ্ট হচ্ছে। দুধ উৎপাদন কমছে, খামারিরা বিপাকে।’ 

মিল্ক ভিটার সাবেক চেয়ারম্যান মো. হাসিব খান তারুণ্য বলেন, ‘আমি চেয়ারম্যান থাকাকালে ২০১২ সালে অনুদানের টাকায় কারখানা স্থাপন শুরু করি। ব্যবস্থাপনার ত্রুটি ও জটিলতায় বন্ধ হয়ে গেছে। দুগ্ধ খামার টিকিয়ে রাখতে এটি অবিলম্বে চালু করা দরকার।’ 

খামারিদের একটাই দাবিমোহনপুরের বন্ধ কারখানা পুনরায় চালু করতে হবে। নইলে ভেজাল ফিডের কবলে পড়ে বৃহত্তর পাবনার দুগ্ধ খামার শিল্প ধ্বংস হয়ে যাবে। 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত