মূত্রের ওপর কর

আপডেট : ১০ নভেম্বর ২০২৫, ১২:৪৪ এএম

জানা যাচ্ছে প্রাচীন রোমানরা মনুষ্যমূত্রকে ব্যবহার করত দাঁতের মাজন হিসেবে। আবার লন্ড্রি অর্থাৎ কাপড় ধোয়ার কাজেও ব্যবহার করা হতো একে। এমনকি রোমান সম্রাট প্রস্রাবের ওপরও কর বসিয়েছিলেন! রোমান আয়ুর্বেদীদের ধারণা ছিল, দাঁত ঝকঝকে ও মজবুত করতে কাজ করে মূত্র। সে কারণে তারা মূত্রকে মাউথওয়াশ ও টুথপেস্ট হিসেবে ব্যবহার করত। গবেষণা করে বের করেছিলেন, সবচেয়ে দামি মূত্র পর্তুগিজদের। এতে নাকি দাঁত পরিষ্কারের কাজ হতো সবচেয়ে ভালো। ফলে সে মূত্রের চাহিদা ও মূল্য ছিল বেশি। রোমানরা তাদের গবেষণায় দেখেছে, মনুষ্যমূত্রের সংস্পর্শে এলে পোশাক পরিষ্কার হয়, ঝকঝকে হয়। ফলে সে যুগে ডিটারজেন্টের জায়গা দখল করে নিয়েছিল এ পদার্থ। বৈজ্ঞানিক সূত্র হিসেবেও তারা ভুল ছিল না। কারণ, প্রস্রাবে থাকে অ্যামোনিয়া। যা আজকের দিনের বেশির ভাগ ক্লিনারে ব্যবহার করা হয়। চাহিদা বেড়ে যাওয়ায়, সীমিত নগরবাসীর বাসস্থান রোমান রাজ্যে, বাধ্য হয়ে জনসাধারণের মূত্র সংগ্রহে নেমে পড়তে হয়েছিল এসব পেশার সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের। পরিকল্পনা মাফিক, নগরের প্রধান সড়কগুলোর পাশে কিছু দূর পর পর মূত্রত্যাগের বিশেষ ব্যবস্থা রাখা হতো। নিয়ম করে সেখানেই মূত্রত্যাগ করত নগরবাসী। সেই মূত্রই পরে কাজে লাগানো হতো, জামাকাপড় কাচা ও দাঁত মাজার কাজে। সংগ্রহের পর প্রথমে সেই মূত্র থিতানোর সময় দেওয়া হতো। তারপর তা ব্যবহার করা হতো। বিষয়টি নজরে পড়ে, তৎকালীন রোমান সম্রাটের। আয়ের উৎস খুঁজে বেড়ানো সম্রাটের কাছে, সংবাদটি ছিল বেশ গুরুত্বপূর্ণ। রোমান আমজনতা প্রচুর পরিমাণ মূত্র ব্যবহার করছে জানতে পেরে, তৎকালীন রোমান সম্রাট ভেসপাসিয়ান (খ্রিস্টপূর্ব ৬৯-৭৯) তখন, মূত্রের ওপর চড়া কর বসিয়ে দেন। 

 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত