নরসিংদীতে মাইকে ঘোষণা দিয়ে দুপক্ষের ‘টেঁটাযুদ্ধ’, আহত ১৫

আপডেট : ০৯ নভেম্বর ২০২৫, ১২:১৪ এএম

নরসিংদীতে খেয়া পারাপারে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করার জেরে ফের বিবদমান দুপক্ষের সংঘর্ষে টেঁটাবিদ্ধসহ ১৫ জন আহত হয়েছেন। গতকাল শনিবার সকালে সদর উপজেলার মাধবদী থানার চরাঞ্চল চরদীঘলদী ইউনিয়নের জিতরামপুরে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সকালে মাইকে ঘোষণার পর দুই দফায় এ সংঘর্ষ হয়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

এর আগে গত ৩ ও ৪ নভেম্বর দুপক্ষের ২ দফা সংঘর্ষের পর থেকে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন ছিল বলে জানান মাধবদী থানার ওসি মো. নজরুল ইসলাম। শনিবার ভোরে পুলিশ না থাকার ফাঁকে দুপক্ষের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দিলে পুলিশ পৌঁছার পর পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে বলে জানান ওসি।

আহতদের মধ্যে কয়েকজনের পরিচয় পাওয়া গেছে। তারা হলেন জিতরামপুর গ্রামের দুলাল রুবেল মিয়া, খায়রুল, খালেক মিয়া, জাকির (৩০) ও জাকির (৪৮)। এদের মধ্যে খায়রুলকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। বাকিদের প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে বাড়িতে পাঠানো হয়েছে।

পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, চরদীঘলদী ইউনিয়নের জিতরামপুরে খেয়াঘাটে ভাড়ার অতিরিক্ত টাকা আদায় ও আধিপত্য বিস্তার নিয়ে স্থানীয় শহিদ মিয়া মেম্বার ও চাঁন মিয়া পক্ষের মধ্যে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত সোম ও মঙ্গলবার দুপক্ষের সংঘর্ষে আটজন আহত হওয়ার পর এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করা হয়।

গতকাল সকালে পুলিশ না থাকার সুযোগে জিতরামপুরে উত্তর পাড়া মাদ্রাসার মাইকে ঘোষণা দিয়ে ফের টেঁটা ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়ায় দুপক্ষ। এতে টেঁটাবিদ্ধসহ উভয় পক্ষের ১৫ জন আহত হন। এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, আহতরা গ্রেপ্তার এড়াতে বিভিন্ন হাসপাতালে গোপনে চিকিৎসা নিচ্ছেন।

আহত খালেকের নাতি শাহের আলী বলেন, ‘ভোরে শহিদ মেম্বারের লোকজন মাইকে ঘোষণা দিয়ে আমাদের ওপর হামলা চালায়। এ সময় তাদের টেঁটার আঘাতে আমার দাদাসহ অনেকে আহত হয়েছেন। কয়েকটি বাড়িতে হামলা চালিয়ে তারা ভাঙচুর করেছে। আহতদের বেশিরভাগই গ্রাম্য ডাক্তারের চিকিৎসা নিয়েছেন। বর্তমানে পুলিশ থাকায় এলাকার পরিবেশ শান্ত রয়েছে।’

এ ব্যাপারে শহিদ মিয়া মেম্বার ও চাঁন মিয়ার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করে তাদের মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া গেছে।

মাধবদী থানার ওসি মো. নজরুল ইসলাম জানান, ভোরে শহিদ মেম্বারের লোকজন চাঁন মিয়ার লোকদের ওপর হামলা করলে সংঘর্ষ  বেধে যায়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। আমরা তিনজন আহত হওয়ার খবর পেয়েছি। বর্তমানে এলাকার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। অপরাধীদের গ্রেপ্তারে দ্রুত অভিযান পরিচালনা করা হবে। তবে মাইকে ঘোষণা দিয়ে সংঘর্ষের ব্যাপারে তিনি অবগত নন বলে জানান।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত