জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও সাবেক ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারি জেনারেল এটিএম আজহারুল ইসলাম বলেছেন, জুলাই সনদের আইনি বাস্তবায়ন ছাড়া জাতীয় নির্বাচন করা হলে তা জুলাই আন্দোলনের শহীদ ও যোদ্ধাদের সঙ্গে প্রতারণার শামিল হবে। ফ্যাসিবাদী কাঠামো বহাল রেখে যেনতেন নির্বাচন দেশের সমস্যার সমাধান নয় বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
গতকাল বুধবার বিকেলে ফেনীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে জেলা জামায়াত আয়োজিত পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। জেলা আমির মুফতি আবদুল হান্নানের সভাপতিত্বে ও জেলা সেক্রেটারি মাওলানা আবদুর রহিমের সঞ্চালনায় সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন কেন্দ্রীয় মজলিশে শূরা সদস্য ও কুমিল্লা অঞ্চল টিম সদস্য অধ্যাপক লিয়াকত আলী ভূঁইয়া (ফেনী-২ আসনের জামায়াত প্রার্থী), ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের সহকারী সেক্রেটারি ডা. ফখরুদ্দিন মানিক (ফেনী-৩ আসনের জামায়াত প্রার্থী), ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সহকারী সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট এ এস এম কামাল উদ্দিন।
এটিএম আজহারুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা সরকারকে বলছি, এই মাসের মধ্যেই গণভোট দিন। গণভোট নিয়ে টালবাহানা করবেন না। যারা জামায়াতের শীর্ষ নেতাদের জুডিশিয়াল হত্যাকাণ্ডের মাধ্যমে শেষ করে দিতে চেয়েছিল, তারা ভেবেছিল জামায়াত নিশ্চিহ্ন হয়ে যাবে। কিন্তু জামায়াত আছে, জামায়াত থাকবে। বরং আগের চেয়ে হাজার গুণ বেশি জনপ্রিয় হয়েছে। যারা জামায়াতকে নিষিদ্ধ করে, নেতাদের হত্যা করে, লাখ লাখ নেতাকর্মীকে কারাগারে আবদ্ধ রেখে ধ্বংস করতে চেয়েছিল, তারা আজ কোথায়? তারা জানে না, জুলুম-নির্যাতন দিয়ে কোনো আদর্শকে শেষ করা যায় না।’
এটিএম আজহার বলেন, ‘সব রাজনৈতিক দলের সম্মতিতে স্বাক্ষরিত জুলাই সনদ দেশের ইতিহাসে যুগান্তকারী ঘটনা। এটি আইনে পরিণত হলে জনগণ তাদের গণতান্ত্রিক ও ভোটের অধিকার ফিরে পাবে। দিনের ভোট রাতে হবে না, ব্যালট ছিনতাইয়ের সুযোগ থাকবে না। তাই জুলাই সনদকে আইনে রূপান্তর করতে হবে এবং এর সফল বাস্তবায়নের জন্য জনগণের ম্যান্ডেট নিতে হবে।’
তিনি বলেন, ‘আগামীতে জনগণ যদি রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব জামায়াতে ইসলামীকে দেয়, তবে শোষণহীন, বৈষম্যহীন একটি মানবিক বাংলাদেশ গড়ে তুলতে আমরা সর্বোচ্চ ভূমিকা রাখব।’
