চট্টগ্রাম-৮ আসনে বিএনপির মনোনয়নপ্রাপ্ত সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী এরশাদ উল্লাহ’র গণসংযোগে গুলি করে ‘সন্ত্রাসী’ সরোয়ার হোসেন ওরফে বাবলাকে হত্যার ঘটনায় মামলা হয়েছে। বিদেশে পলাতক শীর্ষ ‘সন্ত্রাসী’ সাজ্জাদ আলীসহ সাতজনের নামোল্লেখ করে ২২ জনকে আসামি করে গতকাল বৃহস্পতিবার মামলাটি দায়ের হয় নগরের বায়েজিদ বোস্তামি থানায়। নিহত বাবলার বাবা আবদুল কাদের বাদী হয়ে এই মামলা দায়ের করেন।
এদিকে হত্যাকাণ্ডে ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব-৭। শুক্রবার (৭ নভেম্বর) বেলা সাড়ে তিনটার দিকে র্যাব-৭ কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য জানিয়েছেন র্যাব-৭-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল হাফিজুর রহমান।
সরোয়ার বাবলা হত্যায় গ্রেপ্তার দুজন হলেন হেলাল হোসেন ওরফে মাছ হেলাল ও আলা উদ্দিন। গ্রেপ্তার দুজনই মামলার এজাহারভুক্ত আসামি। গত বৃহস্পতিবার রাতে নগরের বায়েজিদ থানারধীন হাজিরপুল এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে র্যাব-৭-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল হাফিজুর রহমান বলেন, সরোয়ার হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দুজন প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা অস্বীকার করলেও সন্ত্রাসী সাজ্জাদ আলীসহ মামলার অন্য আসামিদের সঙ্গে চলাফেরা রয়েছে বলে তারা র্যাবের জিজ্ঞসাবাদ স্বীকার করেছেন। আদালতের মাধ্যমে রিমান্ডে এনে তাদের ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। এরপর বোঝা যাবে বাবলা হত্যার আসল রহস্য।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বায়েজিদ এসআই নুর ইসলাম। মামলার এজাহারে যাদের নামোল্লেখ করা আসামিদের মধ্যে সাজ্জাদ আলী ছাড়াও রয়েছেন রাউজানের শীর্ষ সন্ত্রাসী মোহাম্মদ রায়হান, বোরহান উদ্দিন, নেজাম উদ্দিন, আলাউদ্দিন, মোবারক হোসেন ওরফে ইমন ও হেলাল ওরফে মাছ হেলাল। তাদের প্রত্যেকের বিরুদ্ধে সর্বনিম্ন চার থকে ১৪টি মামলা রয়েছে।
মামলার এজাহারে বলা, বিদেশে পলাতক সাজ্জাদ আলী দীর্ঘদিন ধরে সরোয়ার হোসেন বাবলাকে হত্যার হুমকি দিয়ে আসছেন। সর্বশেষ গত রবিবার সরোয়ারকে মেরে ফেলার হুমকি দিয়ে বলেন, ‘সময় শেষ, যা খাওয়ার খেয়ে নে’।
গত বুধবার সন্ধ্যায় বিএনপি নেতা এরশাদ উল্লাহর গণসংযোগে অংশ নেন সরোয়ার। এ সময় পেছন থেকে ঘাড়ে পিস্তল ঠেকিয়ে সরোয়ারকে গুলি করে হত্যা করা হয়। সাজ্জাদের নির্দেশে তার অনুসারীরা পরিকল্পিতভাবে এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছেন বলে অভিযোগ আনা হয়েছে।
জানা গেছে, গত বুধবার সন্ধ্যায় নগরের চালিতাতলী এলাকায় বিএনপির মনোনীত প্রার্থী এরশাদ উল্লাহ গণসংযোগে সরোয়ার ছাড়াও চারজন গুলিবিদ্ধ হন। এর মধ্যে এরশাদ উল্লাহও রয়েছেন।
